১৪ কার্যদিবসে ফাঁসির রায় হলেও কার্যকর হয়নি এক বছরেও
শিশু আছিয়া হত্যা মামলায় আসামি হিটু শেখের মৃত্যুদণ্ডাদেশ হলেও রায় কার্যকরের প্রক্রিয়া এখনো চূড়ান্ত হয়নি। হাইকোর্টে ডেথ রেফারেন্স শুনানি ঝুলে থাকায় মামলাটির ভবিষ্যৎ নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে।
মাগুরার আলোচিত এই ঘটনায় দ্রুত বিচারিক আদালতে রায় ঘোষণা হলেও উচ্চ আদালতে নথি নিষ্পত্তি না হওয়ায় ফাঁসি কার্যকরের ধাপ এগোয়নি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।
গত ৬ মার্চ মাগুরা শহরের নিজনান্দুয়ালী গ্রামে বোনের শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে গিয়ে নির্যাতনের শিকার হয় আট বছরের শিশু আছিয়া। পরে তাকে প্রথমে মাগুরা ও ফরিদপুর হাসপাতালে নেওয়া হয়। অবস্থার অবনতি হলে ঢাকায় স্থানান্তর করা হয় এবং ১৩ মার্চ চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়।
ঘটনাটি দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে রাজপথ পর্যন্ত বিচার দাবিতে সরব হয় বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
পরবর্তীতে মামলার বিচারিক আদালত গত বছরের ১৭ মে আসামি হিটু শেখকে মৃত্যুদণ্ড দেন। রায় ঘোষণার কয়েক দিনের মধ্যেই ডেথ রেফারেন্স হাইকোর্টে পাঠানো হয়। তবে এক বছর পার হলেও সেই নথির ওপর কোনো চূড়ান্ত শুনানি হয়নি বলে জানা যায়।
মামলাটি দ্রুত নিষ্পত্তি হলেও উচ্চ আদালতের ধীরগতির কারণে বিচার প্রক্রিয়া সম্পূর্ণ শেষ না হওয়ায় ভুক্তভোগী পরিবার হতাশা প্রকাশ করেছে।
আছিয়ার মা আয়েশা খাতুন বলেন, “এত আন্দোলন হলো, এত কথা হলো, তবুও এখনো বিচার শেষ হয়নি। আমরা কেবল অপেক্ষায় আছি।”
আইনজীবীরা বলছেন, ডেথ রেফারেন্স মামলাগুলো সাধারণ সিরিয়াল অনুযায়ী হাইকোর্টে শুনানির জন্য ওঠে, ফলে অনেক সময় দীর্ঘসূত্রতা তৈরি হয়।
সুপ্রিম কোর্টের এক জ্যেষ্ঠ আইনজীবীর মতে, সংবেদনশীল মামলাগুলো দ্রুত নিষ্পত্তির জন্য আলাদা বেঞ্চ বা বিশেষ ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে বিচার প্রক্রিয়া দীর্ঘায়িত না হয়।
এদিকে বিচার বিলম্বের কারণে এ ধরনের আলোচিত মামলার রায় কার্যকর নিয়ে জনমনে প্রশ্ন তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬