|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৭ জুন ২০২৬ ০১:২৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৭ জুন ২০২৬ ১১:২৭ পূর্বাহ্ণ

শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে ককরোচ পার্টির ৭ দিনের আলটিমেটাম


শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ চেয়ে ককরোচ পার্টির ৭ দিনের আলটিমেটাম


ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে বিক্ষোভ সমাবেশ করেছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। বিভিন্ন ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগ তুলে সংগঠনটি সরকারকে সাত দিনের আলটিমেটাম দিয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে দেশব্যাপী আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়েছে।

 

শনিবার আয়োজিত এ সমাবেশে সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকের আহ্বানে শত শত শিক্ষার্থী, তরুণ চাকরিজীবী ও সাধারণ মানুষ অংশ নেন। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকায় এক হাজারের বেশি পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়।

 

সমাবেশে অংশ নেওয়া অনেকের মুখে ছিল তেলাপোকার আদলে তৈরি মাস্ক। আন্দোলনকারীদের হাতে ছিল ভারতের জাতীয় পতাকা, সংবিধানের কপি ও ফুল। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবির পাশাপাশি তারা শিক্ষাব্যবস্থায় জবাবদিহি ও সংস্কারের দাবিও জানান।

 

যুক্তরাষ্ট্র সফর শেষে শনিবার সকালে দিল্লিতে পৌঁছে সরাসরি সমাবেশে যোগ দেন অভিজিৎ দীপক। আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানিয়ে উপস্থিত ছিলেন বিশিষ্ট পরিবেশ আন্দোলনকর্মী ও ম্যাগসাইসাই পুরস্কারপ্রাপ্ত শিক্ষাবিদ সোনম ওয়াংচুক, সিপিআই (এমএল) লিবারেশনের সাধারণ সম্পাদক দীপঙ্কর ভট্টাচার্য, সিপিআই নেত্রী অ্যানি রাজাসহ বিভিন্ন ছাত্র ও যুব সংগঠনের নেতারা।

 

সমাবেশে বক্তব্য দিতে গিয়ে অভিজিৎ দীপক বলেন, শিক্ষাব্যবস্থার স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে তাদের আন্দোলন দীর্ঘমেয়াদি হবে। তিনি অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের প্রচারণা বাধাগ্রস্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে। তবে এসব পদক্ষেপ আন্দোলন থামাতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেন তিনি।

 

তিনি বলেন, “আমরা আর কত দিন ভয়ে বেঁচে থাকব? দেশের তরুণ সমাজ ভয় পায় না। আমাদের কণ্ঠ রোধ করার চেষ্টা করা হলেও আমরা ন্যায়সঙ্গত দাবি আদায়ের সংগ্রাম চালিয়ে যাব।”

 

বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে অসুস্থ বোধ করায় অভিজিৎ দীপক সমাবেশের সমাপ্তি ঘোষণা করেন।

 

পরে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে সিজেপির মুখপাত্র আশুতোষ রাঙ্কা বলেন, “আমরা সরকারকে সাত দিন সময় দিচ্ছি। এই সময়ের মধ্যে ধর্মেন্দ্র প্রধান পদত্যাগ না করলে কিংবা প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাঁকে অপসারণ না করলে আন্দোলন সারা দেশে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।”

 

তিনি আরও বলেন, দেশের শিক্ষা ব্যবস্থায় ব্যাপক সংস্কারের সময় এসেছে এবং সেই পরিবর্তনের দাবিতে আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।

 

উল্লেখ্য, নিট, সিবিএসই, সিইউইটি ও এসএসসিসহ বিভিন্ন ভর্তি ও নিয়োগ পরীক্ষায় অনিয়মের অভিযোগের প্রতিবাদে তরুণদের উদ্যোগে গড়ে ওঠে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’। শুরুতে এটি অনলাইনভিত্তিক আন্দোলন হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলেও বর্তমানে তা মাঠপর্যায়ের কর্মসূচিতেও রূপ নিয়েছে।

 

সমাবেশ চলাকালে সম্ভাব্য উত্তেজনা এড়াতে ছয়জনকে আটক করে দিল্লি পুলিশ। পুলিশ জানিয়েছে, আন্দোলনের সমর্থক ও বিরোধীদের মধ্যে সংঘাতের আশঙ্কায় তাদের প্রতিরোধমূলক হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

 

এদিকে আন্দোলনকারীদের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে—সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন খবরকে গুজব বলে উড়িয়ে দিয়েছে দিল্লি পুলিশ। নাগরিকদের যাচাই-বাছাই ছাড়া কোনো তথ্য বিশ্বাস বা প্রচার না করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬