|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৫ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৪৪ অপরাহ্ণ

নিরাপদ অভিবাসন ও শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক


নিরাপদ অভিবাসন ও শ্রম আইন সংস্কার নিয়ে ইইউ রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মন্ত্রীর বৈঠক


নিজস্ব প্রতিবেদক

 

বৈধ অভিবাসন উৎসাহিত করা, অবৈধ অভিবাসন বন্ধ এবং শ্রম আইন সংস্কারসহ বিভিন্ন বিষয়ে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর সঙ্গে বৈঠক করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত ও হেড অব ডেলিগেশন মাইকেল মিলার।
 

মঙ্গলবার প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রীর অফিসকক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
 

বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, সরকার বৈধ উপায়ে বিদেশে কর্মী পাঠাতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ এবং অবৈধ অভিবাসনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানে রয়েছে। বৈধ অভিবাসন বিষয়ে জনসচেতনতা বাড়াতে অভিবাসন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, সংস্থা ও সাংবাদিকদের নিয়ে শিগগিরই গোলটেবিল বৈঠক আয়োজন করা হবে বলেও জানান তিনি।
 

আরিফুল হক চৌধুরী বলেন, অবৈধ অভিবাসনসহ বিভিন্ন অপরাধ ও অনিয়মে জড়িত ৪৯টি রিক্রুটিং এজেন্সির লাইসেন্স ইতোমধ্যে বাতিল করা হয়েছে। কয়েকটি এজেন্সির অফিস সিলগালা করা হয়েছে। আইন লঙ্ঘনকারীদের বিরুদ্ধে নিয়মিত মোবাইল কোর্ট পরিচালনার নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।
 

বৈঠকে ইইউ রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশের রেমিট্যান্সের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসে। আগামী পাঁচ বছরে এক কোটি কর্মী বিদেশে পাঠানোর সরকারের লক্ষ্যের কথা উল্লেখ করে তিনি বিপুলসংখ্যক কর্মী পাঠানো রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোর লাইসেন্স প্রদান ও নিয়ন্ত্রণ প্রক্রিয়া সম্পর্কে জানতে চান।
 

তিনি নৈতিক অভিবাসন নিশ্চিত, বৈধ পথে বিদেশ যাওয়ার সুযোগ বাড়ানো এবং উচ্চ অভিবাসন ব্যয় কমাতে মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন।
 

মাইকেল মিলার বলেন, বাংলাদেশি কর্মীরা যাতে বৈধ উপায়ে ইউরোপে প্রবেশের সুযোগ পান, সে লক্ষ্যে ‘ট্যালেন্ট পার্টনারশিপ’ ও বৈধ অভিবাসন ব্যবস্থার উন্নয়নে কাজ করবে ইইউ। পাশাপাশি বাংলাদেশে ‘ইউরোপিয়ান ট্রেইনিং ফাউন্ডেশন’ আনয়ন এবং বিদেশফেরত কর্মীদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক পুনর্বাসনে সহযোগিতা অব্যাহত রাখার কথা জানান তিনি।
 

এ ছাড়া বাংলাদেশ শ্রম (সংশোধন) আইনে ট্রেড ইউনিয়ন ও সংগঠন করার স্বাধীনতা, ইপিজেড আইনের সঙ্গে সাধারণ শ্রম আইনের সামঞ্জস্য, শিশুশ্রম নির্মূল এবং নিয়মিত প্রাতিষ্ঠানিক কারখানা পরিদর্শনের ওপর গুরুত্ব দেন ইইউ রাষ্ট্রদূত।
 

মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. সাইফুল হক চৌধুরী জানান, রিক্রুটিং এজেন্সি বাছাই ও নিয়ন্ত্রণে সুনির্দিষ্ট ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ করা হয়েছে। এ ছাড়া একাধিক পরিদর্শক কমিটি গঠন করা হয়েছে। এসব কমিটি এজেন্সিগুলোর কার্যক্রম সরেজমিন পরিদর্শন করে প্রতিবেদন দাখিল করবে।
 

ইতালির সঙ্গে চলমান বৈধ অভিবাসন কার্যক্রমের কথা উল্লেখ করে তিনি অভিবাসন বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে বিভিন্ন প্রকল্প গ্রহণের জন্য ইইউর সহযোগিতা কামনা করেন। বিদেশফেরত কর্মীদের পুনর্বাসনে বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে পরিচালিত ‘রেইজ (RAISE)’ প্রকল্পের কার্যক্রমও সচল রয়েছে বলে জানান তিনি।
 

বৈঠকে বাংলাদেশে নিযুক্ত ইইউ মিশনের প্রথম সচিব লরা কার্টানিয়া ল্লাচ, মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব আহমাদুল হক, যুগ্মসচিব দেবজিৎ সিংহ, যুগ্মসচিব মো. শহিদুল ইসলাম চৌধুরীসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬