|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:২৫ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:৫৮ অপরাহ্ণ

আপত্তিকর ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল, নিরঞ্জন হত্যা: পিবিআই


আপত্তিকর ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইল, নিরঞ্জন হত্যা: পিবিআই


নিজস্ব প্রতিবেদক, ময়মনসিংহ:


 

ময়মনসিংহে অটোরিকশা মালিক ও স্বর্ণকার নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরকে (৫০) গোপনে ধারণ করা আপত্তিকর ভিডিও দেখিয়ে ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে হত্যা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই)। এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী ও ঘাতক হিসেবে শামীম মিয়া (৩৮) নামে এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
 

রোববার দুপুরে পিবিআই ময়মনসিংহ জেলা কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান।
 

পিবিআই জানায়, ময়মনসিংহের খাগডহর এলাকায় নিরঞ্জন চন্দ্র সূত্রধরের চারটি অটোরিকশা রয়েছে। শামীম মিয়া তার অটোরিকশার গ্যারেজে ম্যানেজার হিসেবে কাজ করতেন। কাজের সূত্রে দুজনের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। একপর্যায়ে নিরঞ্জন নিয়মিত শামীমের ভাড়া বাসায় যাতায়াত করতেন।
 

তদন্তসংশ্লিষ্টদের বরাত দিয়ে পিবিআই জানায়, একদিন শামীমের মা-বাবা বাসায় না থাকার সুযোগে তিনি এক নারীকে নিয়ে ঘরে অবস্থান করছিলেন। এ সময় নিরঞ্জন গোপনে ওই ঘটনার ভিডিও ধারণ করেন। পরে সেই ভিডিও দেখিয়ে শামীমের কাছে নিয়মিত টাকা দাবি করা হতো বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
 

পিবিআইয়ের তথ্যমতে, গত ২১ সেপ্টেম্বর বিকেলে শামীমের খাগডহরের ভাড়া বাসায় যান নিরঞ্জন। সেখানে টাকা দাবি করা নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে শামীম ঘরে থাকা মসলা বাটার ভারী শিল দিয়ে নিরঞ্জনের মাথায় আঘাত করেন। পরে বটি দিয়েও তাকে আঘাত করা হয়। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয় বলে জানিয়েছে পিবিআই।
 

হত্যার পর মরদেহ গুম করতে নিরঞ্জনের লাশ চটের বস্তায় মুড়িয়ে একটি ড্রামের মধ্যে রাখা হয়। পরদিন ২২ সেপ্টেম্বর রাত ৮টার দিকে ইজিবাইক ভাড়া করে ড্রামটি বেগুনবাড়ী স্লুইস গেট এলাকার একটি নির্জন খালে নিয়ে যান শামীম। সেখানে ড্রামটি পানিতে ফেলে দিয়ে তিনি চলে যান।
 

এর আগে ২৩ সেপ্টেম্বর সকালে বেগুনবাড়ী স্লুইসগেটের পানিতে ড্রামটি ভাসতে দেখে স্থানীয়রা পুলিশকে খবর দেন। পরে ড্রামের ভেতর থেকে বস্তাবন্দী এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। প্রথমে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।
 

পরে মরদেহের সঙ্গে থাকা প্যান্টের পকেট থেকে ময়মনসিংহ হিন্দু কো-অপারেটিভ ক্রেডিট ইউনিয়ন লিমিটেডের একটি টোকেন উদ্ধার করা হয়। ওই টোকেনের সূত্র ধরে মরদেহের পরিচয় শনাক্ত করা হয়। পরে নিহতের স্ত্রী সবিতা রানী ধর বাদী হয়ে কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন।
 

মামলার পর পিবিআই ছায়াতদন্ত শুরু করে। তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তদন্তের ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই গাজীপুরের গাছা থানার বোরবাজার এলাকা থেকে শামীমকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ভাড়া বাসা থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত মসলা বাটার শিল ও বটি উদ্ধার করা হয়।
 

পিবিআই ময়মনসিংহের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান জানান, গ্রেপ্তার শামীমকে আদালতে সোপর্দ করে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি নেওয়ার আইনি প্রক্রিয়া চলছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬