মালয়েশিয়া থেকে মিয়ানমারে ফিরলেন দেড় হাজার অভিবাসী
এএফপি
মালয়েশিয়া থেকে প্রায় দেড় হাজার অভিবাসীকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো হয়েছে। রোববার তিনটি জাহাজে করে তারা মিয়ানমারের থানলিন নৌ ঘাঁটিতে পৌঁছান। এটি দুই দেশের মধ্যে চলমান প্রত্যাবাসন কর্মসূচির প্রথম ধাপ বলে জানা গেছে।
মিয়ানমার সরকারের তথ্য অনুযায়ী, ১ হাজার ৪৭৬ জন অভিবাসীকে নিয়ে জাহাজগুলো গত মঙ্গলবার মালয়েশিয়া থেকে রওনা দেয়। থানলিনে পৌঁছানোর পর তাদের বাসে করে একটি বৌদ্ধ বিহারের হলে নেওয়া হয়। সেখানে ইমিগ্রেশন ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা হয়।
ফেরত আসা অভিবাসীদের একজন ৫৩ বছর বয়সী কিয়াও সোয়ার থেইন। মালয়েশিয়ার একটি কফি শপে কাজ করার সময় তিনি গ্রেপ্তার হন। তার দাবি, এক বছরের বেশি সময় কারাবন্দি ছিলেন এবং সেখানে স্ক্যাবিসে আক্রান্ত হন। দেশে ফিরলেও এখন তার ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে।
এদিকে স্বজনদের বাড়ি নিয়ে যেতে ভোর থেকেই থানলিন নৌ ঘাঁটির বাইরে কয়েক শ মানুষ অপেক্ষা করেন। তাদের হাতে স্বজনদের ছবি ও নাম লেখা প্ল্যাকার্ড দেখা যায়।
প্রত্যাবাসন নিয়ে উদ্বেগ
মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম জানিয়েছেন, মিয়ানমার ৫ হাজার অভিবাসীকে ফিরিয়ে নিতে সম্মত হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে প্রথম দফায় প্রায় দেড় হাজার জনকে ফেরত পাঠানো হয়েছে। ফেরত আসা ব্যক্তিদের মধ্যে অধিকাংশই পুরুষ। এছাড়া ৭৯ জন নারী ও ২৭ শিশু রয়েছে বলে মিয়ানমারের গণমাধ্যম জানিয়েছে।
তবে এই প্রত্যাবাসন নিয়ে মানবাধিকারকর্মীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। তাদের আশঙ্কা, মিয়ানমারে ফেরত যাওয়া ব্যক্তিদের নিরাপত্তার যথেষ্ট নিশ্চয়তা নেই।
বিশেষ করে দেশটিতে শরণার্থী ও রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে বিদ্বেষমূলক মনোভাব বাড়ার প্রেক্ষাপটে ফেরত পাঠানো ব্যক্তিদের মধ্যে রোহিঙ্গা থাকার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। মালয়েশিয়ায় অবস্থানরত মিয়ানমারের শরণার্থী ও আশ্রয়প্রার্থীদের বড় অংশই রোহিঙ্গা।
তবে রোববার থানলিনে পৌঁছানো ব্যক্তিদের মধ্যে কতজন রোহিঙ্গা রয়েছেন, সে বিষয়ে মিয়ানমার বা মালয়েশিয়া কোনো নির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ করেনি।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬