|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৯ মে ২০২৬ ১১:২১ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৯ মে ২০২৬ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ

ইরানের হাতে এখনও ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে


ইরানের হাতে এখনও ৭০ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র মজুত রয়েছে


যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনকে গোপনে জানিয়েছে যে, ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের তুলনায় এখনও তার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের প্রায় ৭০ শতাংশ এবং উৎক্ষেপণযানের প্রায় ৭৫ শতাংশ ধরে রাখতে সক্ষম হয়েছে। মার্কিন নৌ অবরোধের চাপ সত্ত্বেও ইরান আরও তিন থেকে চার মাস টিকে থাকার সক্ষমতা রাখে বলে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা (সিআইএ) মনে করে।

 

গত সপ্তাহে প্রশাসনের শীর্ষ নীতিনির্ধারকদের কাছে দেওয়া এই গোপন প্রতিবেদনটি বর্তমান যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি ও সময়কাল নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলেছে। ট্রাম্প প্রশাসন যেখানে যুদ্ধকে দ্রুত ও বড় বিজয় হিসেবে দেখাতে চাইছে, সেখানে সিআইএর এই মূল্যায়ন বাস্তবতা অনেক বেশি জটিল বলে ইঙ্গিত করছে।

 

ওয়াশিংটন পোস্টের খবর অনুসারে, সিআইএ মনে করছে ইরান তার ভূগর্ভস্থ অধিকাংশ ক্ষেপণাস্ত্র সংরক্ষণাগার পুনরুদ্ধার করতে পেরেছে। ক্ষতিগ্রস্ত ক্ষেপণাস্ত্র মেরামত করা হয়েছে এবং যুদ্ধের শুরুতে প্রস্তুত থাকা নতুন ক্ষেপণাস্ত্রগুলোও এখন তাদের অস্ত্রভান্ডারে যুক্ত হয়েছে। এতে ইরানের পাল্টা হামলার সক্ষমতা এখনও উল্লেখযোগ্য পরিমাণে টিকে আছে।

 

এই তথ্য মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর সাধারণ প্রবণতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ। তারা সাধারণত প্রশাসনের প্রকাশ্য আশাবাদী বক্তব্যের চেয়ে অনেক বেশি সতর্ক ও বাস্তবসম্মত মূল্যায়ন দিয়ে থাকে।

 

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প গত বুধবার হোয়াইট হাউসে বলেছেন, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা “প্রায় ধ্বংস হয়ে গেছে” এবং তাদের হাতে মাত্র ১৮-১৯ শতাংশ ক্ষেপণাস্ত্র অবশিষ্ট আছে। কিন্তু সিআইএর অনুমান অনেক বেশি বড় সংখ্যায় (৭০ শতাংশ) ইরানের শক্তি টিকে থাকার কথা বলছে। এই বৈপরীত্য প্রশাসনের অভ্যন্তরীণ তথ্যপ্রবাহ ও বাস্তবতার মধ্যে একটি স্পষ্ট ফারাক তুলে ধরেছে।

 

তাঁরা মনে করেন, ইরানের শাসকগোষ্ঠীর সামনে এখন জনগণের দুর্ভোগ আরও বাড়ানো ছাড়া খুব বেশি বিকল্প নেই।

 

সিআইএর এই মূল্যায়ন থেকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত পাওয়া যায়। ইরানের সামরিক নেতৃত্ব ভূগর্ভস্থ অবকাঠামোর ওপর বেশি নির্ভর করে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুতি নিয়েছিল। ফলে পুরোপুরি ধ্বংস করা কঠিন হয়ে পড়েছে।

 

যদি ইরান সত্যিই ৩-৪ মাস টিকে থাকতে পারে, তাহলে যুদ্ধ দ্রুত সমাপ্তির পরিবর্তে একটি দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতে রূপ নিতে পারে, যা আঞ্চলিক অস্থিরতা বাড়াবে এবং তেলের দামকে আরও অস্থিতিশীল করবে। কূটনৈতিক চাপ বনাম সামরিক চাপ: বর্তমানে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ, মজুত হস্তান্তর এবং হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার মতো মূল দাবিগুলো মেনে নিতে অস্বীকৃতি জানিয়ে যাচ্ছে। এতে প্রশাসনের জন্য কূটনৈতিক জয়ের পথ কঠিন হয়ে যাচ্ছে।

 

ট্রাম্প প্রশাসন যুদ্ধকে “অবিশ্বাস্য সাফল্য” হিসেবে প্রচার করলেও, সিআইএর গোপন মূল্যায়ন দেখাচ্ছে যে পরিস্থিতি এখনও অনেক বেশি জটিল এবং অনিশ্চিত। ইরানের অবশিষ্ট ক্ষেপণাস্ত্র শক্তি এবং টিকে থাকার সক্ষমতা যুদ্ধের সময়কাল ও চূড়ান্ত ফলাফলকে প্রভাবিত করবে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ, তেলের প্রবাহ এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নির্ভর করছে এই সংঘাত কত দ্রুত এবং কোন শর্তে শেষ হয় তার ওপর।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬