|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৫ জুন ২০২৬ ১২:৪১ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৪ জুন ২০২৬ ০৬:৫৩ অপরাহ্ণ

মুরাদনগর ইউএনও অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল


মুরাদনগর ইউএনও অফিসে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ, ভিডিও ভাইরাল


বিল্লাল হোসাইন, মুরাদনগর (কুমিল্লা) প্রতিনিধি:

 

কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে কর্মরত হিসাব সহকারী আবু জাহেরের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে ঘুষ গ্রহণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও নিয়ে এলাকাজুড়ে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।

 

অভিযোগ রয়েছে, আবু জাহের নিয়মিতভাবে বিভিন্ন দাপ্তরিক ফাইল আটকে রেখে সেবা প্রত্যাশীদের কাছ থেকে টাকা দাবি করেন। নির্ধারিত অর্থ না দিলে ফাইলে স্বাক্ষর বা অনুমোদন প্রক্রিয়ায় বিলম্ব করা হয় বলে অভিযোগ করেছেন একাধিক ভুক্তভোগী। এছাড়া বিভিন্ন অজুহাতে গ্রাহকদের ভয়ভীতি প্রদর্শনেরও অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

 

সরেজমিনে দেখা যায়, বুধবার দুপুরে এক ব্যক্তি ব্যবসায়িক লাইসেন্স সংক্রান্ত কাগজপত্র নিয়ে ইউএনও কার্যালয়ে গেলে আবু জাহের তার কাছে এক হাজার টাকা দাবি করেন। পরে ওই ব্যক্তি তাকে ৬০০ টাকা প্রদান করেন বলে অভিযোগ ওঠে। এ সময়ের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে বিষয়টি জনসম্মুখে আসে। ভিডিওতে এক ব্যক্তির কাছ থেকে টাকা গ্রহণের বিষয়টি ওই ভুক্তভোগী স্বীকার করেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, প্রায় তিন মাস আগে আবু জাহের মুরাদনগর উপজেলা কার্যালয়ে যোগদান করেন। এর মধ্যেই তার বিরুদ্ধে ঘুষ বাণিজ্যের নানা অভিযোগ উঠেছে। সাধারণ সেবা গ্রহীতারা তার আচরণ ও অর্থ দাবির কারণে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছেন বলেও অভিযোগ করেন তারা।

 

স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, আবু জাহের পূর্বে কুমিল্লার দেবিদ্বার ও হোমনা উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সেখানেও বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে আলোচনা ছিল বলে দাবি করেছেন কয়েকজন সচেতন নাগরিক।

 

তবে এসব অভিযোগের স্বপক্ষে কোনো সরকারি তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যায়নি। অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে হিসাব সহকারী আবু জাহের বলেন, “ভিডিওটি যে উদ্দেশ্যে প্রচার করা হচ্ছে, বিষয়টি সে রকম নয়। আমার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সঠিক নয়।

 

এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবিএম গোলাম সারোয়ার বলেন, “সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওটি আমার নজরে এসেছে। অভিযোগের বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে বিষয়টি যাচাই-বাছাই করা হবে।

 

অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।” ঘটনাটি নিয়ে উপজেলাজুড়ে আলোচনা চলছে এবং সেবাপ্রত্যাশীরা দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬