|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৪ এপ্রিল ২০২৫ ১১:১১ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৪ ০১:৫৫ অপরাহ্ণ

দুর্গাপূজা আর ইলিশ: এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের খোঁজে


দুর্গাপূজা আর ইলিশ: এক অবিচ্ছেদ্য সম্পর্কের খোঁজে


ঢাকা প্রেস নিউজ

 

দুর্গাপূজা বাঙালির অন্যতম বড় উৎসব। এই উৎসবের সাথে ইলিশ মাছ এর এক অদ্ভুত সম্পর্ক গড়ে উঠেছে। কিন্তু এই সম্পর্কটা আসলে কতটা পুরানো? ধর্মীয়ভাবে এর কোনো ভিত্তি আছে কি? আসুন জেনে নিই।

 

ইলিশ মাছ বাঙালির খাবারের তালিকায় সবচেয়ে উপরের দিকে। আয়ুর্বেদ শাস্ত্রেও ইলিশের পুষ্টিগুণের কথা বলা হয়েছে। বাঙালির প্রাচীন সাহিত্যেও ইলিশের উল্লেখ পাওয়া যায়। তাই ইলিশের প্রতি বাঙালির আকর্ষণ কোনো নতুন ঘটনা নয়।

 

দুর্গাপূজার সাথে ইলিশের সম্পর্কটা ততটা পুরানো নয়। পুরাণ গবেষকরা বলেন, দুর্গাপূজার ধর্মীয় আচারে ইলিশের কোনো উল্লেখ নেই। এই সম্পর্কটা মূলত একটি লোকসংস্কৃতি, যা সময়ের সাথে সাথে গড়ে উঠেছে।
 

১৮ শতকের দ্বিতীয়ার্ধে কলকাতায় যখন রাজা নবকৃষ্ণ দেব দুর্গাপূজা শুরু করেন, তখন থেকেই দুর্গাপূজায় ইলিশকে একটি বিশেষ খাবার হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। ধীরে ধীরে এই প্রথা বাংলার বিভিন্ন অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়ে।

 

দুর্গাপূজার সময় পদ্মার ইলিশের চাহিদা বেড়ে যায়। কিন্তু সব ইলিশ কি সমান? ইলিশ গবেষকরা বলেন, পদ্মার ইলিশ আর গঙ্গার ইলিশের মধ্যে স্বাদের কিছুটা পার্থক্য আছে। কিন্তু কোনটি ভালো, তা নিয়ে বহু বছর ধরে তর্ক চলে আসছে।

 

বাঙালির মধ্যে ইলিশ খাওয়ার একটি নির্দিষ্ট সময়কাল রয়েছে। সাধারণত বর্ষাকালে ইলিশের স্বাদ সবচেয়ে ভালো হয়। তাই অনেকেই দুর্গাপূজার আগে থেকেই ইলিশ খাওয়া শুরু করে দেন। আবার অনেকে লক্ষ্মীপূজার পর ইলিশ খাওয়া বন্ধ করে দেন।

 

দুর্গাপূজা এবং ইলিশের সম্পর্কটি একটি লোকসংস্কৃতির ফসল। ধর্মীয় কোনো নির্দেশনা এই সম্পর্কের পেছনে নেই। তবুও বাঙালির কাছে এই দুটি শব্দ এতটাই জড়িয়ে গেছে যে একে অন্য ছাড়া ভাবাই যায় না।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৫