সরকারি নিয়োগ ও পদোন্নতিতে দায়িত্বশীলদের সম্মানি বাড়ল, জারি নতুন পরিপত্র
ঢাকা প্রেস প্রতিবেদক
সরকারি মন্ত্রণালয়, বিভাগ, অধিদপ্তর, পরিদপ্তর ও দপ্তরের নিয়োগ এবং পদোন্নতি-সংক্রান্ত কার্যক্রমে দায়িত্ব পালনকারী কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সম্মানি ও আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হার পুনর্নির্ধারণ করেছে সরকার। নতুন পরিপত্রে কয়েকটি ক্ষেত্রে সম্মানির পরিমাণ বৃদ্ধি, নতুন ব্যয় খাত সংযোজন এবং কিছু বিদ্যমান হার অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার অর্থ বিভাগ এ-সংক্রান্ত একটি পরিপত্র জারি করে। এতে স্বাক্ষর করেন অর্থ বিভাগের যুগ্মসচিব ড. মো. ফেরদৌস আলম। পরিপত্র জারির দিন থেকেই নতুন হার কার্যকর হয়েছে। একই সঙ্গে এ বিষয়ে ২০২৫ সালের ২০ অক্টোবর জারি করা অর্থ বিভাগের ৩৩০ নম্বর স্মারক বাতিল করা হয়েছে।
নতুন নির্দেশনা অনুযায়ী, প্রশ্নপত্র প্রণয়নের সম্মানি আগের মতোই জনপ্রতি ৬ হাজার টাকা বহাল রাখা হয়েছে। একই হারে বিভাগীয় নির্বাচন বা পদোন্নতি কমিটির সদস্যরা প্রতি সভায় এবং মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা বোর্ডের সদস্য ও বিশেষজ্ঞরা প্রতিদিন ৬ হাজার টাকা করে সম্মানি পাবেন।
উত্তরপত্র মূল্যায়নের ক্ষেত্রেও আগের হার বহাল রাখা হয়েছে। পূর্ণ উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ১৩০ টাকা এবং পূর্ণ অবজেকটিভ টাইপ উত্তরপত্র পরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ৩৫ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। তবে নতুনভাবে উত্তরপত্র নিরীক্ষণের জন্য প্রতি খাতায় ১৫ টাকা সম্মানি প্রদানের বিধান যুক্ত হয়েছে।
পরীক্ষা পরিচালনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত কর্মচারীদের দৈনিক সম্মানি বাড়ানো হয়েছে। নতুন হার অনুযায়ী, ৯ম গ্রেড ও তদূর্ধ্ব কর্মকর্তারা পাবেন ১ হাজার ৮০০ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার ২০০ টাকা। ১০ম থেকে ১৬তম গ্রেডের কর্মচারীরা পাবেন ১ হাজার ২০০ টাকা, যা আগে ছিল ১ হাজার টাকা। আর ১৭তম থেকে ২০তম গ্রেডের কর্মচারীদের সম্মানি ৮০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১ হাজার টাকা করা হয়েছে।
খাতা পুনর্মূল্যায়নের জন্য প্রতি খাতায় ৫০ টাকা, লিখিত পরীক্ষা কেন্দ্রের প্রতিষ্ঠান প্রধান বা তার মনোনীত সমন্বয়কারীর জন্য ৩ হাজার ৫০০ টাকা এবং কেন্দ্র পরিদর্শকের জন্য দৈনিক ১ হাজার ৮০০ টাকা সম্মানি আগের মতোই বহাল রাখা হয়েছে।
নতুন পরিপত্রে লিখিত পরীক্ষার বিভিন্ন আনুষঙ্গিক ব্যয়ের হারও নির্ধারণ করা হয়েছে। আসনবিন্যাস বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৩ টাকা, উত্তরপত্র প্রস্তুতে (কাগজসহ) ১২ টাকা এবং প্রশ্নপত্র প্রস্তুত, কাগজ, ডুপ্লিকেটিং মেশিন ভাড়া (প্রযোজ্য ক্ষেত্রে) ও কালি বাবদ পরীক্ষার্থীপ্রতি ৫ টাকা ব্যয়ের অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। আগে উত্তরপত্র প্রস্তুতের জন্য পরীক্ষার্থীপ্রতি ৬ টাকা বরাদ্দ ছিল।
এ ছাড়া নতুনভাবে ওএমআর টপশিট মুদ্রণ ও ক্রয়ের জন্য ইউনিটপ্রতি ২০ টাকা, লিথোগ্রাফিক কোডিং-ডিকোডিংয়ের জন্য ৫ টাকা এবং প্রচলিত কোডিং-ডিকোডিংয়ের জন্য ৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
বিবিধ আনুষঙ্গিক ব্যয়ের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। ট্রাঙ্ক, তালা-চাবি, কাগজ, কলমসহ অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রীর জন্য সর্বোচ্চ ১৫ হাজার টাকা ব্যয় করা যাবে, যা আগে ছিল ৮ হাজার টাকা।
পরিপত্রে ব্যয় নির্বাহের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্তও আরোপ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, নিয়োগ কার্যক্রমের সব ব্যয় নির্ধারিত বাজেট থেকেই বহন করতে হবে এবং এ জন্য অতিরিক্ত বরাদ্দ দাবি করা যাবে না। একই দিনে একাধিক পদের জন্য প্রশ্নপত্র প্রণয়ন বা নির্বাচন কমিটির একাধিক সভা হলেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি একটি সম্মানির বেশি পাবেন না। একইভাবে একই কার্যদিবসে একাধিক লিখিত, মৌখিক বা ব্যবহারিক পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হলেও সর্বোচ্চ দুটি সম্মানি প্রাপ্য হবে।
পরীক্ষাকেন্দ্র হিসেবে কোনো স্কুল বা কলেজ ব্যবহার করা হলে ভেন্যু ফি বা অন্য কোনো ধরনের চার্জ প্রদান করা যাবে না বলেও নির্দেশনায় উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ছাড়া প্রশ্নপত্র প্রস্তুতি, উত্তরপত্র মূল্যায়ন, ওএমআর টপশিট, কোডিং-ডিকোডিংসহ সব ব্যয় প্রকৃত প্রয়োজনের ভিত্তিতে অর্থ বিভাগের নির্ধারিত সীমার মধ্যে রাখতে হবে। সব ধরনের আর্থিক বিধি, সরকারি ক্রয়বিধি ও নিরীক্ষা নির্দেশনা অনুসরণ এবং যথাযথ ভাউচার-রসিদ সংরক্ষণ বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। কোনো আর্থিক অনিয়মের দায় সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বহন করতে হবে।
পরিপত্রে আরও স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, নতুন নির্দেশনা কার্যকরের আগে কোনো সময়ের জন্য এ সংক্রান্ত অতিরিক্ত আর্থিক সুবিধা বা বকেয়া দাবি করা যাবে না।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬