|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১২ মে ২০২৬ ০৭:১১ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১২ মে ২০২৬ ০৫:১৫ অপরাহ্ণ

শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা, বনানীতে দাফন হবে আতাউর রহমানের


শহীদ মিনারে শেষ শ্রদ্ধা, বনানীতে দাফন হবে আতাউর রহমানের


বিনোদন প্রতিবেদক

 

দেশের বরেণ্য অভিনেতা, নাট্যকার ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আতাউর রহমান আর নেই। সোমবার দিবাগত রাত ১২টার দিকে রাজধানীর ধানমন্ডির একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮৪ বছর।
 

মঙ্গলবার বাদ জোহর রাজধানীর মগবাজারে তাঁর জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে মরদেহ নেওয়া হবে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে, যেখানে সর্বস্তরের মানুষ এই গুণী নাট্যব্যক্তিত্বকে শেষ শ্রদ্ধা জানাবেন। এরপর বনানী কবরস্থানে তাঁকে দাফন করা হবে।
 

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কামাল বায়জীদ জানান, মগবাজারের ইস্পাহানী সেঞ্চুরি আর্কেডে নিজ বাসভবন-সংলগ্ন খোলা মাঠে মরহুমের জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে বিকেল ৩টার দিকে তাঁর মরদেহ কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে নেওয়া হবে। সেখানে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বনানী কবরস্থানে দাফন সম্পন্ন করা হবে।
 

এর আগে সোমবার বিকেলে আতাউর রহমানের শারীরিক অবস্থার অবনতির খবর পাওয়া যায়। তাঁর মেয়ে শর্মিষ্ঠা রহমান জানিয়েছিলেন, চিকিৎসকদের পরামর্শে তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়েছিল। পরে সাময়িক উন্নতি হলে লাইফ সাপোর্ট খুলে দেওয়া হয়। তবে পুনরায় অবস্থার অবনতি হলে রোববার (১০ মে) আবারও তাঁকে লাইফ সাপোর্টে নেওয়া হয়। দুই দিন পর আসে তাঁর মৃত্যুসংবাদ।
 

১৯৪১ সালের ১৮ জুন নোয়াখালীতে জন্ম নেওয়া আতাউর রহমান বাংলাদেশের নাট্য ও সাংস্কৃতিক অঙ্গনের অন্যতম পথিকৃৎ ছিলেন। তিনি একাধারে নাট্যকার, অভিনেতা, মঞ্চনির্দেশক ও লেখক হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেন।
 

নাগরিক নাট্য সম্প্রদায়ের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য হিসেবে তিনি ‘গডোর প্রতীক্ষায়’, ‘গ্যালিলিও’, ‘ঈর্ষা’, ‘রক্তকরবী’, ‘ক্রয়লাদ ও ক্রেসিদা’, ‘এখন দুঃসময়’ ও ‘অপেক্ষমাণ’-সহ বহু আলোচিত নাটকের নির্দেশনা দিয়েছেন। এছাড়া ‘আগল ভাঙার পালা’, ‘পায়ের আওয়াজ পাওয়া যায়’, ‘ম্যাকবেথ’, ‘বাংলার মাটি বাংলার জল’, ‘নারীগণ’ এবং ‘রুদ্র রবি ও জালিয়ানওয়ালাবাগ’-এর মতো নাটকও তিনি মঞ্চায়ন করেন।
 

নাট্যচর্চার পাশাপাশি বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ে খণ্ডকালীন শিক্ষকতা করেছেন আতাউর রহমান। তাঁর প্রকাশিত বইয়ের মধ্যে রয়েছে ‘প্রজাপতি নিবন্ধ’, ‘মঞ্চসারথির কাব্যকথা’, ‘নাটক করতে হলে’, ‘নাট্যপ্রবন্ধ বিচিত্রা’ ও ‘লেখনী’। এছাড়া তিনি টেলিভিশন নাটক ও চলচ্চিত্রেও অভিনয় করেছেন।
 

বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট এবং আফ্রো-এশীয় গণসংহতি পরিষদের সঙ্গে দীর্ঘদিন যুক্ত ছিলেন তিনি। পাশাপাশি বাংলাদেশ নাটকের আপিল কমিটি ও চলচ্চিত্র জুরিবোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন।
 

দেশের সংস্কৃতি ও নাট্যাঙ্গনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি একুশে পদক ও স্বাধীনতা পদকে ভূষিত হন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬