ইসরায়েল নাকি ইরান, আরব দেশগুলোকে যেকোন একটি বেছে নিতে হবে
মধ্যপ্রাচ্যে নতুন কূটনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিয়ে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর প্রতি কঠোর বার্তা দিয়েছেন ইসরায়েলে নিযুক্ত যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূত মাইক হাকাবি। তিনি বলেছেন, বর্তমান বাস্তবতায় আরব দেশগুলোর সামনে এখন দুটি পথ খোলা- ইসরায়েল অথবা ইরান, যেকোনো এক পক্ষকে বেছে নিতে হবে।
ইসরায়েলে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে হাকাবি দাবি করেন, খুব শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যের আরও কয়েকটি দেশ ‘আব্রাহাম অ্যাকর্ডস’-এ যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করবে।
তার এই মন্তব্য এমন সময়ে এসেছে, যখন গাজা, লেবানন, সিরিয়া ও ইরানে ইসরায়েলের সামরিক অভিযানের কারণে আরব বিশ্বজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ বিরাজ করছে। বিভিন্ন আরব দেশ বারবার ইসরায়েলি হামলার সমালোচনা করলেও মার্কিন রাষ্ট্রদূত বক্তব্যে ইরানকেই অঞ্চলের প্রধান হুমকি হিসেবে তুলে ধরেন।
ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে হাকাবি বলেন, ইরানের ধর্মভিত্তিক শাসনের কাছে ইসরায়েল শুধু একটি প্রাথমিক লক্ষ্য, তাদের আসল লক্ষ্য যুক্তরাষ্ট্র। তার ভাষায়, “ইসরায়েল তাদের কাছে কেবল শুরু, মূল টার্গেট হচ্ছে আমেরিকা।”
উপসাগরীয় দেশগুলোর উদ্দেশ্যে তিনি আরও বলেন, এখন তাদের ভাবতে হবে কোন পক্ষ থেকে বেশি হুমকির আশঙ্কা রয়েছে। তার দাবি, ইরান অতীতে হামলা ও অস্থিতিশীলতা তৈরি করেছে, অন্যদিকে ইসরায়েল সহযোগিতার হাত বাড়িয়েছে।
হাকাবি আরও বলেন, ইসরায়েল আরব দেশগুলোর ভূখণ্ড দখল করতে চায় না কিংবা তাদের লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে না। বরং আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার ভিত্তিতে সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার সুযোগ রয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের প্রভাব সীমিত করতে এবং ইসরায়েলের সঙ্গে আরব দেশগুলোর সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করতে নতুন কৌশল নিয়েছে। তবে ফিলিস্তিন ও লেবানন প্রশ্নে আরব বিশ্বের কঠোর অবস্থান এই পরিকল্পনার বড় বাধা হয়ে উঠতে পারে বলে মনে করছেন তারা।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬