পতুর্গালকে রুখে দিয়ে ডিআর কঙ্গোর চমক
সকালে লিওনেল মেসি হ্যাটট্রিক করে আর্জেন্টিনাকে জিতিয়েছেন। রাতে সবার চোখ ছিল ক্রিস্টিয়ানো রোনালদোর দিকে; রোনালদো পর্তুগালের হয়ে কী করেন। কিন্তু রোনালদো সবাইকে হতাশ করলেন।
রেফারি শেষ বাঁশি বাজাতেই হতাশায় মাথা নাড়লেন রোনালদো। কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকার পরই মাঠ ছাড়লেন। ভক্ত-সমর্থকদের প্রত্যাশার ধারেকাছেও যে পারফর্ম করতে পারেননি, সেটা তিনি নিশ্চয় অনুধাবন করতে পেরেছেন।
নিজে ভালো খেলতে না পারলেও দল জিতলে না হয় সান্ত্বনা খুঁজে পেতেন। হয়তো মুখে হাসি লেগে থাকত। কিন্তু সেসবের কিছুই হয়নি। ৫২ বছর পর বিশ্বকাপ খেলতে নেমেই পর্তুগালের সোনালি প্রজন্মকে চমকে দিল ডিআর কঙ্গো।
তারকায় ঠাসা পর্তুগিজদের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করল আফ্রিকার দেশটি। ফলে হতাশায় শুরু হলো রোনালদো-ফার্নান্দেজ-সিলভাদের বিশ্বকাপ অভিযান।
১৯৭৪ সালে বিশ্বকাপে অভিষেক হয়েছিল ডিআর কঙ্গোর। সেই সময় দেশটির নাম ছিল জায়ার। সেবার তারা গ্রুপ পর্বে তিন ম্যাচের তিনটিতে হেরে বিদায় নিয়েছিল।
তিন ম্যাচে তারা ১৪টি গোল হজম করলেও প্রতিপক্ষের জাল কাঁপাতে পারেনি একটিবারও। জায়ার থেকে ডিআর কঙ্গো নাম ধারণকারী দেশটা আজ নিজেদের বিশ্বকাপ ইতিহাসে প্রথম পয়েন্ট পেল। সেটাও পতুর্গালের মতো শিরোপার অন্যতম দাবিদার দলকে রুখে দিয়ে।
হিউস্টনের এনআরজি স্টেডিয়ামে ম্যাচের ৬ মিনিটেই জোয়াও নেভেসের গোলে এগিয়ে গিয়েছিল পর্তুগাল। তখন অনেকেই হয়তো ধরে নিয়েছিলেন, রবার্তো মার্তিনেজের দল বড় ব্যবধানে জিততে চলেছে।
কিন্তু ফুটবল বিশ্বকে চমকে দিয়ে প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ে সমতা আনে ডিআর কঙ্গো। গোল করেন ইংলিশ ক্লাব নিউক্যাসল ইউনাইটেডের ফরোয়ার্ড ইওয়ান উইসা। দ্বিতীয়ার্ধে কোনো গোল না হলে হতাশা নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় পর্তুগিজদের।
দ্বিতীয় ফুটবলার হিসেবে নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ খেলতে নেমেছেন রোনালদো। ডিআর কঙ্গোর বিপক্ষে পুরোটা সময়ই মাঠে ছিলেন। কিন্তু একটিও গোলের সুযোগ সৃষ্টি করতে পারেননি।
রোনালদোর মতোই ম্যাচের প্রায় পুরো সময় ক্লান্তিকর ফুটবল খেলেছে পর্তুগাল। প্রায় ৭৫ শতাংশ সময় বল দখলে রাখলেও তাদের আক্রমণে পরিকল্পনার অভাব ছিল স্পষ্ট। ছোট ছোট পাসে আক্রমণে উঠে বারবার খেই হারিয়েছে দলটি। এতে ডিআর কঙ্গোর জমাট রক্ষণের কৃতিত্ব থাকলেও রোনালদো-নেভেসদের সহজে বল হারানোর দায়ও আছে অনেক।
তবে শুরুটা দারুণ হয়েছিল পর্তুগিজদের। ৬ মিনিটে বাঁ পাশ থেকে ডি বক্সে মাপা ক্রস বাড়ান পেদ্রো নেতো। অনেকটা উঁচুতে লাফিয়ে জোরালো হেডে দলকে এগিয়ে নেন পিএসজির তরুণ মিডফিল্ডার নেভেস। এরপর পর্তুগিজদের আক্রমণের ধার একেবারে কমে যায়। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আর একটিও গোলের জন্য শট নিতে পারেনি তারা।
ডিআর কঙ্গোর পারফরম্যান্স বরং প্রশংসনীয় ছিল। পিছিয়ে পড়লেও ঘাবড়ে যায়নি তারা। বিরতির ঠিক আগে তারা পেয়ে যায় গোলও। ছোট করে নেওয়া কর্নারের পর সতীর্থের ক্রস বক্সে পেয়ে হেডে গোলটি করেন অরক্ষিত উইসা।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬