|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ০২:৩০ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৮ এপ্রিল ২০২৬ ১১:৩৭ পূর্বাহ্ণ

টি-টুয়েন্টিতে নতুন যুগের সূচনা বাংলাদেশের


টি-টুয়েন্টিতে নতুন যুগের সূচনা বাংলাদেশের


কথাটা আসলে একটু পুরোনোই হয়ে গেছে। গত বছরই তো এই সংস্করণে নিজেদের প্রায় সব রেকর্ড নতুন করে লিখেছে বাংলাদেশ। এক পঞ্জিকাবর্ষে সবচেয়ে বেশি জয়, ছক্কা, স্ট্রাইক রেট, বোলিংয়ে উইকেট—সবই বাংলাদেশ করেছে ২০২৫ সালে।

টি-টুয়েন্টিতে ভিন্ন ধাঁচের ক্রিকেট খেলার শুরুও এখান থেকেই। যে সংস্করণটার সঙ্গে আগের সময়ে প্রতিপক্ষের সেভাবে পাল্লা দিতে পারেনি তারা, সেখানেই তারা গত বছর জিতেছে টানা চার সিরিজ।

গত বছরের শুরুর দিকেও নতুন তানজিদ হাসান-পারভেজ হোসেনরা এখন দলের একরকম মেরুদণ্ড হয়ে উঠেছেন। তাওহিদ হৃদয়-শামীম হোসেনরাও নিজেদের চেনাচ্ছেন নতুন করে। বোলিংটা তো এখন সব সংস্করণেই বাংলাদেশের জন্য ত্রাতা।

নতুন ধাঁচের সেই টি-টুয়েন্টি ক্রিকেট খেলায় বাংলাদেশ পরের ধাপে পৌঁছানোর মিশনটা কি গতকালই শুরু করেছে? ঘরের মাঠে রেকর্ড ১৮২ রান তাড়া করে জিতেছে। কিন্তু শুধু তো আর সংখ্যার বিচারে সব হয় না, বাংলাদেশ যেভাবে ম্যাচটা জিতেছে, তা–ও তো মুখ্য।

নিউজিল্যান্ড এই সিরিজে দ্বিতীয় সারির দল পাঠিয়েছে, তা ঠিক। কিন্তু তাদের বিপক্ষেও পাওয়ারপ্লের বাইরের ৮ ওভারে ওভারপ্রতি দশের বেশি রান তোলা যেকোনো মানদণ্ডেই ভালো। ৭৭ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলার পর তা সম্ভব হয়েছে চাপের মুখে দাঁড়িয়েও হৃদয়-পারভেজদের প্রতি–আক্রমণের কারণে।

যেকোনো প্রতিপক্ষের বিপক্ষেই হোক না কেন, সাধারণত এভাবে ঘুরে দাঁড়াতে খুব একটা দেখা যায় না বাংলাদেশকে। টি-টুয়েন্টিতে বদলে যাওয়া দলটা কি এখন পরের ধাপে যাওয়ার চেষ্টায় আছে?

প্রশ্নটা করা হয়েছিল গতকাল ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতা তাওহিদ হৃদয়কে। উত্তরে তিনি বলেছেন, ‘ভালোর তো শেষ নেই। সবাই সবার জায়গা থেকে যতটুকু ভালো করা যায়, সব সময় চেষ্টা করে। অনেক দিন ধরে সবাই একসঙ্গে খেলছি। বোঝাপড়া অনেক ভালো আছে প্রতিটা খেলোয়াড়ের। আমার কাছে যেটা ইতিবাচক মনে হয়েছে যে আমরা চাপটা নিইনি।’

হৃদয় মনে করেন, এ রকম পরিস্থিতি থেকে যত তাঁরা ম্যাচ জেতাবেন, দলের আত্মবিশ্বাসও ততই বাড়বে তাতে। এখন তাঁদের যে এ রকম ম্যাচ বের করার সময় এসেছে, তা–ও স্বীকার করতে দ্বিধা ছিল না তাঁর।

তা বাংলাদেশ আসলে কেমন? নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে দলটাই দেখুন। নবাগত দুই ক্রিকেটার রিপন মণ্ডল আর আব্দুল গাফফার সাকলাইন ছাড়া ৩০–এর কম ম্যাচ খেলেছেন কেবল একজনই, তিনি আবার দলের সহ–অধিনায়ক সাইফ হাসান। রিপন আর গাফফারও দলে থাকতেন না মোস্তাফিজুর রহমান-তাসকিন আহমেদ সিরিজটা খেললে।

টি-টুয়েন্টি ক্রিকেটের ছন্দটা তাই সবাই বুঝতে শিখেছেন এত দিনে। হৃদয় বলছেন এখন তাই তাঁদের জন্য দায়িত্বই হয়ে গেছে এমন ম্যাচ জেতানো, ‘এ রকম ম্যাচ যদি আমরা না জেতাতে পারি, তাহলে তো এটা আমাদের জন্য এটা ভালো সাইন না। এগুলোতে ব্যাটসম্যান হিসেবে দায়িত্ব নিতে হবে।’

তা হৃদয়রা পেরেছেনও। বছরের প্রথম টি-টুয়েন্টি খেলতে নেমে তাঁরা দিয়েছেন ভিন্ন কিছুর ইঙ্গিত—লম্বা পথে হোঁচট না খেয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬