|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৯ জুলাই ২০২৬ ০৭:১০ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৯ জুলাই ২০২৬ ০৫:১৩ অপরাহ্ণ

ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের ৯ দফা দাবি, সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের আহ্বান


ইসির সঙ্গে বৈঠকে জামায়াতের ৯ দফা দাবি, সামসুল আলমের নিয়োগ বাতিলের আহ্বান


ঢাকা প্রেস প্রতিবেদন


 

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) সঙ্গে বৈঠকে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ বাতিলসহ ৯ দফা দাবি উত্থাপন করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। একই সঙ্গে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব পুনর্বিবেচনারও আহ্বান জানিয়েছে দলটি।
 

বুধবার রাজধানীতে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের নেতৃত্বাধীন কমিশনের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব তথ্য জানান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তার নেতৃত্বে দলের একটি প্রতিনিধিদল বৈঠকে অংশ নেয়।
 

বৈঠক শেষে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশনের সঙ্গে প্রধানত চারটি বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। এর মধ্যে অন্যতম ছিল ইসি সচিবালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে মো. সামসুল আলমের চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ। তার দাবি, সামসুল আলম অতীতে একটি রাজনৈতিক দলের নির্বাচনী আসন পুনর্নির্ধারণ কমিটির সদস্য ছিলেন। তাই রাজনৈতিকভাবে সংশ্লিষ্ট কোনো ব্যক্তিকে ইসির মতো সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানে নিয়োগ দেওয়া নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে প্রশ্নের জন্ম দেয়।
 

তিনি আরও বলেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে এ ধরনের নিয়োগ কমিশনের নিরপেক্ষতা নিয়ে জনমনে সন্দেহ সৃষ্টি করতে পারে। এ কারণে ওই নিয়োগ বাতিলের দাবি জানানো হয়েছে।
 

মিয়া গোলাম পরওয়ারের ভাষ্য অনুযায়ী, এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন জানিয়েছে, সামসুল আলমের রাজনৈতিক সম্পৃক্ততার বিষয়টি তাদের জানা ছিল না এবং সরকারই তাকে চুক্তিভিত্তিক নিয়োগ দিয়েছে। তবে জামায়াতের পক্ষ থেকে বলা হয়, এ ধরনের নিয়োগের বিষয়ে কমিশনের আপত্তি জানানো উচিত ছিল।
 

বৈঠকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনে এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার প্রস্তাব নিয়েও আপত্তি জানায় জামায়াত। দলটির দাবি, দীর্ঘদিন ধরেই শিক্ষকরা স্থানীয় সরকার নির্বাচনে অংশ নিয়ে আসছেন। জাতীয় নির্বাচনে তাদের প্রার্থী হওয়ার ক্ষেত্রে কোনো বিধিনিষেধ না থাকলেও স্থানীয় সরকার নির্বাচনে নিষেধাজ্ঞা আরোপ বৈষম্যমূলক এবং নাগরিক অধিকারের পরিপন্থী। এ বিষয়ে কমিশন বিষয়টি পুনর্বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছে বলে জানান মিয়া গোলাম পরওয়ার।
 

এ ছাড়া কার্যক্রম নিষিদ্ধ রাজনৈতিক দলের পদধারী নেতাদের স্থানীয় সরকার নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার অযোগ্য ঘোষণা এবং বর্তমানে বিভিন্ন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানে প্রশাসকের দায়িত্ব পালনকারী রাজনৈতিক ব্যক্তিদেরও নির্বাচনে অংশগ্রহণে অযোগ্য ঘোষণার দাবি জানানো হয়।
 

মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, নির্বাচন কমিশন একটি স্বাধীন ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হলেও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজনের ক্ষেত্রে তাদের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বৈঠকে এসব বিষয় কমিশনের সামনে তুলে ধরা হয়েছে।
 

বৈঠকে জামায়াতের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন দলের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় প্রচার ও মিডিয়া বিভাগের সেক্রেটারি এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য জসিম উদ্দীন সরকার ও শিশির মোহাম্মদ মনিরসহ অন্যান্য নেতারা।
 

অন্যদিকে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের পাশাপাশি নির্বাচন কমিশনার আবদুর রহমানেল মাছউদ, তাহমিদা আহমদ এবং নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬