ভারত থেকে ইলিশ আমদানির ১০৩ এনওসি বাতিল, বন্ধ হলো আমদানি
নিজস্ব প্রতিবেদক
ভারত থেকে ইলিশ আমদানির জন্য দেওয়া ১০৩টি অনাপত্তি সনদ (এনওসি) বাতিল করেছে মৎস্য অধিদপ্তর। এর ফলে বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে। নতুন করে আর কোনো ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ।
মৎস্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহাপরিচালক ড. মো. খালেদ কনকের স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে গত মঙ্গলবার ১০৩টি এনওসি বাতিলের সিদ্ধান্ত জানানো হয়। পরদিন বুধবার বেনাপোল স্থলবন্দরের কোয়ারেন্টিন ও মৎস্য মান নিয়ন্ত্রণ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সংক্রান্ত আনুষ্ঠানিক চিঠি পান। এরপরই এসব এনওসির আওতায় ইলিশ আমদানির প্রক্রিয়া বন্ধ করে দেওয়া হয়।
বেনাপোল স্থলবন্দর সূত্রে জানা গেছে, চলতি অর্থবছরে ভারত থেকে বাংলাদেশে মোট ১ হাজার ৭৩৯ দশমিক ৫০ টন ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়েছিল। এর মধ্যে বুধবার পর্যন্ত বেনাপোল স্থলবন্দর দিয়ে দেশে এসেছে ৫৩৫ টন ইলিশ। মৎস্য অধিদপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আমদানি করা এসব ইলিশ ভারতের গুজরাটের ভারুচ এলাকা থেকে এসেছে।
মন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেন, মাছ আমদানি-রপ্তানির অনুমতি দেওয়ার দায়িত্ব মৎস্য অধিদপ্তরের। ইলিশ আমদানির অনুমতি দেওয়ার বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। পরে বিষয়টি জানতে পেরে তিনি মৎস্য অধিদপ্তরের কাছে ব্যাখ্যা চান। এরপর আর কোনো ইলিশ আমদানির অনুমতি না দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে বাংলাদেশে আর একটি ইলিশও আসবে না।’
বেনাপোল আমদানি-রপ্তানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক বলেন, এনওসি বাতিলের বিষয়ে মৎস্য অধিদপ্তরের চিঠি তাঁরা পেয়েছেন। এর ফলে আকস্মিকভাবে ভারত থেকে ইলিশ আমদানি বন্ধ হয়ে গেছে।
বেনাপোল স্থলবন্দরের কোয়ারেন্টিন পরিদর্শক আশওয়াদুল আলম বলেন, ১০৩টি এনওসি বাতিলের আনুষ্ঠানিক চিঠি বুধবার পাওয়া গেছে। নির্দেশনা অনুযায়ী তাৎক্ষণিকভাবে ইলিশ আমদানি বন্ধ করা হয়েছে।
বন্দরসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা জানান, তুলনামূলক বেশি লাভের আশায় সাম্প্রতিক সময়ে ভারত থেকে ইলিশ আমদানিতে ব্যবসায়ীদের আগ্রহ বেড়েছিল। আমদানির সময় প্রতি কেজি ইলিশের মূল্য ৪৮ সেন্ট থেকে ২ মার্কিন ডলার পর্যন্ত দেখানো হয়েছে বলে তাঁরা জানান। পরে নির্ধারিত রাজস্ব পরিশোধ করে এসব মাছ বন্দর থেকে খালাস করা হয়।
ইলিশ আমদানির ক্ষেত্রে ঘোষিত মূল্য নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে। সংশ্লিষ্টদের কেউ কেউ আশঙ্কা করছেন, বাজারমূল্যের তুলনায় কম মূল্য দেখিয়ে ইলিশ আমদানি করা হলে আন্ডার ইনভয়েসিংয়ের মাধ্যমে অর্থ পাচারের সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কৃষি অর্থনীতিবিদ ড. জাহাঙ্গীর আলম বলেন, বাংলাদেশে ইলিশ আমদানির ঘটনা দেশের ইলিশ ব্যবস্থাপনা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। ইলিশের মতো জাতীয় গুরুত্বপূর্ণ মাছের ক্ষেত্রে আমদানি ও রপ্তানি—উভয় ক্ষেত্রেই একটি সুস্পষ্ট জাতীয় নীতি থাকা প্রয়োজন।
তিনি বলেন, ব্যবসায়ীরা কখনো দেশের ইলিশ বিদেশে রপ্তানির উদ্যোগ নেন, আবার কখনো আহরণের ঘাটতির কথা বলে আমদানির উদ্যোগ নেন। এ ক্ষেত্রে মানুষের চাহিদার পাশাপাশি ব্যবসায়িক স্বার্থ ও মুনাফার বিষয়টিও বিবেচনায় থাকে। তাই ইলিশের মতো গুরুত্বপূর্ণ মাছের ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি নীতি থাকা প্রয়োজন।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬