|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০১:৫৫ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১২:১৭ অপরাহ্ণ

অপুষ্টির কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


অপুষ্টির কারণে হাম আক্রান্ত শিশুদের জটিলতা বাড়ছে: স্বাস্থ্যমন্ত্রী


নিজস্ব প্রতিবেদক


 

দেশে হাম পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠেছে এবং অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা হাম আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় চলে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
 

শনিবার দেশব্যাপী বিশেষ হাম-রুবেলা টিকাদান ক্যাম্পেইন-২০২৬-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, দেশব্যাপী হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচির আওতায় এ পর্যন্ত ১ কোটি ৮৫ লাখ ৮৩৩ শিশুকে টিকা দেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন টিকাদান কর্মসূচিতে ঘাটতির কারণে দেশে হাম আক্রান্ত শিশুর সংখ্যা বেড়েছে। এ সময়ে প্রায় এক হাজার শিশুর মৃত্যু হয়েছে বলেও জানান তিনি।
 

তিনি বলেন, ‘একটি শিশুর মৃত্যুও অত্যন্ত দুঃখজনক। এর ফলে একটি পরিবার অপূরণীয় ক্ষতির মুখে পড়ে।’
 

অপুষ্টিতে বাড়ছে জটিলতা

হাম আক্রান্ত শিশুদের মধ্যে অপুষ্টির সমস্যা প্রকট হয়ে উঠেছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, নিউমোনিয়া ও অপুষ্টি হাম আক্রান্ত শিশুদের মৃত্যুর অন্যতম কারণ। অপুষ্টিতে ভোগা শিশুরা হাম আক্রান্ত হওয়ার পর দ্রুত নিউমোনিয়ায় আক্রান্ত হয়ে গুরুতর অবস্থায় চলে যাচ্ছে।
 

তিনি জানান, এ পরিস্থিতিতে আইসিডিডিআরবির চিকিৎসক চিশতি মাত্র ১৫০ টাকা ব্যয়ে বোতলভিত্তিক সিপ্যাপ পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন। স্বাভাবিকভাবে অক্সিজেন নিতে না পারা শিশুদের এই পদ্ধতিতে অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। এতে অনেক শিশুকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
 

বাদ পড়া শিশুদের খুঁজে টিকা

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, ভিটামিন এ ক্যাপসুল কর্মসূচিতে ২ কোটি ২৫ লাখ শিশুকে অন্তর্ভুক্ত করা হলেও হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচিতে টিকা পেয়েছিল প্রায় ১ কোটি ৮৫ লাখ শিশু। দুই কর্মসূচির মধ্যে প্রায় ৪০ লাখ শিশুর ব্যবধানের বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে বাদ পড়া শিশুদের শনাক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়।
 

এরপর প্রায় ১৪ লাখ শিশুকে শনাক্ত করে টিকা দেওয়া হয়েছে। তবে দেশে হাম পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে না আসায় নতুন করে ক্যাচআপ টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে।
 

তিনি বলেন, ইউনিসেফ ১০ দিনের মধ্যে আরও ৪০ লাখ ডোজ টিকা সরবরাহ করেছে। আগের মজুতের সঙ্গে নতুন টিকা মিলিয়ে এবার ৩৪ লাখ শিশুকে লক্ষ্য করে ক্যাচআপ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে। এর মধ্যে ১০ লাখ নবজাতক এবং ২৪ লাখ আগে টিকা থেকে বাদ পড়া শিশু রয়েছে।
 

ইউনিয়নে ক্যাম্প, সন্ধ্যার পরও টিকা

শনিবার থেকে দেশের প্রতিটি ইউনিয়নে ক্যাম্প স্থাপন করে টিকাদান কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। প্রতিটি উপজেলায় প্রশাসন, সিভিল সার্জন, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সমন্বয়ে এ কার্যক্রম পরিচালিত হবে।
 

কর্মজীবী মায়েদের সুবিধার কথা বিবেচনায় নিয়ে ছুটির দিনেও টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে। সন্ধ্যার পরও টিকাদান কার্যক্রম চলবে। ৬ মাস থেকে ৫৯ মাস বয়সী সব শিশুকে এ ক্যাম্পেইনের আওতায় আনার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
 

স্বাস্থ্যমন্ত্রী জানান, বর্তমান কর্মসূচি শেষে প্রায় ১০ লাখ ডোজ টিকা মজুত থাকবে। ইতোমধ্যে বিভিন্ন উপজেলায় ৪৩ লাখ ডোজ টিকা বিতরণ করা হয়েছে। পরবর্তী কর্মসূচিতে এসব টিকা ব্যবহার করা হবে।
 

দেশের চিকিৎসকদের প্রশংসা করে তিনি বলেন, বিভিন্ন মহামারি ও জরুরি পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের চিকিৎসকরা নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করেছেন। করোনাকালেও চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ অবদান ছিল।
 

বাংলাদেশ ঘনবসতিপূর্ণ হওয়ায় হাম দ্রুত ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, একজন আক্রান্ত শিশুর সংস্পর্শে এলে অন্য শিশুরাও সহজে সংক্রমিত হতে পারে। তাই হাম-রুবেলা টিকাদান কর্মসূচি সফল করতে গণমাধ্যমসহ সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রয়োজন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬