|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৩:২৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০২:১২ অপরাহ্ণ

সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশায় দুই মাসের সর্বোচ্চে ডলারের দর


সুদের হার বাড়ার প্রত্যাশায় দুই মাসের সর্বোচ্চে ডলারের দর


রয়টার্স


 

মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সুদের হার আরও বাড়তে পারে—এমন প্রত্যাশা এবং মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত ঘিরে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার মধ্যে আন্তর্জাতিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দর বেড়েছে। বুধবার ডলারের সূচক দুই মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে।
 

ছয়টি প্রধান মুদ্রার বিপরীতে ডলারের দর পরিমাপক সূচক ০.১৬ শতাংশ বেড়ে ১০০ দশমিক ৭১ পয়েন্টে দাঁড়িয়েছে। এর বিপরীতে ইউরোর দর জুলাইয়ের শেষভাগের পর সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে ১ দশমিক ১৪২৮২ ডলারে লেনদেন হয়েছে। ব্রিটিশ পাউন্ডের দর ছিল ১ দশমিক ৩৩১৬ ডলার।
 

ইরানকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সংঘাত, তেলের মূল্যবৃদ্ধি এবং মুদ্রাস্ফীতির আশঙ্কায় বিশ্বের প্রধান কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোর মুদ্রানীতি এখন বিনিয়োগকারীদের নজরের কেন্দ্রে রয়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভের কর্মকর্তাদের বক্তব্যে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে না এলে সুদের হার আরও বাড়ানোর সম্ভাবনার ইঙ্গিত পাওয়া গেছে।
 

ইনটাচ ক্যাপিটাল মার্কেটসের এশিয়া অঞ্চলের বৈদেশিক মুদ্রা বিভাগের প্রধান কিয়েরান উইলিয়ামস বলেন, সুদের হার বাড়ানোর প্রত্যাশা ডলারের জন্য যে সহায়তা তৈরি করেছে, তা আপাতত স্থায়ী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তবে বাজারে ফেডের পূর্বাভাসের চেয়েও কঠোর নীতি গ্রহণের প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। এখন সেই প্রত্যাশা বাস্তবে রূপ নিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক তথ্যেও তার প্রতিফলন প্রয়োজন।
 

এদিকে ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দিতে পারে—এমন সম্ভাবনার খবরে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম কমেছে। ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দুই সপ্তাহের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসায় তেলের বাজার থেকে ডলারের ওপর তৈরি হওয়া সমর্থনও কিছুটা দুর্বল হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
 

ব্রেন্ট ক্রুড ফিউচারের দাম ব্যারেলপ্রতি ৯৮ দশমিক ৪৬ ডলারে নেমে এসেছে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে সংঘাত শুরুর পর থেকে তেলের দাম ৩৭ শতাংশ বাড়লেও সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ কমা এবং সংঘাতের কূটনৈতিক সমাধানের সম্ভাবনা তৈরি হওয়ায় টানা ছয়টি সেশনে এর দাম কমেছে।
 

জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে চলমান আলোচনার মধ্য দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের সমাধানের পথ তৈরি হতে পারে—এমন আশাবাদও বাজারে প্রভাব ফেলছে। তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুদ্ধের অবসানে চুক্তি না হলে ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর পদক্ষেপের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। একই সঙ্গে জাতিসংঘে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতার মধ্যে শিগগিরই একটি চুক্তি হতে পারে বলেও ইঙ্গিত দিয়েছেন তিনি।
 

এমইউএফজির মুদ্রা বিশ্লেষক মাইকেল ওয়ান বলেন, তেলের দাম সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে কিছুটা কমে আসা বাজারের জন্য ইতিবাচক। তবে সংঘাতের সম্ভাব্য সমাধান নিয়ে অনিশ্চয়তা থাকায় সামনে কী পরিস্থিতি তৈরি হবে, তা এখনো স্পষ্ট নয়।
 

অন্যদিকে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের সম্ভাব্য গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের দিকেও নজর রাখছেন বিনিয়োগকারীরা। যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েন কমাতে দুই নেতা কী ধরনের পদক্ষেপ নেন, তার প্রভাবও বৈশ্বিক মুদ্রাবাজারে পড়তে পারে।
 

জাপানি ইয়েনও বিনিয়োগকারীদের নজরে রয়েছে। বুধবার প্রতি ডলারের বিপরীতে ইয়েনের দর ১৫৭ দশমিক ৫৮-এ অবস্থান করেছে। এর আগে ব্যাংক অব জাপান সুদের হার ৩১ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উন্নীত করলেও বাজারে ওই সিদ্ধান্তকে খুব বেশি কঠোর হিসেবে দেখা হয়নি। ফলে ইয়েনের দর নিয়ন্ত্রণে জাপানি কর্তৃপক্ষের সম্ভাব্য হস্তক্ষেপ নিয়েও ব্যবসায়ীদের মধ্যে সতর্কতা রয়েছে।
 

বিশ্লেষকদের মতে, ব্যাংক অব জাপান কত দ্রুত মুদ্রানীতি আরও কঠোর করবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। বিশেষ করে ফেডারেল রিজার্ভ সুদের হার বাড়ানোর পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেওয়ায় যুক্তরাষ্ট্র ও জাপানের সুদের হারের ব্যবধান এখনো বড়।
 

ছুটির কারণে বুধবার জাপানের বাজার বন্ধ রয়েছে। কম লেনদেনের এ সময়ে বাজারে অস্বাভাবিক ওঠানামা দেখা দিলে কর্তৃপক্ষ হস্তক্ষেপ করতে পারে বলেও মনে করছেন বিশ্লেষকেরা।
 

ইনটাচের কিয়েরান উইলিয়ামস বলেন, ব্যাংক অব জাপানের সুদের হার বাড়ানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের বন্ডের ইল্ডের ব্যবধান উল্লেখযোগ্যভাবে কমাতে পারেনি। কারণ, এর মাত্র দুই দিন আগে ফেডারেল রিজার্ভও একই পরিমাণে সুদের হার বাড়িয়েছিল।
 

এদিকে প্রতি ডলারে ১৬০ ইয়েনের স্তরটি এখনো বাজারে গুরুত্বপূর্ণ ঝুঁকি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। তবে জাপানি কর্মকর্তারা বাজারে হস্তক্ষেপের আগাম সংকেত দেওয়া বা নির্দিষ্ট কোনো বিনিময় হারকে লক্ষ্য করার নীতি থেকে সরে আসছেন বলে জানা গেছে। ফলে ইয়েনের দর নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা আগের তুলনায় দ্রুত এবং ভিন্ন কৌশলে হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬