|
প্রিন্টের সময়কালঃ ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৪:২৭ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ১১ মে ২০২৬ ১২:৫৫ অপরাহ্ণ

মুক্তি পেলেও কঠোর নজরদারিতে থাকবেন সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন


মুক্তি পেলেও কঠোর নজরদারিতে থাকবেন সাবেক থাই প্রধানমন্ত্রী থাকসিন


থাইল্যান্ডের রাজনীতির আলোচিত নেতা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী থাকসিন সিনাওয়াত্রা কারাগার থেকে প্যারোলে মুক্তি পেয়েছেন। তবে মুক্তি পেলেও তাকে পুরোপুরি স্বাধীনভাবে চলাফেরার সুযোগ দেওয়া হয়নি, আগামী চার মাস তাকে সরকারের কঠোর নজরদারির মধ্যেই থাকতে হবে।

 

সোমবার সকালে ব্যাংককের ক্লোং প্রেম কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ৭৬ বছর বয়সি এই রাজনীতিককে মুক্তি দেওয়া হয়। মুক্তির খবর ছড়িয়ে পড়তেই কারাগারের বাইরে ভিড় করেন শত শত সমর্থক ও রাজনৈতিক অনুসারী। তারা লাল গোলাপ হাতে সাবেক প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানান। তার মুক্তিকে থাই রাজনীতিতে নতুন মোড় হিসেবে দেখছেন অনেকে।

 

টেলিকম ব্যবসা থেকে রাজনীতিতে আসা থাকসিন সিনাওয়াত্রা ২০০১ সালে প্রথমবার থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হন। তিনি দেশটির ইতিহাসে প্রথম নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী যিনি পূর্ণ মেয়াদে দায়িত্ব পালন করেন। তার শাসনামলে গ্রামীণ উন্নয়ন ও স্বল্প খরচে স্বাস্থ্যসেবা কর্মসূচির কারণে তিনি ব্যাপক জনপ্রিয়তা পান, বিশেষ করে উত্তর থাইল্যান্ডে।

 

তবে তার জনপ্রিয়তা ও নীতিগত অবস্থান নিয়ে রাজনৈতিক ও সামরিক মহলে তীব্র বিরোধ তৈরি হয়। এরই ধারাবাহিকতায় ২০০৬ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়। এরপর দীর্ঘ সময় তিনি দেশের বাইরে অবস্থান করেন।

 

২০২৩ সালে দেশে ফেরার পর দুর্নীতি ও ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগে তাকে আট বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয়। পরে থাই রাজা তার সাজা কমিয়ে এক বছর করেন। শারীরিক অসুস্থতার কারণে কারাগারের পরিবর্তে তিনি বেশিরভাগ সময় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন। পরবর্তীতে বয়স ও ভালো আচরণ বিবেচনায় তাকে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়।

 

তবে মুক্তির শর্ত অনুযায়ী তাকে আগামী চার মাস ইলেকট্রনিক নজরদারি ডিভাইস পরে নিজ বাসায় অবস্থান করতে হবে।

 

এদিকে, থাই রাজনীতিতে সিনাওয়াত্রা পরিবারের প্রভাব এখনও গুরুত্বপূর্ণ হলেও চ্যালেঞ্জও বাড়ছে। থাকসিনের মেয়ে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা ২০২৪ সালে দেশের সর্বকনিষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী হলেও এক বিতর্কিত ফোন কলকে কেন্দ্র করে ২০২৫ সালে আদালতের রায়ে তিনি পদ হারান। সর্বশেষ নির্বাচনে থাকসিনের দল ফেউ থাই পার্টিও বড় ধাক্কা খেয়ে তৃতীয় স্থানে নেমে যায়।

 

থাকসিনের এই মুক্তি থাইল্যান্ডের রাজনৈতিক ভবিষ্যতে নতুন সমীকরণ তৈরি করতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬