মুক্তিযুদ্ধের চেতনা নিয়ে আওয়ামী লীগ, জুলাই চেতনা নিয়ে আরেক দল ব্যবসা করছে: ধর্মমন্ত্রী
তফছির আহাম্মদ, বিশেষ প্রতিনিধি, কুমিল্লা:
মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করে আওয়ামী লীগ ব্যবসা করেছে বলে মন্তব্য করেছেন ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ)। তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে আরেকটি দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে একই ধরনের রাজনৈতিক ব্যবসা করছে। বিএনপি কোনো চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চায় না বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার দুপুরে কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সে বীর মুক্তিযোদ্ধা ও অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের মধ্যে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে ধর্মমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে পুঁজি করে রাজনৈতিক ব্যবসা করেছে। এখন আরেকটি দল জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ব্যবহার করে একই ধরনের ব্যবসা করছে। আমরা কোনো চেতনাকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করতে চাই না। বরং মুক্তিযোদ্ধা থেকে শুরু করে জুলাই আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত সবার যথাযথ সম্মান ও মর্যাদা নিশ্চিত করতে চাই।
সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির ওপর গুরুত্বারোপ করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.) বলেছেন, সংখ্যালঘুদের জানমাল ও ইজ্জত রক্ষা করা সবার পবিত্র আমানত। এই আমানত যথাযথভাবে রক্ষা করতে হবে।
সনাতন ধর্মাবলম্বীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, গত নির্বাচনে আপনারা তাঁকে সহযোগিতা করেছেন। শুধু তাই নয়, তাঁর যাবজ্জীবন কারাদণ্ডের সময়ও মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছেন। এ জন্য তিনি তাঁদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন এবং সবাইকে মিলেমিশে থাকার আহ্বান জানান।
স্বাধীনতাযুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ধর্মমন্ত্রী বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি শহীদ জিয়াউর রহমান বীর উত্তমের অবদানের কথা স্মরণ করেন। তিনি বলেন, স্বাধীনতাযুদ্ধে অংশগ্রহণকারীদের যথাযথ সম্মান দিতে হবে। বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানও একজন মুক্তিযোদ্ধা ছিলেন।
তিনি আরও বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছেন, প্রত্যেককে তাঁর প্রাপ্য সম্মান দেওয়া হবে। মুক্তিযুদ্ধ ও জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের চেতনাকে ধারণ করেই দেশ পরিচালনা করতে হবে।
প্রধানমন্ত্রীর বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক উদ্যোগের কথা উল্লেখ করে কায়কোবাদ বলেন, সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন বৃদ্ধি, কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিন ও ধর্মীয় গুরুদের সম্মানী ভাতা, প্রতিবন্ধী ভাতা, প্রবাসী কার্ড এবং শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের খাল খনন কর্মসূচি পুনরায় চালুর মতো উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। গত আট মাসে এসব কাজ বাস্তবায়নের জন্য তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের প্রশংসা করেন এবং তাঁর সুস্বাস্থ্য ও দীর্ঘায়ু কামনায় সবার কাছে দোয়া চান।
শিক্ষার মানোন্নয়নে কঠোর অবস্থানের কথা জানিয়ে ধর্মমন্ত্রী বলেন, মুরাদনগরের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোর পরীক্ষার ফলাফল তাঁকে হতাশ করেছে। শিক্ষকদের শিক্ষার মান উন্নয়নে আরও দায়িত্বশীল হতে হবে। কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ফলাফল পরপর দুই থেকে তিনবার খারাপ হলে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের এমপিও বন্ধের সুপারিশ করবেন বলে হুঁশিয়ারি দেন তিনি।
তিনি বলেন, সরকার থেকে সুযোগ-সুবিধা নেওয়া হবে, অথচ শিক্ষার্থীদের ফলাফল ভালো হবে না, তা গ্রহণযোগ্য নয়। অভিভাবকেরা অনেক আশা নিয়ে সন্তানদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পাঠান। তাঁদের সেই প্রত্যাশার প্রতিফলন পরীক্ষার ফলাফলে থাকতে হবে।
এর আগে বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিভা স্কুল পরিদর্শনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, বিদ্যালয়টির পরিবেশ ও কার্যক্রম দেখে তিনি অভিভূত হয়েছেন। সমাজের অবহেলিত ও সুবিধাবঞ্চিত শিশুদের জন্য এমন একটি প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলায় সংশ্লিষ্টদের প্রশংসা করেন তিনি। বিদ্যালয়টির উন্নয়নে প্রয়োজনে নিজের রক্ত দিতেও প্রস্তুত রয়েছেন বলে মন্তব্য করেন ধর্মমন্ত্রী। এ সময় প্রতিষ্ঠানটির কল্যাণে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
শারীরিক অসুস্থতা সত্ত্বেও মুরাদনগরের মানুষের প্রতি ভালোবাসা ও টানে এলাকায় এসেছেন জানিয়ে কায়কোবাদ বলেন, হিপ রিপ্লেসমেন্ট ও চোখের অস্ত্রোপচারের পর চিকিৎসকের পরামর্শ উপেক্ষা করেই তিনি এলাকায় এসেছেন। চিকিৎসার জন্য ছুটি দেওয়ায় প্রধানমন্ত্রীর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
মুরাদনগরের জনগণ তাঁকে ছয়বার সংসদ সদস্য নির্বাচিত করায় মহান আল্লাহর কাছে শুকরিয়া আদায় করে ধর্মমন্ত্রী বলেন, ‘কায়কোবাদ যতক্ষণ বেঁচে আছে, ততক্ষণ আপনাদের পাশে থাকবে।’
এলাকার উন্নয়ন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় মুরাদনগরে যেসব উন্নয়ন প্রকল্প হাতে নেওয়া হয়েছে, সেগুলো আল্লাহর রহমতে বাস্তবায়িত হলে আগামী পাঁচ বছরে এলাকায় নতুন করে আর উন্নয়নকাজের প্রয়োজন হবে না।
অনুষ্ঠানে ধর্মমন্ত্রীর নিজস্ব তহবিল থেকে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা এবং অসচ্ছল সনাতন ধর্মাবলম্বীদের জন্য পাঁচ লাখ টাকা, মোট ১০ লাখ টাকা আর্থিক অনুদান দেওয়া হয়।
এ ছাড়া মুরাদনগর উপজেলায় এক লাখের বেশি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশ নেওয়া স্কুল, কলেজ ও মাদ্রাসার মধ্যে সেরা তিন প্রতিষ্ঠানকে পুরস্কৃত করা হয়। প্রথম স্থান অধিকারী প্রতিষ্ঠানকে ১০ হাজার, দ্বিতীয় স্থান অধিকারীকে সাত হাজার এবং তৃতীয় স্থান অধিকারীকে পাঁচ হাজার টাকা দেওয়া হয়।
বৃক্ষরোপণ কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের উৎসাহিত করতে এ পুরস্কারের আয়োজন করা হয়েছে উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, পুরস্কারের অর্থের চেয়ে বড় বিষয় হলো প্রধানমন্ত্রীর আহ্বানে সাড়া দিয়ে একটি উপজেলায় এক লাখের বেশি গাছ লাগানোর উদ্যোগ। এ উদ্যোগে অংশ নেওয়ায় তিনি সংশ্লিষ্টদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান।
অনুষ্ঠানে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধা, সনাতন ধর্মাবলম্বী, জনপ্রতিনিধি, সরকারি বিভিন্ন দপ্তরের কর্মকর্তা, বিএনপি ও অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, শিক্ষক, গণমাধ্যমকর্মী এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে দিনের শুরুতে ধর্মমন্ত্রী বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন শিশুদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান প্রতিভা স্কুলের দ্বিতীয় প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী অনুষ্ঠানে অংশ নেন। সেখানে শিশুদের সঙ্গে কেক কাটেন এবং তাদের উৎসাহ দিতে নগদ অর্থ প্রদান করেন। এ সময় বিদ্যালয়টিকে এক লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যৎ উন্নয়নে সার্বিক সহযোগিতার আশ্বাস দেন তিনি।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬