তিন সন্তানকে হারানোর পর মিলল বাবার মরদেহ
নিজস্ব প্রতিবেদক
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে মেঘনা নদীতে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজের চারদিন পর হেলালউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। সোমবার দুপুরে মেঘনা নদীর শাখা নদী মারিখালীর রতনপুর ব্রিজ এলাকা থেকে ভাসমান অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করে ফায়ার সার্ভিস ও বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ।
বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশের ইনচার্জ পরিদর্শক শাহ কামাল জানান, হেলালউদ্দিনের মরদেহ উদ্ধারের মধ্য দিয়ে ট্রলারডুবির ঘটনায় নিখোঁজ চারজনের উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। পরে হেলালউদ্দিনের বোনজামাই মোক্তার হোসেন মরদেহটি শনাক্ত করেন। আনুষ্ঠানিকতা শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
এর আগে শনিবার সকালে বৈদ্যেরবাজার এলাকার আল মোস্তফা ফ্যাক্টরির সামনে মেঘনা নদী থেকে হেলালউদ্দিনের তিন সন্তান সজীব হোসেন, সামিয়া আক্তার ও সামিন হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এছাড়া ট্রলারডুবির পরপরই রায়েশা বেগমের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল। এ নিয়ে দুর্ঘটনায় নিখোঁজ হওয়া পাঁচজনেরই মরদেহ উদ্ধার হলো।
গত বৃহস্পতিবার বিকেল ৩টার দিকে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়। এতে একই পরিবারের চারজনসহ পাঁচজন নিখোঁজ হন। দুর্ঘটনার সময় আমান সিমেন্ট কোম্পানির একটি ট্রলার আটজনকে উদ্ধার করে। নিখোঁজদের মধ্যে রায়েশা বেগমের মরদেহ ঘটনার প্রায় আধা ঘণ্টা পর উদ্ধার করা হয়।
জানা গেছে, কুমিল্লার হোমনা উপজেলার শ্রীমুদ্দি গ্রাম থেকে সোনারগাঁয়ের বৈদ্যেরবাজার ইউনিয়নের হাড়িয়া বৈদ্যেপাড়া গ্রামের শাহপরানের মেয়ে সাজিয়া আক্তারের বিয়েতে যোগ দিতে ১৩ জন আত্মীয়স্বজন ট্রলারে করে রওনা হন। তাদের সঙ্গে বিয়ের বাজার, দুটি গরু ও একটি খাসিও ছিল। পথে মেঘনা নদীর সোনাময়ী এলাকায় আমান সিমেন্ট কোম্পানির কাছে পৌঁছালে ঝড়ের কবলে পড়ে ট্রলারটি ডুবে যায়।
শুক্রবার ডুবে যাওয়া ট্রলার থেকে দুটি গরু ও একটি খাসি মৃত অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। ওই দিন রাত ৮টা পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিস ও কোস্টগার্ডের ডুবুরি দল মেঘনা নদীতে উদ্ধার অভিযান চালায়। নিখোঁজদের সন্ধান না পাওয়ায় পরে অভিযান স্থগিত করা হয়। এরপর নদীতে ভাসমান অবস্থায় একে একে সজীব, সামিয়া ও সামিনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এদিকে বৃহস্পতিবার রাতে উদ্ধার হওয়া রায়েশা বেগমের (৫৫) মরদেহ তার বড় ভাই আবুল কাশেমের কাছে হস্তান্তর করে বৈদ্যেরবাজার নৌ-ফাঁড়ি পুলিশ। রায়েশা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুর উপজেলার কালিকাপুর গ্রামের জাকির হোসেনের স্ত্রী।
হেলালউদ্দিনের বোনজামাই মোক্তার হোসেন জানান, পুলিশের কাছ থেকে হেলালউদ্দিনের মরদেহ গ্রহণ করা হয়েছে। দাফনের জন্য মরদেহ কুমিল্লার হোমনার শ্রীমুদ্দি গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হচ্ছে। এর আগে শনিবার হেলালউদ্দিনের দুই ছেলে ও এক মেয়ের মরদেহ দাফন করা হয়।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬