|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১৬ জুলাই ২০২৬ ০২:৫৮ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১৫ জুলাই ২০২৬ ০৮:৩৫ অপরাহ্ণ

উত্তরপত্র মূল্যায়নের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় না আনার দাবি বাকবিশিসের


উত্তরপত্র মূল্যায়নের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিকে ফৌজদারি অপরাধের আওতায় না আনার দাবি বাকবিশিসের


আহমদ রেজা, বিশেষ প্রতিনিধি, চট্টগ্রাম:


 

জাতীয় সংসদে সম্প্রতি পাস হওয়া পাবলিক এক্সামিনেশনস (অফেন্সেস) (অ্যামেন্ডমেন্ট) অ্যাক্ট-২০২৬-এ উত্তরপত্র মূল্যায়নসংক্রান্ত কিছু বিধান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)। সংগঠনটি উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিচ্ছাকৃত বিচ্যুতিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিলের দাবি জানিয়েছে।
 

বাকবিশিসের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি অধ্যাপক ড. নুর মোহাম্মদ তালুকদার এবং সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ মোহাম্মদ জাহাঙ্গীর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ দাবি জানানো হয়।
 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, নতুন আইনে পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্রে অতি-মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্ট পরীক্ষকের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ড, অর্থদণ্ড অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে। শিক্ষক নেতারা এই বিধানকে শিক্ষক সমাজের জন্য অবমাননাকর, অযৌক্তিক এবং হতাশাজনক বলে উল্লেখ করেছেন।
 

তাদের দাবি, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেই উত্তরপত্র মূল্যায়নে ভুল বা পক্ষপাতিত্বকে প্রশাসনিক কিংবা একাডেমিক ত্রুটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়; এটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে দেখা হয় না। ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা, নেপাল ও ভুটানের মতো প্রতিবেশী দেশেও এ ধরনের ভুলের জন্য কারাদণ্ডের বিধান নেই। সেখানে প্রয়োজন অনুযায়ী প্রশাসনিক, বিভাগীয় বা আর্থিক শাস্তির ব্যবস্থা রয়েছে।
 

বাকবিশিস নেতারা আরও বলেন, বাংলাদেশের শিক্ষা বোর্ডগুলোর বিদ্যমান বিধিমালায় উত্তরপত্র মূল্যায়নে ত্রুটির ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। নতুন আইনে কারাদণ্ডের বিধান কার্যকর হলে শিক্ষকদের পেশাগত মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি পাবলিক পরীক্ষার উত্তরপত্র মূল্যায়নে তারা নিরুৎসাহিত হতে পারেন। এছাড়া অতি-মূল্যায়ন বা অবমূল্যায়নের বিষয়টি অনেকাংশেই আপেক্ষিক এবং এর সুস্পষ্ট মানদণ্ডও নির্ধারিত নয়।
 

সংগঠনটির পক্ষ থেকে প্রস্তাব করা হয়েছে, উত্তরপত্র মূল্যায়নে ২০ শতাংশের বেশি নম্বরের পার্থক্য দেখা দিলে তৃতীয় পরীক্ষকের মাধ্যমে পুনর্মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা যেতে পারে। পাশাপাশি বিদ্যমান বিধিমালা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক বা বিভাগীয় ব্যবস্থা গ্রহণই এ ক্ষেত্রে অধিক কার্যকর সমাধান হতে পারে।
 

শিক্ষকদের সম্মান, পেশাগত স্বাধীনতা এবং শিক্ষা ব্যবস্থার স্বাভাবিক কার্যক্রম বজায় রাখার স্বার্থে উত্তরপত্র মূল্যায়নে অনিচ্ছাকৃত ত্রুটিকে ফৌজদারি অপরাধ হিসেবে গণ্য করার বিধান বাতিল করে বিষয়টি আগের মতো প্রশাসনিক ও বিভাগীয় ব্যবস্থার আওতায় রাখার জন্য সরকারের প্রতি জোর আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ কলেজ-বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক সমিতি (বাকবিশিস)।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬