সব ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই সরকারের মূল লক্ষ্য: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
বাসস
জনপ্রশাসন ও খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আব্দুল বারী বলেছেন, দেশের সব ক্ষেত্রে সুশাসন প্রতিষ্ঠাই বর্তমান সরকারের প্রধান লক্ষ্য। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় প্রশাসনের প্রতিটি স্তরে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও সুশাসন নিশ্চিত করতে কাজ করা হচ্ছে। একই সঙ্গে নিয়োগ, পদায়ন ও পদোন্নতিতে সততা, দক্ষতা ও মেধাকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
শনিবার জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, একটি দক্ষ, সৎ ও জবাবদিহিমূলক প্রশাসন ছাড়া কোনো বাজেটের সফল বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। তিনি দাবি করেন, গত ১৭ বছরে ক্ষতিগ্রস্ত প্রশাসনিক কাঠামো পুনর্গঠনে সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি বলেন, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট জনবান্ধব, বাস্তবসম্মত ও বাস্তবায়নযোগ্য। দীর্ঘ প্রস্তুতি, বিভিন্ন অংশীজনের মতামত এবং ভবিষ্যতের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ বিবেচনায় রেখে এ বাজেট প্রণয়ন করা হয়েছে।
আব্দুল বারী জানান, বাজেট প্রণয়নের আগে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে ধারাবাহিক মতবিনিময় করেছেন। অর্থমন্ত্রীও একটি বাস্তবমুখী বাজেট প্রণয়নে নিরলস পরিশ্রম করেছেন উল্লেখ করে তিনি প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, এবারের বাজেটে বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মাধ্যমে বিনিয়োগ প্রক্রিয়া সহজীকরণ, আর্থিক খাতের সংস্কার, ব্যাংকিং ব্যবস্থা পুনর্গঠন, জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ এবং কর্মসংস্থান সৃষ্টিকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, গ্রামীণ অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের প্রধানদের ভাতা, স্বাস্থ্য কার্ডসহ বিভিন্ন সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আসবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় স্বস্তি ফিরবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
সরকার কৃষকের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে ধান ও চাল সংগ্রহ কার্যক্রম অব্যাহত রেখেছে উল্লেখ করে প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী নিজেই এ কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি করছেন। পাশাপাশি বাজারে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য স্থিতিশীল রাখতে প্রয়োজনীয় নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
তিনি বলেন, সৃজনশীল অর্থনীতির বিকাশেও সরকার গুরুত্ব দিচ্ছে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে আঙুর, অ্যাভোকাডো ও স্ট্রবেরির মতো উচ্চমূল্যের ফলের চাষ সম্প্রসারণের মাধ্যমে নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা সৃষ্টি হচ্ছে।
উন্নয়ন কার্যক্রমের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির জন্য বরাদ্দ ৩ লাখ ১৬ হাজার ৭৫ কোটি টাকার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রধানমন্ত্রী সরাসরি তদারকি করছেন। উন্নয়ন ব্যয় সঠিকভাবে বাস্তবায়িত হলে কর্মসংস্থান, আয় ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশ ধীরে ধীরে একটি উন্নত অর্থনীতির দিকে এগিয়ে যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬