|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৩০ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৭ এপ্রিল ২০২৬ ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ

মানবাধিকার কমিশনের আগের আইন ফেরাতে বিল


মানবাধিকার কমিশনের আগের আইন ফেরাতে বিল


অন্তর্বর্তী সরকারের তিনটি অধ্যাদেশ বাতিল করে ২০০৯ সালে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন আইন পুনর্বহালে জাতীয় সংসদে বিল উত্থাপন করা হয়েছে। সোমবার মাগরিবের নামাজের বিরতির পর ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অধিবেশনে আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান বিলটি উত্থাপন করলে বিরোধীদলীয় এমপিরা আপত্তি জানান। জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিলটি এখনই পাস হচ্ছে না। পরবর্তী সময়ে আলোচনা করা হবে। 

 

গত ১১ ডিসেম্বর উদ্বোধন করা সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় বিলুপ্তিতে এ সংক্রান্ত দুটি অধ্যাদেশ বাতিলে গতকাল বিল উত্থাপন করেছেন আইনমন্ত্রী। এতে আপত্তি জানান বিরোধীদলীয় এমপিরা। তখন তিনি বলেন, এ বিলটিতে বিশেষ কমিটির নোট অব ডিসেন্ট রয়েছে। পাসের আগে আলোচনা করা হবে। 

 

প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে কাউন্সিলের মাধ্যমে পরীক্ষা নিয়ে উচ্চ আদালতে বিচারক নিয়োগের অধ্যাদেশ বাতিলে বিল উত্থাপনে আইনমন্ত্রীকে অনুমতি নিতে বলেন ডেপুটি স্পিকার। কিন্তু আইনমন্ত্রী সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলে বিল উত্থাপন করেন। ভুল ধরা পড়লে স্পিকার তা অবহিত করেন। পরবর্তী সময়ে আইনমন্ত্রী আবারও সুপ্রিম কোর্ট সচিবালয় অধ্যাদেশ বাতিলে বিল উত্থাপনে অনুমতি প্রার্থনা করেন। 

 

যদিও সম্পূরক কার্যসূচিতে লেখা ছিল ‘বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫ রহিতকরণে একটি বিল’; পরে একই ভুল করেন আইনমন্ত্রী। ফলে বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ বাতিল বিল সংসদে উত্থাপন করা হয়নি আইনমন্ত্রীর বক্তৃতায়। আসাদুজ্জামান ভুল পড়লেও স্পিকার বলেন, ‘বিচারক নিয়োগ অধ্যাদেশ-২০২৫ রহিতকরণে একটি বিল’ উত্থাপিত হলো। 

 

আওয়ামী লীগ শাসনামলে গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাসহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ব্যাপক অভিযোগ থাকলেও তা বন্ধে তৎকালীন মানবাধিকার কমিশন পদক্ষেপ না নিয়ে সমালোচিত হয়েছিল। অধিকাংশ মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরকারি ও রাষ্ট্রীয় বাহিনী-সংস্থার বিরুদ্ধে থাকলেও ২০০৯ সালের আইনের ১৮ ধারায় বলা হয়েছিল, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করতে পারবে না মানবাধিকার কমিশন। মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ পেলে কমিশন শুধু সরকারের কাছে প্রতিবেদন চাইতে পারবে। এর পর প্রয়োজন মনে করলে কমিশন শাস্তির সুপারিশ করতে পারবে। কিন্তু অতীতে দেখা যেত, সরকার কমিশনের চিঠি আমলে নিত না। প্রতিবেদন চাইলে দিত না। কমিশনের সুপারিশ কার্যকর করত না। 

 

অন্তর্বর্তী সরকার এই আইনটি বাতিল করে। মানবাধিকার কমিশনকে ব্যাপক ক্ষমতা দেয় অধ্যাদেশে। অধ্যাদেশের ১৬ ধারায় বিধান করা হয়, মানবাধিকার লঙ্ঘনের যে কোনো অভিযোগ তদন্ত করতে পারবে কমিশন। যে কোনো সরকারি কর্মচারী, বাহিনী ও সংস্থার সদস্যের বিরুদ্ধে তদন্ত করতে পারবে। অভিযুক্ত ব্যক্তি সরকারি কর্মচারী বা বাহিনীর সদস্য হলে তাকে আদালতের অনুমতিতে গ্রেপ্তার করতে পারবে কমিশন। তবে সরকারের অনুমতি লাগবে না। কমিশনের আদেশ যে কোনো ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠান মানতে বাধ্য থাকবে। না মানলে সরকারি কর্মচারীদের ক্ষেত্রে অদক্ষতা ও অসদাচরণ হিসেবে বিবেচিত হবে। চাকরিবিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নিতে পারবে কমিশন। অধ্যাদেশে বিধান ছিল, আপিল বিভাগের নেতৃত্বে বাছাই কমিটি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যপদে নিয়োগের জন্য নাম মনোনীত করবে।


পুরোনো আইনে স্পিকারের সভাপতিত্বে আইনমন্ত্রী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী, আইন কমিশনের চেয়ারম্যান, মন্ত্রিপরিষদ সচিব এবং সরকারি ও বিরোধী দলের একজন করে এমপির সমন্বয়ে গঠিত কমিটি মানবাধিকার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং সদস্যপদে নিয়োগের নাম প্রস্তাব করত। গতকাল উত্থাপিত বিলটি পাস হলে মানবাধিকার কমিশনে নিয়োগ আবারও সরকারের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে।

 

৭টি বিল পাস, একটি বাছাইয়ে 
নির্বাচন কমিশনের ক্ষমতা বৃদ্ধি করে গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (সংশোধন) বিল, ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিলসহ ৭টি বিল গতকাল পাস করেছে সংসদ। জাতীয় সংসদ অধ্যাদেশ রহিত করার বিলও পাস হয়। তিন ফসলি জমিতে তামাক চাষ করা যাবে না– এ বিধান বাদ দিয়ে ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা বিল-২০২৬ জাতীয় সংসদে তোলেন আইনমন্ত্রী। এটি নিয়ে কোনো সিদ্ধান্ত জানাননি স্পিকার।


অন্তর্বর্তী সরকার গত ১৯ জানুয়ারি ভূমি ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ ও কৃষিভূমি সুরক্ষা অধ্যাদেশ করেছিল। জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি এ অধ্যাদেশের ৭(৫) ধারা সংশোধনের সুপারিশ করেছিল।


অধ্যাদেশের এ ধারায় বলা হয়েছে, তিন বা ততোধিক ফসলি কৃষিভূমিতে তামাক চাষ করা যাবে না। এক ও দুই ফসলি কৃষিজমিতেও পর্যায়ক্রমে তামাক চাষ সীমিত করা হবে।

 

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩টি অধ্যাদেশের মধ্যে ৯৮টি হুবহু এবং ১৫টি সংশোধিত আকারে সংসদে অনুমোদের সুপারিশ করেছিল জাতীয় সংসদের বিশেষ কমিটি। বাকি ২০টির মধ্যে ৪টি রহিত এবং ১৬টি পরবর্তী সময়ে আরও শক্তিশালী করে নতুন বিল আনার সুপারিশ করা হয়।

 

যে সাতটি বিল পাস হয়েছে, সেগুলোতে সংশোধনী না থাকায় সরাসরি ভোটে দেন স্পিকার। কণ্ঠভোটে বিলগুলো পাস হয়। সংসদে আালোচনাও হয়নি। ভোটার তালিকা (সংশোধন) বিল পাসের জন্য তোলার সময় পয়েন্ট অব অর্ডারে জামায়াতে ইসলামীর সাইফুল আলম খান বলেন, তিন দিন আগে বিলের কপি সংসদ সদস্যদের দেওয়ার কথা। কিন্তু তা হয়নি। তারা একটু আগে ৪৯ পৃষ্ঠার ডকুমেন্ট পেয়েছেন। তাহলে তারা কীভাবে কথা বলবেন?

 

জবাবে স্পিকার বলেন, কার্যপ্রণালি বিধি অনুযায়ী তিন দিন আগে দেওয়ার কথা ঠিক আছে। আবার স্পিকারের বিশেষ ক্ষমতাও আছে।
পরে চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ১৩৩টি অধ্যাদেশ নির্দিষ্ট ৯ এপ্রিলের মধ্যে পাস করতে হবে। কার্যউপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে, মঙ্গলবার থেকে সকাল-বিকেল দুবেলা অধিবেশন বসবে। প্রয়োজনে শুক্রবারও বৈঠক বসবে। সময়স্বল্পতার কারণে সব বিলের আগে কপি দেওয়া যায়নি। 

 

দুঃখ প্রকাশ করে চিফ হুইপ বলেন, যেসব বিলে বিশেষ কমিটিতে সবাই একমত হয়েছিলেন, সেগুলো এখন পাস হয়ে যাক। যেগুলোতে নোট অব ডিসেন্ট আছে বা সংশোধনী আছে সেগুলো আলাদাভাবে আগামীকালের মধ্যে সব উপস্থাপনের আপ্রাণ চেষ্টা করা হচ্ছে। 


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬