|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২২ জুলাই ২০২৬ ০৫:২৬ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২২ জুলাই ২০২৬ ০৩:২৩ অপরাহ্ণ

আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্বে পুনঃপরীক্ষিত উদ্যোক্তারা: কেন আবারও চেয়ারম্যান হলেন বদিউর রহমান


আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের নেতৃত্বে পুনঃপরীক্ষিত উদ্যোক্তারা: কেন আবারও চেয়ারম্যান হলেন বদিউর রহমান


আবদুল হাকিম রানা:

 

দ্রুত ঘুরে দাঁড়ানোর অনন্য সক্ষমতা এবং গুরুতর কেলেঙ্কারির কোনো সত্যতা না পাওয়ায় আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক লিমিটেডের উদ্যোক্তা পরিচালকদের মূল্যায়ন শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। দীর্ঘ তিন দশকের যাত্রায় যাদের বিশেষ অবদান ছিল, তাদের হাতেই ব্যাংকের নেতৃত্ব ফিরিয়ে দিতে সম্প্রতি পুনর্গঠন করা হয়েছে নতুন পরিচালনা পর্ষদ। নতুন গঠিত পর্ষদে চেয়ারম্যান হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন ব্যাংকের অন্যতম সফল উদ্যোক্তা পরিচালক বদিউর রহমান।


বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট তদারক সংস্থার প্রায় দুই বছরের নিরবচ্ছিন্ন অনুসন্ধান ও নিরীক্ষা প্রতিবেদন পর্যালোচনা করে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

 

কেন সুরক্ষিত রইল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক?

প্রায় দুই বছর আগে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে এস আলম গ্রুপের সম্পৃক্ততার সন্দেহে ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ বাতিল করে ৫ জন স্বতন্ত্র পরিচালক নিয়োগ দিয়েছিল কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তখন আশঙ্কা করা হয়েছিল ব্যাংকটির আর্থিক ভিত্তি হয়তো মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে অনুসন্ধান শেষে সম্পূর্ণ ভিন্ন চিত্র উঠে আসে:

* **সম্পদের মানের স্থায়িত্ব:** কোনো প্রভাবশালী গোষ্ঠীর আগ্রাসনে ব্যাংকের মূল সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।
* **অনিয়মমুক্ত বিনিয়োগ:** কোনো বড় ধরনের জাল-জালিয়াতি বা অনৈতিক বিনিয়োগ কেলেঙ্কারির প্রমাণ মেলেনি।
* **তারল্য ব্যবস্থাপনা:** তীব্র সংকটকালীন সময়েও ব্যাংকটিতে তারল্য ঘাটতি দেখা দেয়নি এবং গ্রাহকের চাহিদামতো অর্থ সরবরাহ সচল ছিল।


বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালক ও মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান এ বিষয়ে বলেন,

> “ব্যাংকটির আর্থিক অবস্থা আগের চেয়ে ভালো হওয়ার কারণেই পরিক্ষীত উদ্যোক্তাদের কাছে নেতৃত্ব ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। অন্য অনেক ব্যাংকের পর্ষদ ভাঙার পর তাদের উদ্যোক্তাদের খুঁজে পাওয়া না গেলেও আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চিত্র ছিল সম্পূর্ণ ভিন্ন।”

 

সংকট উত্তরণে 'বদিউর রহমান ফ্যাক্টর'

ব্যাংকের ৩০ বছরের ইতিহাসে ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বদিউর রহমানের ৮ বছরের সময়কালকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি ও পজিটিভ গ্রোথের সময় হিসেবে বিবেচনা করা হয়।


প্রধান আর্থিক সূচকের পরিবর্তন (২০০৮–২০১৬)

| সূচক | ২০০৭/২০০৮ সালে | ২০১৬ সালে |
| --- | --- | --- |
| **প্রফিট গ্রোথ (মুনাফা প্রবৃদ্ধি)** | -২২% (২০০৭) | +১৮% (প্লাস ৩৩% পর্যন্ত উঠেছিল) |
| **আমানত (Deposit)** | ২,৯৬৯ কোটি টাকা | ১৯,৯৭০ কোটি টাকা (প্রায় ৭ গুণ বৃদ্ধি) |
| **বিনিয়োগ (Investment)** | ২,৯৭২ কোটি টাকা | ১৯,৬৫১ কোটি টাকা |
| **আমদানি বাণিজ্য (Import)** | ৩,২৬৮ কোটি টাকা | ১১,৮৭৮ কোটি টাকা |
| **রপ্তানি বাণিজ্য (Export)** | ২,০১৭ কোটি টাকা | ৮,৮১৫ কোটি টাকা |
| **শাখা সংখ্যা (Branches)** | ৫০টি | ১৪০টি |

২০০৭ সালে ওয়ান ইলেভেন সরকারের আমলে বাংলাদেশ ব্যাংক পর্যবেক্ষক নিয়োগ দিলে চরম সংকটকালীন পরিস্থিতিতে চেয়ারম্যানের দায়িত্ব নেন বদিউর রহমান। তৎকালীন ব্যবস্থাপনা পরিচালক আব্দুস সামাদ শেখ, একরামুল হক এবং পরবর্তীতে মোঃ হাবিবুর রহমানকে সাথে নিয়ে তিনি ব্যাংকটির শক্ত ভিত তৈরি করেন।


দশক পার করে ২০২৬ সালে ব্যাংকটি যখন আবারও পর্যবেক্ষকের অধীন এবং একই রকম চ্যালেঞ্জের মুখে, তখন কেন্দ্রীয় ব্যাংক ও কেপিএমজি (KPMG)-এর অডিট ও পর্যালোচনার ভিত্তিতে পরীক্ষিত এই সংগঠকের হাতেই পুনরায় বোর্ডের দায়িত্ব অর্পণ করা হলো।

 

নতুন পরিচালনা পর্ষদ ও অভিজ্ঞতা ও তরুণের সমন্বয়

নবনির্বাচিত পর্ষদে অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব ও ফিরে আসা পরিচালকদের তালিকা:

* **ইসি কমিটির চেয়ারম্যান:** সেলিম রহমান (ব্যবস্থাপনা পরিচালক, কেডিএস গ্রুপ এবং ১ম সহ-সভাপতি, বিজিএমইএ)।
* **প্রতিষ্ঠাতা ও প্রবীণ উদ্যোক্তা পরিচালকবৃন্দ:** নাজমুল আহসান খালেদ, হাফেজ মো. এনায়েত উল্যা, আনোয়ার হোসেন, মোহাম্মদ আব্দুস সালাম, মোঃ রফিকুল ইসলাম এবং আলহাজ্ব ইমাদুর রহমান।


নতুন পরিচালক মোঃ রফিকুল ইসলাম জানান,

> “ত্রিশ বছর আগে কেডিএস গ্রুপের কর্ণধার খলিলুর রহমানের আহ্বানে প্রবীণ ব্যবসায়ীরা এই ব্যাংকে বিনিয়োগ করেছিলেন। সকল দুর্দিনে তিনি ব্যাংকটিকে আগলে রেখেছেন এবং তার অভিভাবকত্বেই ব্যাংকটির নতুন যাত্রা শুরু হলো।”


উল্লেখ্য, সাবেক সচিব এ জেড এম শামসুল আলমের উদ্যোগে গঠিত এই ব্যাংকে বিভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শের পরিচালক থাকলেও পেশাদারত্ব ও প্রাতিষ্ঠানিক স্বার্থের কারণে কখনোই কোনো দ্বন্দ্ব বা সংঘাতের সৃষ্টি হয়নি। ২০১৭ সালে এস আলমের ছোট ভাই আব্দুস সামাদ লাবু পর্ষদে এলেও শক্তিশালী প্রতিনিধিত্ব থাকায় ব্যাংকটি কারো একক নিয়ন্ত্রণে যেতে পারেনি। নতুন গঠিত পর্ষদ থেকে তাকে বাদ দেওয়া হয়েছে।

 

ভাবনায় নতুন পর্ষদ চেয়ারম্যান

পুনরায় দায়িত্ব গ্রহণ প্রসঙ্গে নবনির্বাচিত চেয়ারম্যান বদিউর রহমান বলেন,


> “২০০৮ সালে প্রথম যখন আমাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়, তখন ব্যাংকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পর্যবেক্ষক ছিলেন। সেই কঠিন পরিস্থিতি সামাল দিয়ে আমরা ব্যাংকটিকে সমৃদ্ধির পথে নিয়ে গিয়েছিলাম। ২০২৬ সালে ব্যাংকটিতে আবারও যখন পর্যবেক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়েছে, ঠিক একইভাবে বাংলাদেশ ব্যাংক ও সংশ্লিষ্ট সকলের সহযোগিতায় অতীতের মতো আমরা আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংককে দ্রুত ঘুরে দাঁড় করাতে সক্ষম হব, ইনশাআল্লাহ।”


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬