|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৪ মে ২০২৬ ০২:১৪ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৩ মে ২০২৬ ১০:২৯ পূর্বাহ্ণ

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, অস্ত্র নিয়ে মব সৃষ্টির অভিযোগ বিএনপির


নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ, অস্ত্র নিয়ে মব সৃষ্টির অভিযোগ বিএনপির


ঝিনাইদহ প্রতিনিধি:

 

ঝিনাইদহে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখ্য সমন্বয়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর ডিম নিক্ষেপ ও হামলার ঘটনায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে। শুক্রবার জুমার নামাজের পর শহরের পুরাতন ডিসি কোর্ট মসজিদ এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পরে এ ঘটনায় ছাত্রদলের আট নেতার নাম উল্লেখ করে সদর থানায় মামলা করেছে এনসিপি।
 

ঘটনার একটি ভিডিও ফুটেজে এক যুবককে আগ্নেয়াস্ত্র সদৃশ কিছু উঁচিয়ে ধরতে দেখা যায়। আরেকজনকে সেটি সরিয়ে ফেলতেও দেখা যায়। স্থানীয়দের দাবি, ওই দুই যুবকের নাম আশিক ও সিয়াম উদ্দিন। তারা দুজনই নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অনুসারী বলে জানা গেছে। এনসিপির কেন্দ্রীয় যুগ্ম সদস্য সচিব তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা জানান, সিয়াম উদ্দিন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ঝিনাইদহ জেলার আগের কমিটিতে ছিলেন।
 

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর অভিযোগ, জুমার নামাজ শেষে ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় (ইবি) ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদের নেতৃত্বে দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তাঁর ওপর হামলা চালানো হয়। তবে ছাত্রদলের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, নাসীরুদ্দীনের অনুসারীদের একজন আগ্নেয়াস্ত্র প্রদর্শন করে মব সৃষ্টির চেষ্টা করেছেন। যদিও এনসিপি বলছে, সেটি আগ্নেয়াস্ত্র নয়, একটি লাঠি ছিল।
 

হামলার পর বেলা ৩টার দিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতাকর্মীরা ঝিনাইদহ সদর থানায় অবস্থান নেন। দীর্ঘ সময় থানায় থাকার পর কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতাদের ওপর হামলা, মারধর ও ছিনতাইয়ের অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন, সাবেক সভাপতি এস এম সমিনুজ্জামান সমিন, সাধারণ সম্পাদক শাহরিয়ার রাসেল, পৌর ছাত্রদলের সভাপতি মোবারেক হোসেন ইমন এবং শাহেদ আহম্মেদসহ আটজনের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। মামলায় আরও ১১০ থেকে ১১৫ জন অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে। মামলার বাদী এনসিপি নেতা তারেকুল ইসলাম তারেক রেজা।
 

মামলা দায়েরের পর রাত সাড়ে ৯টার দিকে এনসিপির নেতাকর্মীরা থানা থেকে বের হওয়ার চেষ্টা করলে ছাত্রদলের বিক্ষুব্ধ নেতাকর্মীরা বাধা দেন। এ সময় তারা মিছিল নিয়ে থানা চত্বরে এসে ইটপাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা ও সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আব্দুল মজিদ বিশ্বাসসহ অন্যান্য নেতাকর্মীরা সেখানে উপস্থিত হন। পরে পুলিশি নিরাপত্তায় নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীসহ এনসিপির নেতাদের থানা থেকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
 

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, জুমার নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় শাহেদ আহম্মেদ নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে কথা বলতে এগিয়ে যান। এ সময় পেছন দিক থেকে কয়েকজন যুবক নাসীরুদ্দীনকে লক্ষ্য করে ডিম নিক্ষেপ করেন। পরে উভয় পক্ষের মধ্যে হাতাহাতি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে এনসিপির কয়েকজন স্থানীয় নেতাকর্মী আহত হন।
 

এ ঘটনার পর বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার এলাকা থেকে ছাত্রদলের একটি বিক্ষোভ মিছিল বের হয়। মিছিলে কয়েকজনের হাতে লাঠিসোঁটা দেখা যায়। মিছিলটি শহরের পায়রা চত্বরে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে সংক্ষিপ্ত সমাবেশে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি ইমরান হোসেন বলেন, “৫ আগস্টের পর থেকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী দেশের বিভিন্ন স্থানে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করছেন।”
 

অন্যদিকে ইবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক শাহেদ আহম্মেদ গণমাধ্যমকে বলেন, তিনি নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর সঙ্গে কুরুচিপূর্ণ বক্তব্য না দেওয়ার বিষয়ে কথা বলতে গিয়েছিলেন। ডিম নিক্ষেপ বা সংঘর্ষের সঙ্গে ছাত্রদলের কোনো সম্পৃক্ততা নেই বলে দাবি করেন তিনি।
 

জেলা বিএনপির সভাপতি এম এ মজিদ জানান, ঘটনার সময় তিনি মহেশপুরে অবস্থান করছিলেন এবং বিষয়টি সম্পর্কে অবগত নন। ঝিনাইদহ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসাদউজ্জামান বলেন, এনসিপির পক্ষ থেকে আটজনের নাম উল্লেখ করে এবং শতাধিক অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা করা হয়েছে।
 

এদিকে নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর ওপর হামলার ঘটনায় নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬