সালমান শাহ হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় বাড়ল
বিনোদন ডেস্ক
চিত্রনায়ক সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগে দায়ের করা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময় বাড়িয়েছেন আদালত। মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য মঙ্গলবার দিন ধার্য থাকলেও তা জমা দিতে পারেনি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পরে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জুয়েল রানা আগামী ৩০ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেন।
প্রসিকিউশন বিভাগের এসআই শাহ আলম এ তথ্য জানিয়েছেন। মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির ঢাকা মেট্রো দক্ষিণের পরিদর্শক মজিবুর রহমান নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।
মামলায় চিত্রনায়ক সালমান শাহর স্ত্রী সামিরা হকসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে। গত ৯ আগস্ট ঢাকার শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে অভিনেতা আশরাফুল হক ডনকে গ্রেপ্তার করে ইমিগ্রেশন পুলিশ। পরে তাকে পাঁচ দিনের রিমান্ডে নেয় সিআইডি। রিমান্ড শেষে গত ৯ সেপ্টেম্বর থেকে তিনি কারাগারে রয়েছেন।
সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে তার ভাই মোহাম্মদ আলমগীর কুমকুম গত বছরের ২০ অক্টোবর মামলাটি দায়ের করেন। মামলার অভিযোগে বলা হয়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর পূর্বপরিকল্পিতভাবে পরস্পরের যোগসাজশে সালমান শাহকে হত্যা করা হয়।
১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর ইস্কাটনের বাসায় মারা যান জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহ। তার প্রকৃত নাম চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন। মৃত্যুর পর তার বাবা কমরউদ্দিন আহমদ চৌধুরী প্রথমে অপমৃত্যুর মামলা করেন। পরে ছেলেকে হত্যা করা হয়েছে অভিযোগ করে ১৯৯৭ সালের ২৪ জুলাই মামলাটি হত্যা মামলায় রূপান্তরের আবেদন করেন তিনি।
এরপর আদালতের নির্দেশে সিআইডি তদন্ত করে ১৯৯৭ সালের ৩ নভেম্বর প্রতিবেদন দেয়। সেখানে সালমান শাহ আত্মহত্যা করেছেন বলে উল্লেখ করা হয়। ওই প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে তার বাবা রিভিশন মামলা করলে ২০০৩ সালের ১৯ মে মামলাটি বিচার বিভাগীয় তদন্তে পাঠানো হয়। দীর্ঘ তদন্তের পর ২০১৪ সালের ৩ আগস্ট দেওয়া প্রতিবেদনেও হত্যার অভিযোগ নাকচ করা হয়।
বাবার মৃত্যুর পর মামলাটি চালিয়ে যান নীলা চৌধুরী। ২০১৫ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি তিনি বিচার বিভাগীয় তদন্ত প্রতিবেদনের বিরুদ্ধে নারাজি দেন এবং ১১ জনের নাম উল্লেখ করে তাদের জড়িত থাকার অভিযোগ করেন।
পরবর্তীতে র্যাব ও পিবিআই মামলাটি তদন্ত করে। পিবিআই চার বছর তদন্ত শেষে ২০২০ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেয়। প্রতিবেদনে ৫৪ জনের জবানবন্দি ও বিভিন্ন আলামত পর্যালোচনার কথা উল্লেখ করে হত্যার অভিযোগের প্রমাণ পাওয়া যায়নি বলে জানানো হয়। পিবিআইয়ের প্রতিবেদনে সালমান শাহর আত্মহত্যার পেছনে পারিবারিক কলহ ও মানসিক যন্ত্রণার বিষয়ও উল্লেখ করা হয়।
২০২১ সালের ৩১ অক্টোবর ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মামুনুর রশীদ পিবিআইয়ের প্রতিবেদন গ্রহণ করে আসামিদের অব্যাহতির আদেশ দেন। পরে সালমান শাহর পরিবারের পক্ষ থেকে ওই আদেশের বিরুদ্ধে রিভিশন আবেদন করা হয়।
২০২২ সালের ১২ জুন ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালত রিভিশন আবেদন গ্রহণ করেন। এরপর গত ২০ অক্টোবর ঢাকার ষষ্ঠ অতিরিক্ত মহানগর দায়রা জজ মো. জান্নাতুল ফেরদৌস ইবনে হক রিভিশন আবেদন মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে সালমান শাহর বাবার অভিযোগ ও ঘটনায় জড়িত রিজভী আহমেদ ওরফে ফরহাদের জবানবন্দি সংযুক্ত করে হত্যা মামলার অভিযোগ তদন্তের জন্য রমনা মডেল থানাকে নির্দেশ দেওয়া হয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মামলাটি তদন্ত করছে সিআইডি। নির্ধারিত সময়ে প্রতিবেদন জমা না হওয়ায় আদালত নতুন করে ৩০ আগস্টের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের সময় নির্ধারণ করেছেন।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬