গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্বের শঙ্কা, প্রাগে হাজারো মানুষের বিক্ষোভ
আন্তর্জাতিক ডেস্ক:
চেক প্রজাতন্ত্রের রাজধানী প্রাগে সরকারি টেলিভিশন ও রেডিওর অর্থায়ন কমানোর প্রস্তাবের প্রতিবাদে বিক্ষোভ করেছেন কয়েক হাজার মানুষ। রোববার অনুষ্ঠিত এ বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারীরা আশঙ্কা প্রকাশ করেন, অর্থায়নব্যবস্থায় পরিবর্তনের আড়ালে সরকার গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব করার চেষ্টা করছে।
বার্তা সংস্থা সূত্রে জানা যায়, বিক্ষোভের আগের দিন শনিবার দেশটির পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে সরকারি সম্প্রচারমাধ্যমের লাইসেন্স ফি বাতিল এবং এর পরিবর্তে রাষ্ট্রীয় বাজেট থেকে সরাসরি অর্থ বরাদ্দের প্রস্তাব অনুমোদন করা হয়।
প্রধানমন্ত্রী আন্দ্রেই বাবিশের নেতৃত্বাধীন ক্ষমতাসীন জোট বিলটির পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। তবে আইন হিসেবে কার্যকর হতে হলে প্রস্তাবটি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাস হতে হবে। বিরোধী দলগুলো জানিয়েছে, বিলটি পাস হলে তারা সাংবিধানিক আদালতে এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করবে।
প্রাগের ওল্ড টাউন স্কয়ারে আয়োজিত বিক্ষোভে অংশ নিয়ে ২৬ বছর বয়সী শিক্ষার্থী পেত্র চেকাল বলেন, রাজনীতিবিদেরা সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা সীমিত করতে চান—এমন আশঙ্কা তাঁর কাছে অত্যন্ত উদ্বেগজনক।
বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ৯৪ বছর বয়সী মিলান কোটাল অতীতের অভিজ্ঞতার কথা তুলে ধরে বলেন, ‘আমার জীবদ্দশায় টেলিভিশনের নিয়ন্ত্রণ দুইবার রাষ্ট্রের হাতে গেছে। একবার নাৎসিদের হাতে, এরপর কমিউনিস্টদের হাতে।’
প্রস্তাবিত বিলটি পার্লামেন্টের উচ্চকক্ষে পাস হলে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও রেডিওর বাজেট প্রায় ১৫ শতাংশ কমে যেতে পারে। এতে সম্প্রচারমাধ্যম দুটির কার্যক্রম ও স্বাধীনতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে ক্ষমতাসীন জোটের দাবি, সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম দুটিকেও ব্যয় সংকোচনের আওতায় আনতে হবে। অর্থায়নব্যবস্থায় পরিবর্তন আনা হলেও তাদের সম্পাদকীয় স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন থাকবে বলে মনে করছে সরকার।
বিলটি নিয়ে রাজনৈতিক বিতর্কের পাশাপাশি গণমাধ্যমের স্বাধীনতা ও রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের অর্থায়নব্যবস্থা নিয়ে চেক প্রজাতন্ত্রে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬