নিষেধাজ্ঞা শেষ মধ্যরাতে, সাগরে মাছ ধরতে প্রস্তুত অর্ধশতাধিক ট্রলার
জিয়ানগর (পিরোজপুর) প্রতিনিধি
মা ইলিশ রক্ষায় টানা ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হচ্ছে বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে। নিষেধাজ্ঞা উঠে যাওয়ার পরই সাগর ও নদ-নদীতে মাছ ধরতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছেন পিরোজপুরের জিয়ানগর উপজেলার জেলেরা। ইতোমধ্যে পাড়েরহাট মৎস্য অবতরণকেন্দ্রের ঘাটে জাল, বরফ ও প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী নিয়ে প্রস্তুত করা হয়েছে অর্ধশতাধিক মাছ ধরার ট্রলার। এসব ট্রলারে তিন শতাধিক জেলে সাগরে মাছ ধরতে যাবেন।
বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে সাগর ও স্থানীয় নদ-নদীতে মাছ ধরতে পারবেন জেলেরা। এ লক্ষ্যে কেউ ট্রলারে জাল তুলছেন, কেউ চাল-ডালসহ প্রয়োজনীয় বাজারসামগ্রী সংগ্রহ করছেন। আবার কেউ বরফকল থেকে বরফ সংগ্রহের জন্য আগাম সিরিয়াল দিয়ে রেখেছেন। মাছ ধরতে সাগরে যাওয়া প্রতিটি ট্রলারকে কমপক্ষে ১০ দিন অবস্থান করতে হতে পারে।
জেলেরা জানান, গত ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত মা ইলিশ রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কার্যকর ছিল। এ সময় তাঁরা ট্রলার ও জাল নিয়ে তীরে ফিরে আসেন। নিষেধাজ্ঞার সময়ে কেউ জাল মেরামত করেছেন, কেউবা ট্রলারের প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষ করেছেন। মাছ ধরা তাঁদের প্রধান জীবিকা হওয়ায় এ সময়ে অনেকটা কর্মহীন থাকতে হয়েছে।
তবে নিষেধাজ্ঞার আগে সাগর থেকে ফেরার সময় বৈরী আবহাওয়া ও মাছের স্বল্পতার কারণে অনেক জেলেকে লোকসানের আশঙ্কায় পড়তে হয়েছে। তাঁদের ভাষ্য, মাছ ধরতে যে পরিমাণ খরচ হয়, সেই তুলনায় আয় কম হওয়ায় অনেকের মধ্যেই হতাশা বিরাজ করছে।
বালিপাড়া এলাকার ট্রলারমালিক দুরাল ফকির বলেন, ‘জিয়ানগরসহ বিভিন্ন এলাকার ট্রলারমালিকেরা সরকারের নির্দেশনা মেনে মাছ ধরা বন্ধ করে তীরে ফিরে এসেছেন। এ সময় জাল ও ট্রলার মেরামতসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এখন আবার মাছ ধরতে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত। আজ বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে সাগরের উদ্দেশে রওনা হব।’
পাড়েরহাট মৎস্যবন্দরের ব্যবসায়ী রবিউল হোসেন বলেন, নিষেধাজ্ঞা শুরুর আগে অধিকাংশ মাছ ধরার ট্রলার বন্দরে ফিরে এসেছিল। ২২ দিন পর আবারও জেলেরা ট্রলার নিয়ে সাগরে যাবেন। এ সময়ে তাঁরা জাল ও ট্রলার মেরামত করেছেন। তবে পাড়েরহাট বন্দরে মাত্র দুটি বরফকল থাকায় চাহিদা অনুযায়ী বরফ সরবরাহে সংকট দেখা দিতে পারে। এ কারণে অন্য স্থান থেকেও বরফ সংগ্রহ করতে হবে।
পাড়েরহাট মৎস্যজীবী সমিতির সহসভাপতি মো. ইকবাল হোসেন বলেন, মা ইলিশ রক্ষায় সরকারের কঠোর পদক্ষেপের ফলে এ বছর সাগর ও নদ-নদীতে অবৈধভাবে মাছ ধরার প্রবণতা কমেছে বলে তাঁরা মনে করছেন। এতে ইলিশের উৎপাদন বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তিনি মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারের নেওয়া উদ্যোগকে স্বাগত জানান।
জিয়ানগর উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. ফাহাদ রহমান বলেন, ৮ অক্টোবর থেকে ২৯ অক্টোবর মধ্যরাত পর্যন্ত ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা বাস্তবায়নে অভিযান ও ভ্রাম্যমাণ আদালতের কার্যক্রম অব্যাহত ছিল। এ সময় জেলেদের মাছ ধরা থেকে বিরত রাখতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়। পাশাপাশি বিশেষ ভিজিএফ কর্মসূচির আওতায় তাঁদের খাদ্যসহায়তা দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, জিয়ানগর উপজেলার পাঁচটি ইউনিয়নে সাগর ও নদ-নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেন, এমন প্রায় ২ হাজার ৮০০ জেলেকে জনপ্রতি ২৫ কেজি করে মোট ৭০ মেট্রিক টন চাল বিতরণ করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ায় বৃহস্পতিবার মধ্যরাত থেকে জেলেরা আবারও স্থানীয় নদ-নদী ও সাগরে মাছ ধরতে পারবেন।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬