|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৪ মে ২০২৬ ০৮:৫০ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৪ মে ২০২৬ ০৬:১০ অপরাহ্ণ

ভাওয়াল উদ্যানে বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ: সিটি করপোরেশনকে হাইকোর্টের রুল


ভাওয়াল উদ্যানে বর্জ্য ফেলা নিষিদ্ধ: সিটি করপোরেশনকে হাইকোর্টের রুল


গাজীপুর প্রতিনিধি:


 

গাজীপুরের ভাওয়াল জাতীয় উদ্যান ও সংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমিতে বর্জ্য ফেলা এবং সেকেন্ডারি ট্রান্সফার স্টেশন (এসটিএস) নির্মাণ কার্যক্রমের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে এসব এলাকায় বর্জ্য ফেলা থেকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে বিরত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 

সোমবার বিচারপতি ভীষ্মদেব চক্রবর্তী ও বিচারপতি আবদুর রহমানের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বিভাগের একটি ডিভিশন বেঞ্চ এ আদেশ দেন।
 

আদালত অন্তর্বর্তী আদেশের পাশাপাশি একটি রুল জারি করে জানতে চেয়েছেন, জাতীয় উদ্যানসংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অননুমোদিতভাবে এসটিএস নির্মাণ এবং বিভিন্ন স্থানে বর্জ্য ফেলা বন্ধে সংশ্লিষ্টদের ব্যর্থতা কেন অবৈধ ও জনস্বার্থবিরোধী ঘোষণা করা হবে না। একই সঙ্গে উদ্যান ও বনভূমির ক্ষতির জন্য গাজীপুর সিটি করপোরেশনকে কেন ক্ষতিপূরণ দিতে নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা ব্যাখ্যা করতে বলা হয়েছে।
 

রুলে আরও জানতে চাওয়া হয়েছে, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং বন অধিদপ্তরকে উদ্যান ও বনভূমির সীমানা নির্ধারণ, প্রাকৃতিক বন ও বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল পুনরুদ্ধার, পর্যটন নিয়ন্ত্রণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর নজরদারি ব্যবস্থা চালুর নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না।
 

বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) দায়ের করা জনস্বার্থমূলক রিটের (নং–৫০৯৮/২০২৬) প্রাথমিক শুনানি শেষে আদালত এ আদেশ দেন। বেলার পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট মিনহাজুল হক চৌধুরী। তাকে সহায়তা করেন অ্যাডভোকেট রুমানা শারমিন ও তৌহিদুল আলম।
 

মামলার বিবাদীদের মধ্যে রয়েছেন স্থানীয় সরকার বিভাগ ও পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক, বন অধিদপ্তরের প্রধান বন সংরক্ষক, গাজীপুরের জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার এবং গাজীপুর সিটি করপোরেশনের প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
 

রিট আবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে গাজীপুর সিটি করপোরেশন উদ্যানের মূল ফটকসংলগ্ন এলাকা ও সীমানা প্রাচীরের পাশে বিভিন্ন স্থান থেকে সংগৃহীত বর্জ্য ফেলে আসছে। এতে উদ্যানের পরিবেশ, প্রতিবেশব্যবস্থা, বন্যপ্রাণীর আবাসস্থল ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। পাশাপাশি মহাসড়কে বর্জ্য ছড়িয়ে পড়ে জনদুর্ভোগ সৃষ্টি করছে।
 

এর আগে বন অধিদপ্তরের হস্তক্ষেপে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে কিছু সময়ের জন্য বর্জ্য ফেলা বন্ধ থাকলেও সম্প্রতি তা আবার শুরু হয়। একই সঙ্গে উদ্যানসংলগ্ন সংরক্ষিত বনভূমি ও ব্যক্তিমালিকানাধীন জমিতে অননুমোদিতভাবে এসটিএস নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়।
 

পরিবেশ মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ উপেক্ষা করে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠার পর পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সুরক্ষায় বেলা আদালতের শরণাপন্ন হয়।
 

উল্লেখ্য, গত ২৩ এপ্রিল একটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বিষয়টি সামনে আসে, যেখানে নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে উদ্যানসংলগ্ন এলাকায় বর্জ্যের ভাগাড় গড়ে তোলার অভিযোগ তুলে ধরা হয়।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬