|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:০২ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৭ অক্টোবর ২০২৬ ০৪:৩০ অপরাহ্ণ

অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ দেন না, খোঁজও নেন না ছেলে তাশরীফ: অভিযোগ


অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ দেন না, খোঁজও নেন না ছেলে তাশরীফ: অভিযোগ


ইসলামী বক্তা হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের বিরুদ্ধে অসুস্থ বাবার ভরণপোষণ না দেওয়া এবং তাঁর খোঁজখবর না রাখার অভিযোগ উঠেছে। তাশরীফের বাবা মাওলানা মো. হেদায়েতুল্লাহ নিজেই একটি ভিডিও সাক্ষাৎকারে এসব অভিযোগ তুলে ধরে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
 

সোমবার (২৬ অক্টোবর) রাতে দৈনিক কালের কণ্ঠে প্রকাশিত ওই ভিডিও সাক্ষাৎকারে হেদায়েতুল্লাহ অভিযোগ করেন, অসুস্থ অবস্থায় ছেলের কাছে আর্থিক সহযোগিতা চেয়েও তিনি তা পাননি। এমনকি ছেলে তাঁর সঙ্গে যোগাযোগও রাখেন না।
 

সাক্ষাৎকারে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা করিয়ে মাওলানা ও হাফেজ বানিয়েছেন। শৈশবে ছেলের গুরুতর শারীরিক সমস্যার সময় মানুষের কাছ থেকে টাকা সংগ্রহ করে ঢাকা, ময়মনসিংহ ও মির্জাপুরের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসা করিয়েছেন বলেও দাবি করেন তিনি।
 

নিজের অসুস্থতার সময় ছেলের কাছে সহযোগিতা চাওয়ার প্রসঙ্গ তুলে তিনি বলেন, ছেলের কাছে টাকা চাইলে জমি কেনার কথা বলে টাকা দিতে অস্বীকৃতি জানানো হয়। অথচ তিনি সীমিত আয়ের মধ্যে ইমামতি করে ছেলেকে লেখাপড়া করিয়েছেন এবং লালন-পালন করেছেন।
 

হেদায়েতুল্লাহ জানান, পরে গণমাধ্যমের মাধ্যমে মানুষের কাছে সহযোগিতা চাইলে কিছু আর্থিক সহায়তা পান। সেই অর্থ দিয়ে চিকিৎসা করালেও তিনি পুরোপুরি সুস্থ হননি। এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
 

কান্নাজড়িত কণ্ঠে তিনি বলেন, “যখন তোমার কেউ ছিল না, তখন ছিলাম আমি। এখন তোমার সব হয়েছে, পর হলাম আমি।” তাঁর অভিযোগ, ছেলের এখন প্রচুর অর্থ ও বন্ধুবান্ধব থাকলেও তিনি বাবার খোঁজ নেন না, দেখতেও আসেন না কিংবা আর্থিক সহায়তা করেন না।
 

ইমামতির চাকরি ছেড়েও পাননি প্রতিশ্রুত অর্থ

সাক্ষাৎকারে হেদায়েতুল্লাহ আরও অভিযোগ করেন, ছেলের পরামর্শে তিনি স্থানীয় একটি বাজার মসজিদে ইমামতির চাকরি ছেড়ে দেন। তাঁর ভাষ্য অনুযায়ী, তাশরীফ চেয়ারম্যান পদে নির্বাচনে দাঁড়ানোর পরিকল্পনার কথা জানিয়ে বাবার কাছে ক্ষমা চান। পরে চাকরি ছেড়ে দিলে প্রতি মাসে ১০ হাজার টাকা দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন। ছেলের কথায় তিনি চাকরি ছেড়ে দিলেও পরে কোনো টাকা পাননি বলে দাবি করেন।
 

ছেলের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করেও ব্যর্থ হওয়ার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, তাশরীফের ব্যক্তিগত সহকারী ওবায়দুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগ করেও সমস্যার সমাধান হয়নি। বারবার ফোন করেও ছেলের সঙ্গে কথা বলতে পারেননি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
 

হেদায়েতুল্লাহ বলেন, একপর্যায়ে তিনি সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, আর টাকা চাইবেন না। আল্লাহই তাঁর ব্যবস্থা করবেন।
 

কোরবানির ঈদ নিয়েও অভিযোগ

কোরবানির ঈদের একটি ঘটনার কথা উল্লেখ করে হেদায়েতুল্লাহ বলেন, তাশরীফ তাঁকে এলাকায় কোরবানি দেওয়ার কথা জানিয়েছিলেন। পরে ছেলের বন্ধুদের মধ্যে অনেকে কোরবানি দিতে পারেন না—এ কথা বলে তাঁদের টাকা ও মাংস দেওয়ার ব্যবস্থা করার প্রসঙ্গ ওঠে।
 

তাঁর অভিযোগ, ছেলের বন্ধুদের জন্য মাংসের ব্যবস্থা করা হলেও তিনি নিজে এক টুকরা মাংসও পাননি।
 

তাশরীফের বক্তব্য পাওয়া যায়নি

বাবার তোলা এসব অভিযোগের বিষয়ে হাফেজ ক্বারি জুবায়ের আহমাদ তাশরীফের কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ফলে অভিযোগগুলোর বিষয়ে তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি।
 

প্রসঙ্গত, বিভিন্ন সময়ে বক্তব্য দিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনায় এসেছেন ইসলামী বক্তা তাশরীফ। সম্প্রতি গাজীপুরের টঙ্গীর একটি মাদ্রাসার এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে শিক্ষার্থীকে যৌন নিপীড়নের অভিযোগ এবং ওই শিক্ষককে মারধরের একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর বিষয়টি নিয়ে বিতর্ক তৈরি হয়।
 

এ ঘটনায় মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপালের পক্ষে অবস্থান নিয়ে তাশরীফের বক্তব্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার জন্ম দেয়। তাঁর ফেসবুক পেজে নাবালক শিশুকে চুমু দেওয়া প্রসঙ্গে করা একটি মন্তব্য নিয়েও বিতর্ক সৃষ্টি হয়।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬