আসছে অনলাইন ক্লাসের ফিরতি দিন, বাড়তে পারে চাকরিজীবীদের সাপ্তাহিক ছুটি
মধ্যপ্রাচ্যে ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার চলমান যুদ্ধাবস্থায় বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে চরম অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়ছে বাংলাদেশের ওপর। এই আন্তর্জাতিক সংকট মোকাবিলা এবং দেশের অভ্যন্তরে জ্বালানি ও বিদ্যুৎ সাশ্রয় নিশ্চিত করতে নজিরবিহীন কিছু পদক্ষেপ নেওয়ার কথা ভাবছে সরকার।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ এবং শিক্ষা মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাপ্তাহিক ছুটি বাড়ানো, ঘরে বসে কাজ (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) এবং শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পুনরায় অনলাইন ক্লাস চালুর বিষয়টি এখন সরকারের উচ্চপর্যায়ে আলোচনার টেবিলে রয়েছে।
মঙ্গলবার মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের একাধিক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন যে, পরিস্থিতি সামাল দিতে কমপক্ষে আটটি বিশেষ কৌশল বা পদক্ষেপ নিয়ে প্রাথমিক পর্যালোচনা চলছে। আগামী বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) মন্ত্রিসভার গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে এসব বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে পারে।
জ্বালানি খরচ কমানোর প্রাথমিক উপায় হিসেবে অফিসের সময়সূচিতে বড় পরিবর্তনের প্রস্তাব করা হয়েছে। আলোচিত প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে রয়েছে।
বর্তমানে প্রচলিত দুই দিনের সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে আরও একদিন যুক্ত করে মোট তিন দিন ছুটি কার্যকর করা। সপ্তাহে অন্তত দুই দিন কর্মকর্তাদের সশরীরে অফিসে না এসে অনলাইনে বা 'ওয়ার্ক ফ্রম হোম' পদ্ধতিতে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। এতে যাতায়াত বাবদ জ্বালানি এবং অফিসের এসি ও বিদ্যুৎ খরচ সাশ্রয় হবে।
অফিসের মোট কর্মঘণ্টা কমিয়ে আনা অথবা কাজ দ্রুত শুরু করে বিকেলের মধ্যেই শেষ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে, যাতে দিনের আলোর সর্বোচ্চ ব্যবহার নিশ্চিত করা যায়।
করোনা মহামারির সময়কার অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগিয়ে আবারও শিক্ষা ব্যবস্থায় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ব্যবহারের চিন্তা করছে সরকার। শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন এ বিষয়ে গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি জানান, দেশের স্কুলগুলোতে সশরীরে ক্লাসের পাশাপাশি অনলাইন ক্লাস চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
স্কুলগুলো সপ্তাহে ৬ দিন খোলা থাকলেও অন্তত ৩ দিন ক্লাস হবে অনলাইনে। বিশেষ করে ঢাকা ও চট্টগ্রামের মতো বড় শহরগুলোতে অনলাইন ক্লাস চালুর ব্যাপারে জনমত জরিপ করা হয়েছে, যেখানে ৫৫ শতাংশ মানুষ সম্মতি জানিয়েছেন। এর ফলে যাতায়াতে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি সাশ্রয় হবে এবং যানজট কমবে।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের কর্মকর্তারা জানান, কেবল ছুটি বাড়ানোই নয়, জ্বালানি সাশ্রয়ে সামগ্রিকভাবে ৮টি পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। বিদ্যুৎ সাশ্রয়ে সরকারি কর্মচারীদের জন্য ইতিমধ্যে ১১ দফা নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। নতুন প্রস্তাবগুলোর মূল লক্ষ্য হলো আমদানিকৃত জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমিয়ে অভ্যন্তরীণ মজুতকে দীর্ঘস্থায়ী করা।
আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী হওয়ার পাশাপাশি সরবরাহ চেইনে বিঘ্ন ঘটছে। যুদ্ধের কারণে হরমোজ প্রণালীসহ গুরুত্বপূর্ণ নৌপথগুলো ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়ায় বাংলাদেশ সরকার আগাম সতর্কতা হিসেবে এই সংকোচন নীতি বা 'অস্টেরিটি মেজার্স' গ্রহণের পথে হাঁটছে। সরকারের শীর্ষ পর্যায় থেকে প্রধানমন্ত্রী ইতিমধ্যে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি ব্যবহারে মিতব্যয়ী হওয়ার কঠোর নির্দেশনা দিয়েছেন।
মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত কোনো প্রস্তাবই চূড়ান্ত হয়নি। বৃহস্পতিবারের মন্ত্রিসভার বৈঠকে প্রতিটি প্রস্তাবের ভালো-মন্দ দিক বিশ্লেষণ করা হবে। বিশেষ করে সরকারি কার্যক্রমের গতিশীলতা বজায় রেখে কীভাবে সর্বোচ্চ সাশ্রয় নিশ্চিত করা যায়, সেটিই হবে মূল চ্যালেঞ্জ।
সাধারণ মানুষ মনে করছেন, অনলাইন ক্লাস বা অফিসের সময়সূচি পরিবর্তন করা হলেও জনসেবা যেন ব্যাহত না হয়। তবে বৈশ্বিক সংকটকালীন সময়ে সরকারের এমন বাস্তবমুখী উদ্যোগকে সচেতন মহলে ইতিবাচক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
বিশ্ব রাজনীতির দাবানল থেকে দেশের অর্থনীতিকে রক্ষা করতে সরকার যে কৃচ্ছ্রসাধন নীতি গ্রহণ করতে যাচ্ছে, তা সময়ের দাবি। আগামী ২ এপ্রিলের বৈঠকের দিকেই এখন তাকিয়ে আছে পুরো দেশ। সাপ্তাহিক ছুটি বৃদ্ধি বা অনলাইন ক্লাসের সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে তা দেশের জীবনযাত্রায় নতুন এক অভিজ্ঞতার সংযোজন করবে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬