|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৮ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৩৫ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৭ অক্টোবর ২০২৬ ১২:৫৭ অপরাহ্ণ

খতনার পর ৫৫ শিশুর ইনফেকশন-রক্তক্ষরণ, সেন্টমার্টিনে মেডিকেল টিম


খতনার পর ৫৫ শিশুর ইনফেকশন-রক্তক্ষরণ, সেন্টমার্টিনে মেডিকেল টিম


টেকনাফ (কক্সবাজার) প্রতিনিধি

 

কক্সবাজারের সেন্টমার্টিনে বিনামূল্যে খতনা কর্মসূচির পর অর্ধশতাধিক শিশুর ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণের ঘটনায় অসুস্থদের চিকিৎসা দিতে এবং পরিস্থিতি পর্যালোচনায় টেকনাফ থেকে একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে।
 

বুধবার সকাল পৌনে ১১টার দিকে টেকনাফের শাহপরীর দ্বীপ জেটিঘাট থেকে মেডিকেল টিমটি সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়। সেখানে পৌঁছে অসুস্থ শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা, প্রয়োজনীয় চিকিৎসা ও ওষুধ দেওয়ার পাশাপাশি তাদের অসুস্থতার কারণও খতিয়ে দেখবে দলটি।
 

মেডিকেল টিমে রয়েছেন শিশু বিশেষজ্ঞ ডা. নওশাদ আলম কানন, ডা. আশরাফুল ইসলাম এবং উপসহকারী শাওখাত হোসেন মিতু।
 

টেকনাফ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ডা. এনামুল হক বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, দুই চিকিৎসকসহ একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। শিশুদের পরীক্ষা করে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেওয়ার পাশাপাশি অসুস্থতার কারণ অনুসন্ধান করা হবে। টিমের সঙ্গে প্রয়োজনীয় ওষুধপত্রও পাঠানো হয়েছে।
 

জানা গেছে, গত শনিবার সেন্টমার্টিন অবকাশ রিসোর্টে ‘আল মোমিন সমাজ কল্যাণ ফাউন্ডেশন’-এর উদ্যোগে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা ও সুন্নতে খতনা কর্মসূচির আয়োজন করা হয়। আয়োজকদের তথ্য অনুযায়ী, একজন এমবিবিএস চিকিৎসকের নেতৃত্বে ১৪ সদস্যের মেডিকেল টিম ওই কর্মসূচিতে ৫ থেকে ১৫ বছর বয়সী ২১০ শিশুর খতনা করে।
 

সেন্টমার্টিন হাসপাতাল সূত্র জানায়, মঙ্গলবার সকাল থেকে বুধবার পর্যন্ত দুই দিনে খতনা করানো ৫৫ শিশু ইনফেকশন ও রক্তক্ষরণ নিয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছে। তাদের মধ্যে মো. ফয়সাল ও ৯ বছর বয়সী আইনুল ইসলামের অবস্থা আশঙ্কাজনক ছিল।
 

সেন্টমার্টিন হাসপাতালের উপসহকারী কর্মকর্তা ডা. শহীদুল ইসলাম বলেন, গত দুই দিনে অর্ধশতাধিক খতনা করানো শিশুকে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। তাদের অনেকের ইনফেকশন দেখা দেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হচ্ছিল।
 

ঘটনায় দ্বীপের বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, খতনা করানোর সময় স্বাস্থ্যবিধি ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা-সতর্কতা যথাযথভাবে নিশ্চিত করা হয়নি। একসঙ্গে বিপুলসংখ্যক শিশুর খতনা করানোর কারণে চিকিৎসাসেবায় কোনো ধরনের অবহেলা হয়েছে কি না, তা খতিয়ে দেখার দাবি জানিয়েছেন তারা।
 

দ্বীপের বাসিন্দা কবির আহমেদ বলেন, তাঁর ছেলে আইনুল ইসলামকে ওই কর্মসূচিতে খতনা করানোর পর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ দেওয়া হলেও পরে সে অসুস্থ হয়ে পড়ে। হাসপাতালে প্রাথমিক চিকিৎসার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে টেকনাফে নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রলার না পাওয়ায় তাকে টেকনাফে নেওয়া সম্ভব হয়নি।
 

স্থানীয় শিক্ষক আয়াছ উদ্দিন কাজল বলেন, খতনার পর অর্ধশতাধিক শিশু রক্তক্ষরণসহ বিভিন্ন সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ায় বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। দ্বীপের অধিকাংশ পরিবার অসচ্ছল হওয়ায় কোনো শিশুর জটিলতা দেখা দিলে উন্নত চিকিৎসা করানো তাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। শিশুদের অসুস্থতার কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো ভুল বা অবহেলা হয়েছে কি না, তা তদন্ত করা প্রয়োজন।
 

টেকনাফ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এসএম অনীক চৌধুরী বলেন, ওষুধপত্রসহ একটি মেডিকেল টিম সেন্টমার্টিনে পাঠানো হয়েছে। টিমটি সেখানে পৌঁছে অসুস্থ শিশুদের পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা দেবে। পাশাপাশি শিশুদের অসুস্থতার কারণও খতিয়ে দেখতে বলা হয়েছে।
 

সেন্টমার্টিন ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ফয়েজুল ইসলাম বলেন, তিনি নিজেও মেডিকেল টিমের সঙ্গে সেন্টমার্টিনের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন। দ্বীপে পৌঁছানোর পরপরই অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা শুরু করা হবে। মেডিকেল টিমের চিকিৎসায় শিশুরা দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। একই সঙ্গে তিনি অভিভাবকদের আতঙ্কিত না হয়ে শিশুদের বিষয়ে সচেতন থাকার আহ্বান জানান।
 

এদিকে খতনা কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়া চিকিৎসকের বক্তব্য জানতে মোবাইল ফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬