|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:১৬ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ০৬:৪৫ পূর্বাহ্ণ

বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন


বিয়ের দাবিতে প্রেমিকের বাড়িতে স্কুলছাত্রীর অনশন


আলমগীর হোসাইন, জামালপুর প্রতিনিধি:

 

 

 

জামালপুরের মাদারগঞ্জে বিয়ের দাবিতে এক বছর ধরে চলে আসা প্রেমের সম্পর্কের পর প্রেমিকের বাড়িতে অনশন শুরু করেছেন অষ্টম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রী (১৫)। অভিযুক্ত প্রেমিক শামীম আহমেদ (২০) তাকে ফুচকা খাওয়ানোর বাহানায় স্থানীয় বাজারে একা ফেলে কৌশলে গা-ঢাকা দিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

 

বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সন্ধ্যায় উপজেলার চরপাকেরদহ ইউনিয়নের তেঘরিয়া বাজার এলাকায় অভিযুক্ত প্রেমিকের বাড়িতে এই অনশনের ঘটনা ঘটে। অভিযুক্ত শামীম ওই এলাকার আলতাফুর রহমানের ছেলে। অনশনরত তরুণী ঢাকার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের অষ্টম শ্রেণির শিক্ষার্থী এবং মাদারগঞ্জ উপজেলার কড়ইচড়া ইউনিয়নের ঘুঘুমারী এলাকার স্বপন মিয়ার মেয়ে।

 

ভুক্তভোগী শিক্ষার্থীর দাবি, প্রায় এক বছর আগে শামীমের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। পরবর্তীতে সে গ্রামে এলে বিভিন্ন সময় শামীমের সঙ্গে তার দেখা-সাক্ষাৎ ও ঘনিষ্ঠতা তৈরি হয়। বৃহস্পতিবার দুপুরে শামীম তাকে মাদারগঞ্জ উপজেলার 'হাওয়াই রোড' এলাকায় ফুচকা খাওয়াতে নিয়ে যান। খাওয়া শেষে দুপুর আনুমানিক ১টার দিকে তেঘরিয়া বাজারে তাকে একা রেখে কৌশলে সটকে পড়েন শামীম। দীর্ঘ সময় খোঁজাখুঁজির পরও কোনো সন্ধান না পেয়ে বাধ্য হয়ে ওই দিন সন্ধ্যা ৫টার দিকে শামীমের বাড়িতে গিয়ে অবস্থান নেন তিনি।

 

ভুক্তভোগী আরও অভিযোগ করেন, "শামীমের বাড়িতে আসার পর আমার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি কেড়ে নিয়ে রিসেট দেওয়া হয়, যার ফলে আমাদের সম্পর্কের যাবতীয় ছবি ও প্রামাণিক তথ্য মুছে ফেলা হয়েছে। বর্তমানে আমার সামাজিক সম্মান বলতে আর কিছু অবশিষ্ট নেই, এই অবস্থায় পরিবারও আমাকে ফিরিয়ে নেবে না। আমি শামীমকে বিয়ে করে স্ত্রীর মর্যাদা চাই, অন্যথায় এখান থেকে সরব না।"

 

ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয় এবং উৎসুক জনতা শামীমের বাড়িতে ভিড় জমায়। তবে ঘটনার পর থেকেই অভিযুক্ত শামীম আত্মগোপনে রয়েছেন।

 

বিষয়টি নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দা জাকির হোসেন বলেন, "মেয়েটি দুপুর থেকেই বাজারে ঘোরাঘুরি করছিল এবং সন্ধ্যার দিকে শামীমের বাড়িতে অবস্থান নেয়। সম্পর্কের ক্ষেত্রে এককভাবে কাউকে দায়ী করা যায় না। অভিযোগ সত্য হলে এটি অত্যন্ত দুঃখজনক; বিষয়টি সামাজিক ও আইনিভাবে দ্রুত নিষ্পত্তি হওয়া উচিত।"

 

তবে সমস্ত অভিযোগ অস্বীকার করে শামীমের বাবা আলতাফুর রহমান মুঠোফোনে জানান, "আমার ছেলের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। স্থানীয় কিছু মহল অসৎ উদ্দেশ্যে টাকা দাবি করেছিল। এতে সাড়া না দিয়ে আমি মাদারগঞ্জ মডেল থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। পরবর্তীতে পুলিশ এসে মেয়েটিকে উদ্ধার করে তার পরিবারের কাছে হস্তান্তর করেছে।"

 

এ বিষয়ে জানতে চাইলে মাদারগঞ্জ মডেল থানার কর্মকর্তা (তদন্ত) আবুল হাসেম জানান, "বিষয়টি নিয়ে জলঘোলা করার কিছু নেই। মেয়েটি মূলত শামীমের সাথে ঘুরতে ও ফুচকা খেতে এসেছিল। পরে সে ছেলেটির বাড়িতে গিয়ে উঠলে সংবাদ পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে তাকে উদ্ধার করে থানায় নিয়ে আসে। পরবর্তীতে আইনগত প্রক্রিয়া শেষে তাকে তার মায়ের জিম্মায় হস্তান্তর করা হয়েছে।"

 

শারীরিক সম্পর্ক ও প্রমাণের ফোন রিসেটের অভিযোগ সম্পর্কিত বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি স্পষ্ট না করে সরাসরি থানায় এসে যোগাযোগের পরামর্শ দেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬