|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১১ জুলাই ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১১ জুলাই ২০২৬ ০৮:০৯ অপরাহ্ণ

ক্ষুধা-তৃষ্ণায় তিন দিন সাগরে ভেসে থাকার পর উদ্ধার জেলে আল আমিন


ক্ষুধা-তৃষ্ণায় তিন দিন সাগরে ভেসে থাকার পর উদ্ধার জেলে আল আমিন


পটুয়াখালী প্রতিনিধি:


গভীর বঙ্গোপসাগরে ট্রলারডুবির পর একটি ছোট ফিশিং বয়া আঁকড়ে টানা তিন দিন ক্ষুধা, তৃষ্ণা আর উত্তাল ঢেউয়ের সঙ্গে লড়াই করে অবশেষে প্রাণে বাঁচলেন জেলে আল আমিন হাওলাদার (৪২)। বুধবার সন্ধ্যায় ভোলার ঢালচর এলাকায় স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন।

 

উদ্ধারের পর প্রথমে তাকে চরফ্যাশন হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে বৃহস্পতিবার রাতে স্বজনেরা তাকে পটুয়াখালীর গলাচিপা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে যান। আল আমিন গলাচিপা উপজেলার গজালিয়া ইউনিয়নের ইছাদি গ্রামের চান্দু হাওলাদারের ছেলে।
 

জানা গেছে, গত ৪ জুলাই জীবিকার তাগিদে আরও ১০ জেলেকে নিয়ে ইলিশ ধরতে গভীর সমুদ্রে যান আল আমিন। কুয়াকাটা উপকূলের পূর্ব-দক্ষিণে মাছ ধরার সময় রাতে হঠাৎ প্রবল ঝড়ের কবলে পড়ে তাদের ট্রলারটি ডুবে যায়।
 

হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আল আমিন জানান, ট্রলারডুবির সময় তিনি ও ট্রলার মালিকসহ আটজন ট্রলারের বাইরে থাকায় সাঁতরে বের হতে সক্ষম হন। তবে কেবিনে অবস্থান করায় ফোরকান হাওলাদার, তার ছেলে সায়েম হাওলাদার এবং পানপট্টি এলাকার এবাদুল হক বের হতে পারেননি।
 

তিনি বলেন, ট্রলারডুবির পর উত্তাল ঢেউয়ে একে একে ট্রলার মালিক এমাদুল সিকদার, নাজমুল আলম, মোহাম্মদ বায়েজীদ, শাকিল আহমেদ ও রাকিব তাদের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। পরে তিনি, হারুন ও আকাশ ডুবে যাওয়া ট্রলারের একটি অংশ ও একটি ফিশিং বয়া ধরে ভেসে থাকার চেষ্টা করেন।
 

আল আমিনের ভাষ্য, দুই দিন পর ট্রলারের ভেতর থেকে ফোরকান হাওলাদার ও এবাদুল হকের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখেন তারা। এরপর উত্তাল ঢেউয়ে হারুন ও আকাশও তার কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে যান। শেষ পর্যন্ত একটি ছোট ফিশিং বয়া আঁকড়ে একাই তিন দিন সাগরে ভেসে থাকেন তিনি।
 

তিনি আরও বলেন, তিন দিন কোনো খাবার বা পানীয় না পেয়ে শারীরিকভাবে চরম দুর্বল হয়ে পড়েছিলেন। অবশেষে সাগরে ভেসে ভোলার ঢালচর এলাকায় পৌঁছালে স্থানীয় জেলেরা তাকে উদ্ধার করেন।
 

গজালিয়া ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান জাহাঙ্গীর হোসেন জানান, বুধবার বিকেলে ভোলার শশীভূষণ থানা থেকে প্রায় ৭০ কিলোমিটার দূরের ঢালচর এলাকা থেকে আল আমিনকে উদ্ধার করা হয়। বর্তমানে তিনি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এবং শারীরিক অবস্থার উন্নতি হচ্ছে।
 

গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা জহিরুন্নবী বলেন, আল আমিনের শারীরিক অবস্থা দুর্বল হওয়ায় তাকে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা প্রশাসন সার্বক্ষণিক তার খোঁজখবর রাখছে।
 

তিনি আরও জানান, ট্রলারে থাকা ১১ জেলের মধ্যে এ পর্যন্ত ছয়জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। বাকি পাঁচজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন। তাদের সন্ধানে কোস্ট গার্ড ও নৌপুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্ত প্রতিটি পরিবারকে প্রাথমিক আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
 

গলাচিপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আবুজর মো. ইজাজুল হক বলেন, নিখোঁজ জেলেদের উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থাকে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। উদ্ধার হওয়া ও নিখোঁজ জেলেদের পরিবারের পাশে উপজেলা প্রশাসন রয়েছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬