|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৪০ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০২:০৪ অপরাহ্ণ

প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে আটকে থাকার পূর্বাভাস, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের


প্রবৃদ্ধি ৩.৪ শতাংশে আটকে থাকার পূর্বাভাস, দ্রুত সংস্কারের তাগিদ বিশ্বব্যাংকের


বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে ৩ দশমিক ৪ শতাংশে নেমে আসতে পারে বলে পূর্বাভাস দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। জ্বালানি ও আর্থিক খাতের দুর্বলতা, কম রাজস্ব আহরণ, বিনিয়োগে স্থবিরতা এবং উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে দেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ২০২৩ সাল থেকে মন্থর হয়ে আছে বলে সংস্থাটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

মঙ্গলবার প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট আপডেট’ প্রতিবেদনে এসব তথ্য তুলে ধরা হয়।
 

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দেশে বেসরকারি বিনিয়োগ কমেছে এবং রপ্তানির গতি শ্লথ হয়েছে। একই সঙ্গে উচ্চ মূল্যস্ফীতির কারণে মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসা পরিচালনার ব্যয় বেড়েছে। তবে রেমিট্যান্স প্রবাহ বৃদ্ধি এবং বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের উন্নতির ফলে দেশের বহিঃখাত তুলনামূলকভাবে স্থিতিশীল রয়েছে।
 

বিশ্বব্যাংকের পূর্বাভাস অনুযায়ী, জ্বালানি সরবরাহ পরিস্থিতির উন্নতি এবং কাঙ্ক্ষিত সংস্কার কার্যক্রম দ্রুত বাস্তবায়ন করা গেলে ২০২৭-২৮ অর্থবছরে বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধি বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে।
 

প্রতিবেদনে দেশের দারিদ্র্য ও বৈষম্য পরিস্থিতি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে। বলা হয়েছে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে আগের বছরের তুলনায় প্রায় ২১ লাখ মানুষ নতুন করে দারিদ্র্যের মধ্যে পড়েছে। একই সময়ে কর্মসংস্থান পরিস্থিতিও স্থবির হয়ে পড়েছে এবং বিশেষ করে নারীরা চাকরি হারিয়েছেন।
 

ব্যাংকিং খাতের দুর্বলতাও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে। বিশ্বব্যাংকের হিসাবে, খেলাপি ঋণের হার ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে ২০২৬ সালের জুনে ৩৩ দশমিক ২ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
 

রাজস্ব আহরণেও বাংলাদেশের অবস্থান দুর্বল বলে উল্লেখ করেছে বিশ্বব্যাংক। প্রতিবেদনে বলা হয়, জিডিপির মাত্র ৮ দশমিক ৩ শতাংশ রাজস্ব আহরণ বিশ্বের সর্বনিম্ন হারগুলোর একটি। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব ঘাটতি আগের অর্থবছরের ৩ দশমিক ৫ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩ দশমিক ৯ শতাংশ হয়েছে।
 

বিশ্বব্যাংকের বাংলাদেশ ও ভুটানবিষয়ক কান্ট্রি ডিরেক্টর জ্যঁ পেসমে বলেন, বেসরকারি বিনিয়োগনির্ভর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক প্রবৃদ্ধির ধারায় ফিরতে হলে ব্যাংকিং, রাজস্ব আহরণ ও জ্বালানি খাতে দ্রুত এবং সাহসী সংস্কার প্রয়োজন। দরিদ্র জনগোষ্ঠীকে সুরক্ষা দেওয়া এবং ভালো কর্মসংস্থান তৈরির জন্য এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সময় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
 

সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কথাও প্রতিবেদনে তুলে ধরা হয়েছে। এতে বলা হয়, সামাজিক সুরক্ষা, জ্বালানি ও কৃষিতে বিভিন্ন ধরনের ভর্তুকি থাকা সত্ত্বেও সবচেয়ে দরিদ্র পরিবারগুলোর প্রায় অর্ধেক কোনো সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির আওতায় নেই।
 

এ পরিস্থিতি মোকাবিলায় ডায়নামিক সোশ্যাল রেজিস্ট্রি বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বিশ্বব্যাংক। পাশাপাশি একাধিক খাদ্য ভর্তুকি কর্মসূচি একীভূত করা এবং ফ্যামিলি কার্ডের সঙ্গে নগদ সহায়তা কর্মসূচির আরও কার্যকর লক্ষ্যনির্ধারণ করা গেলে অতিরিক্ত ২৮ লাখ ৫০ হাজার মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

এদিকে একই দিনে প্রকাশিত বিশ্বব্যাংকের ‘সাউথ এশিয়া ইকোনমিক আপডেট’ প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৬ সালে দক্ষিণ এশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৯ শতাংশ হতে পারে। ২০২৭ সালে তা কিছুটা কমে ৬ দশমিক ৭ শতাংশে নামতে পারে।
 

বিশ্বব্যাংকের দক্ষিণ এশিয়াবিষয়ক ভাইস প্রেসিডেন্ট জোহানেস জুট বলেন, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইনির্ভর বৈশ্বিক মূল্য শৃঙ্খলের সুযোগ কাজে লাগাতে দক্ষতা উন্নয়ন, অবকাঠামো এবং সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।
 

সংস্থাটির এশিয়াবিষয়ক প্রধান অর্থনীতিবিদ ফ্রানজিস্কা ওনসর্গে বলেন, এআই শ্রম উৎপাদনশীলতা ও রপ্তানির সম্ভাবনা বাড়াতে পারে। তবে এর সুফল পেতে হলে অর্থনীতির মৌলিক দুর্বলতাগুলো দূর করার পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬