|
প্রিন্টের সময়কালঃ ১২ অক্টোবর ২০২৬ ০৩:১৬ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০২ জুলাই ২০২৬ ০৬:১২ অপরাহ্ণ

শিক্ষক-কর্মচারী সংকটে ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম, দুর্দশায় মুরাদনগর ডি.আর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়


শিক্ষক-কর্মচারী সংকটে ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম, দুর্দশায় মুরাদনগর ডি.আর সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়






সফিকুল ইসলাম,কুমিল্লা প্রতিনিধি:


কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলার একমাত্র সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মুরাদনগর দূর্গারাম (ডি.আর) সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক ও কর্মচারী সংকটে ভুগছে। গুরুত্বপূর্ণ একাধিক পদ বছরের পর বছর শূন্য থাকায় বিদ্যালয়টির শিক্ষা ও প্রশাসনিক কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। একসময় ফলাফল ও সুনামের জন্য পরিচিত প্রতিষ্ঠানটি বর্তমানে নানা সংকটে ঐতিহ্য হারানোর শঙ্কায় রয়েছে।

 

বিদ্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১৮৬৪ সালে প্রতিষ্ঠিত এবং ১৯৮৭ সালে জাতীয়করণ হওয়া এ বিদ্যালয়ে অনুমোদিত ১৭টি শিক্ষক পদের বিপরীতে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১১ জন। প্রধান শিক্ষক, সহকারী প্রধান শিক্ষক, ভৌতবিজ্ঞান, জীববিজ্ঞান ও তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি (আইসিটি) বিষয়ের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া গণিতের দুটি পদের বিপরীতে দায়িত্ব পালন করছেন একজন শিক্ষক। একইভাবে ইংরেজি ও ব্যবসায় শিক্ষা বিষয়ের দুটি করে পদের বিপরীতে রয়েছেন মাত্র একজন করে শিক্ষক।
 

শিক্ষক স্বল্পতার কারণে কর্মরত শিক্ষকদের অতিরিক্ত শ্রেণি নিতে হচ্ছে। এতে সময়মতো পাঠ্যক্রম শেষ করতেও হিমশিম খেতে হচ্ছে তাদের। গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে শিক্ষক না থাকায় অনেক শিক্ষার্থী বাধ্য হয়ে বাইরের প্রতিষ্ঠানের শিক্ষকদের কাছে প্রাইভেট পড়ছে, যা শিক্ষা ব্যয়ের বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।
 

শুধু শিক্ষক নয়, বিদ্যালয়টিতে কর্মচারী সংকটও প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনুমোদিত পাঁচটি কর্মচারী পদের মধ্যে মাত্র একটি পদ পূরণ রয়েছে। অফিস সহকারী, কম্পিউটার অপারেটর, ঝাড়ুদার ও নৈশপ্রহরীর পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য থাকায় প্রশাসনিক কার্যক্রম, পরিচ্ছন্নতা ও সার্বিক রক্ষণাবেক্ষণে চরম ভোগান্তি সৃষ্টি হয়েছে। অস্থায়ী কর্মচারীদের দিয়ে কার্যক্রম চালানো হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় যথেষ্ট নয়।
 

বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা জানান, নৈশপ্রহরী না থাকায় বিদ্যালয়ের বিভিন্ন কক্ষের জানালার থাই গ্লাসসহ মূল্যবান সামগ্রী চুরির ঘটনা প্রায়ই ঘটছে। এতে বিদ্যালয়ের অবকাঠামো ও সম্পদ রক্ষা করাও কঠিন হয়ে পড়েছে।
 

এদিকে, স্থানীয় অভিভাবকদের অভিযোগ, বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষক না থাকায় শিক্ষার্থীরা মানসম্মত শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। এর নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে শিক্ষার্থীদের ফলাফলেও। শিক্ষক সংকটের কারণে অনেক শিক্ষার্থী কোচিং ও প্রাইভেট শিক্ষার ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়েছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বাড়তি আর্থিক বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
 

এ পরিস্থিতিতে শিক্ষা কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখতে বিদ্যালয়ের শূন্য শিক্ষক ও কর্মচারী পদগুলো দ্রুত পূরণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন অভিভাবক, শিক্ষক ও স্থানীয় সচেতন মহল।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬