তিন মাসের শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ: অভিযুক্ত চাচি পলাতক, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক ৩
নরসিংদী প্রতিনিধি:
নরসিংদীর সদর উপজেলার মাধবদীতে তিন মাস বয়সী এক শিশুর পা মুচড়ে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে তার আপন চাচির বিরুদ্ধে। ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় তদন্তের স্বার্থে অভিযুক্ত নারীর স্বামীসহ পরিবারের তিন সদস্যকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ। তবে অভিযুক্ত চাচি লতা বেগম (৩২) ঘটনার পর থেকেই পলাতক রয়েছেন।
পুলিশ জানায়, গত ১১ জুন সদর উপজেলার আমদিয়া ইউনিয়নের পাইকাদি এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। অভিযোগ রয়েছে, পারিবারিক কলহের জেরে রাগের বশে লতা বেগম ঘরে ঢুকে তিন মাস বয়সী শিশু রিজিকের পা মুচড়ে দেন। এ সময় শিশুটির মা গোপনে মুঠোফোনে ঘটনাটি ভিডিও করেন। পরে গত ১১ জুলাই তিনি ভিডিওটি তার ভাই ইব্রাহিমের কাছে দেন। তবে কীভাবে এবং কার মাধ্যমে ভিডিওটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, তা তদন্ত করে দেখছে পুলিশ।
এদিকে, ভাইরাল ভিডিওতে শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার দাবি করা হলেও প্রাথমিক তদন্তে সেই তথ্যের সত্যতা মেলেনি বলে জানিয়েছে পুলিশ।
শিশুর বাবা জহিরুল হক জহির ও মা সাইফা জানান, ঘটনাটি তাদের পারিবারিক বিষয় এবং তিন দিন আগেই পারিবারিকভাবে এর মীমাংসা হয়েছে। তাদের দাবি, শিশুটি বর্তমানে সুস্থ রয়েছে, তার পা ভাঙেনি এবং কোনো ধরনের চিকিৎসা বা ব্যান্ডেজের প্রয়োজন হয়নি। এ ঘটনায় তাদের কোনো অভিযোগও নেই। একই সঙ্গে তারা অভিযোগ করেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মনগড়া তথ্য সংযুক্ত করে ভিডিওটি ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
তবে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং ঘটনার বিস্তারিত জানতে অভিযুক্ত লতা বেগমের স্বামী কাউছার আহমেদ, শ্বশুর আলমাছ মিয়া ও শাশুড়ি শেফালী বেগমকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। এ সময় একটি মুঠোফোনও জব্দ করেছে পুলিশ।
ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। তারা ঘটনার নিরপেক্ষ তদন্ত এবং অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন। পলাতক লতা বেগমকে গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
মাধবদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ কামাল হোসেন বলেন, প্রায় এক মাস আগে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার ভিডিও সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওতে শিশুর পা ভেঙে দেওয়ার দাবি করা হলেও তদন্তে এ বিষয়ে ভিন্ন তথ্য পাওয়া গেছে। ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন এবং ভিডিওটি কীভাবে ছড়িয়ে পড়েছে, সে বিষয়েও তদন্ত চলছে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬