|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৪ জুন ২০২৬ ০৬:৪২ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৪ জুন ২০২৬ ০৪:৩৩ অপরাহ্ণ

তারেক রহমানের চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা


তারেক রহমানের চীন সফরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারের প্রত্যাশা


অনলাইন ডেস্ক

 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের তিন দিনের চীন সফরকে বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের নতুন মাইলফলক হিসেবে দেখছেন কূটনৈতিক বিশ্লেষক ও পর্যবেক্ষকরা। বুধবার শুরু হওয়া এই সফর শুক্রবার পর্যন্ত চলবে। দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি তারেক রহমানের প্রথম বিদেশ সফর। মালয়েশিয়া সফর শেষে চীন তার দ্বিতীয় গন্তব্য।
 

সফরকে ঘিরে বাংলাদেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, সফরকালে অবকাঠামো, শিল্প, বাণিজ্য ও বিনিয়োগসহ বিভিন্ন খাতে ১৫টিরও বেশি দ্বিপক্ষীয় চুক্তি ও সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হতে পারে।
 

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে পাঁচ দশকেরও বেশি সময়ের কূটনৈতিক সম্পর্ক রয়েছে। দুই দেশ দীর্ঘদিন ধরে কৌশলগত সহযোগী হিসেবে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সমতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের নীতির ভিত্তিতে সম্পর্ক উন্নয়ন করে আসছে। ২০২৪ সালে এই সম্পর্ককে ‘ব্যাপক কৌশলগত সহযোগিতামূলক অংশীদারিত্বে’ উন্নীত করা হয়।
 

অর্থনৈতিক সহযোগিতার ক্ষেত্রে চীন টানা ১৫ বছর ধরে বাংলাদেশের বৃহত্তম বাণিজ্যিক অংশীদার। একই সঙ্গে বাংলাদেশি পণ্যের জন্য চীনা বাজারে ব্যাপক শুল্ক সুবিধা দেওয়া হয়েছে। অবকাঠামো উন্নয়নেও দুই দেশের সহযোগিতা উল্লেখযোগ্য। পদ্মা সেতুসহ বিভিন্ন বড় প্রকল্পে চীনের অংশগ্রহণ বাংলাদেশের যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
 

আঞ্চলিক পর্যায়েও দুই দেশ বিভিন্ন বিষয়ে একসঙ্গে কাজ করছে। বিশেষ করে রোহিঙ্গা সংকট সমাধান, শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং বেল্ট অ্যান্ড রোড ইনিশিয়েটিভ (বিআরআই)-এর আওতায় সংযোগ বৃদ্ধি ও অর্থনৈতিক সহযোগিতা জোরদারে উভয় দেশের সম্পৃক্ততা রয়েছে।
 

তবে বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশ-চীন সম্পর্ক আরও উচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করতে কয়েকটি চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। এর মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতা, বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও নীতির ধারাবাহিকতা, এবং দুই দেশের বিষয়ে বিভিন্ন মহলের দৃষ্টিভঙ্গিগত পার্থক্য।
 

পর্যবেক্ষকদের মতে, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উভয় দেশের মধ্যে আরও খোলামেলা সংলাপ, পারস্পরিক বোঝাপড়া এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জাতীয় স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তবমুখী নীতি গ্রহণের ওপরও গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
 

সফর উপলক্ষে প্রকাশিত বিভিন্ন বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ভবিষ্যতে শিল্প সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হতে পারে। বিশেষ করে চীনা প্রতিষ্ঠানগুলোকে বাংলাদেশে উৎপাদনমুখী বিনিয়োগে উৎসাহিত করার মাধ্যমে উচ্চ মূল্য সংযোজিত পণ্য উৎপাদন ও রপ্তানি বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হতে পারে।
 

এ ছাড়া গ্লোবাল সাউথভুক্ত দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা বৃদ্ধি, আঞ্চলিক শিল্প ও সরবরাহ শৃঙ্খলে বাংলাদেশের সম্পৃক্ততা বাড়ানো এবং বহুপক্ষীয় অর্থনৈতিক উদ্যোগে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রেও নতুন সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে।
 

বিশ্লেষকদের ধারণা, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সফর বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যকার অর্থনৈতিক, কৌশলগত ও রাজনৈতিক সম্পর্ককে আরও গভীর করবে এবং ভবিষ্যৎ সহযোগিতার নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬