শাহজাদপুরে যমুনার ভয়াবহ ভাঙন, নদীগর্ভে দুই হাজার ঘরবাড়ি ও শত শত হেক্টর কৃষিজমি
সিরাজগঞ্জ প্রতিনিধি:
সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে যমুনা নদীর ভয়াবহ ভাঙন আবারও তীব্র আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ ১৫ বছরের ধারাবাহিক ভাঙনে এ অঞ্চলের হাজারো মানুষের বসতভিটা, কৃষিজমি ও বিভিন্ন স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। চলতি বছর ভাঙনের তীব্রতা আরও বেড়ে যাওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা।
স্থানীয়দের অভিযোগ, শ্রীপুর, ধীতপুর, কুরসি, বারপাখিয়া, মোহনপুর ও বৃহৎ হাতকোড়া গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা ভাঙনের কবলে পড়েছে। বসতঘর, ফসলি জমি, মসজিদ, মাদ্রাসাসহ বিভিন্ন গ্রামীণ অবকাঠামো একের পর এক যমুনায় বিলীন হচ্ছে। অথচ এ এলাকায় নদীভাঙন প্রতিরোধে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) কোনো প্রকল্প নেই।
স্থানীয়দের তথ্য অনুযায়ী, গত ১৫ বছরে সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নে অন্তত দুই হাজার বসতঘর, চারটি মসজিদ, দুটি মাদ্রাসা, দুটি হাট-বাজার এবং প্রায় ৭০০ থেকে ৮০০ হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে চলে গেছে। চলতি বছরের ভাঙনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ আরও বেড়েছে। মাত্র এক মাস আগেও যেখানে মানুষের বসতি ছিল, সেখানে এখন বইছে যমুনার প্রবল স্রোত।
ধীতপুর গ্রামের শতবর্ষী রহিতন বেগম বলেন, সারা জীবন কষ্ট করে গড়ে তোলা সবকিছু নদী কেড়ে নিয়েছে। স্বামীহারা মেয়েকে নিয়ে একটি জরাজীর্ণ টিনের ঘরে বসবাস করছেন তিনি। সেই ঘরটিও ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানান তিনি।
একসময় সবজি ও রবিশস্য উৎপাদনের জন্য পরিচিত ছিল এ চরাঞ্চল। পটল, বেগুন, ধান, বাদাম, মাষকলাই ও সরিষাসহ নানা ধরনের ফসল চাষ করে কৃষকেরা স্বচ্ছল জীবনযাপন করতেন। কিন্তু অব্যাহত ভাঙনে কৃষিনির্ভর অর্থনীতি ভেঙে পড়েছে।
কুরসি গ্রামের কৃষক ইয়াসিন মোল্লা জানান, তাদের গোষ্ঠীর প্রায় ৬০ বিঘা কৃষিজমি যমুনায় বিলীন হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা রফিকুল ইসলাম বলেন, গত তিন থেকে চার মাসেই ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩০০ থেকে ৪০০টি বসতঘর নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে।
শাহজাদপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আব্দুল্লাহ আল মামুন জানান, গত বছর সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের প্রায় ২৫০ হেক্টর কৃষিজমি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নতুন কিছু চর জেগে উঠলেও ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের ক্ষতি পূরণ হয়নি। তাই স্থায়ী নদীভাঙন প্রতিরোধে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।
সম্প্রতি জাতীয় সংসদে সিরাজগঞ্জ-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ডা. এম এ মুহিত ভাঙনকবলিত চরাঞ্চল রক্ষায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পানি উন্নয়ন বোর্ডের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এখনো মাঠপর্যায়ে কোনো দৃশ্যমান পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি।
শাহজাদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা সারমিন এবং সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক মো. আমিনুল ইসলাম জানিয়েছেন, বিষয়টি পর্যালোচনা করে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান বলেন, শাহজাদপুরের সোনাতনী ও গালা ইউনিয়নের চরাঞ্চলে বর্তমানে ভাঙন প্রতিরোধে পাউবোর কোনো প্রকল্প নেই। স্থায়ী নদীশাসন প্রকল্প বাস্তবায়নে হাজার হাজার কোটি টাকার প্রয়োজন। সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত ও প্রয়োজনীয় অর্থায়ন ছাড়া এমন প্রকল্প বাস্তবায়ন সম্ভব নয়।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬