|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৪ জুন ২০২৬ ০৪:০৬ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৩ জুন ২০২৬ ০৩:৪৮ অপরাহ্ণ

হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে কিছু ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস


হজমশক্তি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে কিছু ঐতিহ্যবাহী খাদ্যাভ্যাস


অনলাইন ডেস্ক

 

 

আধুনিক জীবনযাত্রা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভ্যাস এবং ব্যস্ততার কারণে বর্তমানে হজমজনিত নানা সমস্যায় ভুগছেন অনেক মানুষ। ছোট-বড় সকল বয়সের মানুষকেই বিভিন্ন শারীরিক জটিলতা নিয়ে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হতে হচ্ছে। স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, অতীতের মানুষের সুস্থ থাকার পেছনে তাদের দৈনন্দিন কিছু অভ্যাস গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করত। বিশেষ করে খাবার গ্রহণের সময় অনুসৃত কিছু নিয়ম হজমক্ষমতা বৃদ্ধিতে সহায়ক ছিল বলে মনে করা হয়।
 

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দৈনন্দিন জীবনে কিছু স্বাস্থ্যকর অভ্যাস অন্তর্ভুক্ত করলে হজমশক্তি উন্নত হতে পারে।
 

হাত দিয়ে খাবার খাওয়া

বর্তমানে অনেকেই হাতের পরিবর্তে চামচ, ছুরি ও কাঁটার ব্যবহারকে বেশি গুরুত্ব দেন। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, হাত দিয়ে খাবার খাওয়ার সময় খাবারের স্পর্শ ও গন্ধ ইন্দ্রিয়কে সক্রিয় করে, যা শরীরকে খাবার গ্রহণের জন্য প্রস্তুত করতে সহায়তা করে। আয়ুর্বেদিক দর্শনে পাঁচ আঙুলকে প্রকৃতির পাঁচটি মৌলিক উপাদানের প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়।
 

মেঝেতে বসে খাওয়ার অভ্যাস

একসময় উপমহাদেশের বেশিরভাগ পরিবারে মেঝেতে বসে খাবার খাওয়ার প্রচলন ছিল। স্বাস্থ্যবিশেষজ্ঞদের মতে, মেঝেতে বসে খাওয়ার সময় শরীরের স্বাভাবিক ভঙ্গিমা বজায় থাকে এবং খাবার গ্রহণের প্রক্রিয়ায় শরীরের বিভিন্ন অঙ্গের সমন্বয় ঘটে, যা হজমে ইতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
 

দুপুরের খাবারে গুরুত্ব দেওয়া

আয়ুর্বেদিক চিকিৎসাশাস্ত্রে বলা হয়, দিনের মধ্যভাগে শরীরের হজমক্ষমতা তুলনামূলক বেশি সক্রিয় থাকে। তাই অপেক্ষাকৃত ভারী বা পুষ্টিকর খাবার দুপুরে গ্রহণ করলে তা সহজে হজম হতে পারে। এতে বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকিও কমতে পারে বলে মত বিশেষজ্ঞদের।
 

খাবারের শেষে সামান্য মিষ্টি

ওজন নিয়ন্ত্রণের কারণে অনেকেই খাদ্যতালিকা থেকে মিষ্টি বাদ দেন। তবে আয়ুর্বেদিক ধারণা অনুযায়ী, খাবার শেষে পরিমিত পরিমাণে মিষ্টি খাওয়া হজমপ্রক্রিয়াকে সহায়তা করতে পারে। অবশ্য এ ক্ষেত্রে অতিরিক্ত চিনি গ্রহণ থেকে বিরত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়।
 

খাওয়ার সময় মনোযোগী থাকা

খাওয়ার সময় গল্প করা, মোবাইল ফোন ব্যবহার বা টেলিভিশন দেখার প্রবণতা বর্তমানে বেড়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, খাবার গ্রহণের সময় মনোযোগী থাকা এবং ধীরে ধীরে চিবিয়ে খাওয়া হজমের জন্য উপকারী। পাশাপাশি খাবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ ও তৃপ্তির সঙ্গে খাওয়ার অভ্যাসও সুস্বাস্থ্যের জন্য সহায়ক হতে পারে।
 

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব অভ্যাসের বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নিয়ে আরও গবেষণার সুযোগ থাকলেও সচেতনভাবে ও পরিমিতভাবে খাবার গ্রহণ, ধীরে খাওয়া এবং স্বাস্থ্যকর জীবনযাপন হজমশক্তি ভালো রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
 

সূত্র: সংবাদ প্রতিদিন


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬