|
প্রিন্টের সময়কালঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ ০৮:৩১ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ৩১ মার্চ ২০২৬ ০৫:২১ অপরাহ্ণ

১৮২১ চিকিৎসকের পদোন্নতি জটিলতা নিরসনের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর


১৮২১ চিকিৎসকের পদোন্নতি জটিলতা নিরসনের আশ্বাস প্রধানমন্ত্রীর


বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) স্বাস্থ্য ক্যাডারের দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত ক্ষোভ ও পদোন্নতি বঞ্চিত চিকিৎসকদের দাবির বিষয়ে সরাসরি হস্তক্ষেপ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। 

 

মঙ্গলবার দুপুরে সচিবালয় প্রাঙ্গণে এক নাটকীয় ও আবেগঘন পরিবেশে তিনি ১৮২১ জন চিকিৎসকের পদোন্নতি সংক্রান্ত সমস্যা আলোচনার মাধ্যমে সমাধানের বলিষ্ঠ আশ্বাস দেন। প্রধানমন্ত্রীর এই ইতিবাচক সাড়ায় দীর্ঘদিনের বঞ্চনার শিকার চিকিৎসকদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।

 

মঙ্গলবার সকাল থেকেই বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের বঞ্চিত চিকিৎসকদের একটি বড় অংশ সচিবালয়ের ভেতরে ৫ নম্বর ফটকের পাশে অবস্থান নেন। তারা শান্তিপূর্ণভাবে দাঁড়িয়ে তাদের দাবিসম্বলিত প্ল্যাকার্ড প্রদর্শন করে প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের চেষ্টা করেন।

 

বেলা গড়িয়ে দুপুরে যখন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সচিবালয়ের দাপ্তরিক কাজ শেষ করে গাড়িতে চড়ে বের হচ্ছিলেন, ঠিক সেই মুহূর্তেই ঘটে অভাবনীয় ঘটনা। ৫ নম্বর গেট দিয়ে বেরিয়ে যাওয়ার ঠিক আগমুহূর্তে প্রধানমন্ত্রী তার গাড়ি থামানোর নির্দেশ দেন। তিনি গাড়ি থেকে নেমে সরাসরি বঞ্চিত চিকিৎসকদের প্রতিনিধি দলের কাছে এগিয়ে যান। একজন সরকার প্রধানের এমন স্বতঃস্ফূর্ত পদক্ষেপে সেখানে উপস্থিত চিকিৎসকরা অভিভূত হয়ে পড়েন।

 

প্রধানমন্ত্রী চিকিৎসকদের কাছে আসার পর প্রতিনিধি দলের সদস্যরা অত্যন্ত সংক্ষিপ্ত ও সুশৃঙ্খলভাবে তাদের বঞ্চনার চিত্র তুলে ধরেন। প্রতিনিধি দল জানায়:

 

১৮২১ জনের ভাগ্য অনিশ্চিত: বিসিএস স্বাস্থ্য ক্যাডারের ১৮২১ জন যোগ্য কর্মকর্তা দীর্ঘ সময় ধরে পদোন্নতি থেকে বঞ্চিত রয়েছেন, যা তাদের পেশাগত জীবনে স্থবিরতা তৈরি করেছে।

 

ক্যাডার বৈষম্য: অন্যান্য ক্যাডারের তুলনায় স্বাস্থ্য ক্যাডারে পদোন্নতির গতি অত্যন্ত ধীর, যার ফলে জ্যেষ্ঠতা থাকা সত্ত্বেও তারা কাঙ্ক্ষিত পদে যেতে পারছেন না।

 

মানসিক চাপ: পদোন্নতি না হওয়ায় চিকিৎসকদের মধ্যে কাজের স্পৃহা কমছে এবং এক ধরণের পেশাগত হীনম্মন্যতা তৈরি হচ্ছে।

 

চিকিৎসকদের কথা ধৈর্যসহকারে শোনার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান সহমর্মিতা প্রকাশ করেন। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে প্রতিনিধি দলকে আশ্বস্ত করে বলেন, আপনাদের দাবির বিষয়টি আমি অবগত হলাম। এটি নিয়ে আমরা সংশ্লিষ্ট দপ্তরের সাথে বসে আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত একটি সম্মানজনক সমাধানের পথ খুঁজব।

 

প্রধানমন্ত্রীর এই ব্যক্তিগত আশ্বাসকে ঐতিহাসিক হিসেবে দেখছেন স্বাস্থ্য খাতের বিশেষজ্ঞরা। ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে আমলাতান্ত্রিক জটিলতায় চিকিৎসকদের পদোন্নতির ফাইল আটকে থাকলেও, এবার খোদ প্রধানমন্ত্রী সরাসরি আশ্বাস দেওয়ায় দ্রুত প্রজ্ঞাপন জারির সম্ভাবনা দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

 

উল্লেখ্য, এদিন প্রধানমন্ত্রী শুধু চিকিৎসকদের সাথেই কথা বলেননি, বরং ক্রীড়াঙ্গনের বিষয়েও ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছেন। নারী ফুটবল দলের অধিনায়ক সাবিনা খাতুনের একটি আবদারের প্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী ইতিবাচক সাড়া দিয়ে বলেছেন, কাজ প্রায় শেষ পর্যায়ে (অলমোস্ট ডান)। একই মেজাজে তিনি চিকিৎসকদের সমস্যা সমাধানেরও প্রতিশ্রুতি দেন।

 

প্রসাশনিক সূত্রে জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর এই নির্দেশনার পর স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ১৮২১ জন চিকিৎসকের নথিপত্র পুনঃমূল্যায়নের কাজ শুরু করতে পারে। বিশেষ করে জ্যেষ্ঠতা ও মেধার ভিত্তিতে যারা পদোন্নতির তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন, তাদের বিষয়টি অগ্রাধিকার পাবে।

 

সচিবালয়ের ৫ নম্বর গেটে আজকের এই ঘটনাটি কেবল একটি প্রশাসনিক আশ্বাস নয়, বরং রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্বের সাথে সরাসরি পেশাজীবীদের মেলবন্ধনের একটি দৃষ্টান্ত। চিকিৎসকরা মনে করছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এই সরাসরি হস্তক্ষেপে দীর্ঘদিনের 'পদোন্নতি জট' খুলবে এবং স্বাস্থ্য ক্যাডারে কাজের পরিবেশ আরও উন্নত হবে। এখন দেখার বিষয়, প্রধানমন্ত্রীর এই আশ্বাস কত দ্রুত আনুষ্ঠানিক সরকারি আদেশে রূপ নেয়।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬