চট্রগ্রাম - কক্সবাজার মহাসড়ক : কমেছে যানজট—এখনো ২ ফুট পানিতে চলছে যানবাহন : পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌঁছায় হাহাকার!
আবদুল হাকিম রানা, দক্ষিণ চট্রগ্রাম :
টানা ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পানির কারণে চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের চন্দনাইশ সাতকানিয়া ও লোহাগাড়া উপজেলার বিভিন্ন পয়েন্টে পানি কমে আসলে ও সড়কটি এখনো ২/৩ ফুট পানির নিচে রয়েছে। পাঠানি ব্রিজ এলাকায় সড়কটি ও কয়েক দিন ধরে পানির নিচে রয়েছে। রবিবার থেকে পানি ওঠে মঙ্গলবারে সড়কের ওপর দিয়ে পানির স্রোত প্রবাহিত হচ্ছে। এতে মহাসড়কে যানবাহন ধীরগতিতে চলাচল করায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
দূরপাল্লার পরিবহন, পণ্যবাহী ট্রাক, রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্স এবং সাধারণ যাত্রীবাহী যানবাহনকে চরম ভোগান্তির মধ্যে চলাচল করতে হচ্ছে। অনেক যাত্রীকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা যানজটে আটকে থাকতে হয়েছে। এছাড়া ও দক্ষিণ চট্রগ্রামের প্রায় সব উপজেলা গুলোর দূর্গম এলাকায় পর্যাপ্ত ত্রাণ না পৌছায় চারদিকে বন্যার্ত মানুষের মাঝে হতাশা বিরাজ করছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে একই স্থানে পানি উঠে মহাসড়ক ডুবে যায়। সামান্য বৃষ্টিতেই সড়কের নিচু অংশে পানি জমে যান চলাচল ব্যাহত হয়। এবারের বন্যায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিয়েছে।
অন্যদিকে, পাঠানি ব্রিজ সংলগ্ন বড়পাড়া (কসাইপাড়া) এলাকায় মহাসড়কের পূর্ব পাশে দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী জলাবদ্ধতা বিরাজ করছে। জমে থাকা পানিতে ময়লা-আবর্জনা পচে তীব্র দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, পথচারী ও যাত্রীদের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।
এলাকাবাসীর অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে সমস্যাটি থাকলেও স্থায়ী সমাধানে কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। তাদের দাবি, মহাসড়কের নিচু অংশটি অন্তত তিন ফুট উঁচু করে পুনর্নির্মাণ করা হলে ভবিষ্যতে বর্ষা মৌসুমে এ ধরনের দুর্ভোগ অনেকটাই কমে আসবে।
যাত্রীরাও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি দ্রুত উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, চট্টগ্রাম–কক্সবাজার মহাসড়কের এই গুরুত্বপূর্ণ অংশটি দ্রুত উঁচু করে সংস্কার করা প্রয়োজন। অন্যথায় প্রতি বর্ষায় একই দুর্ভোগ পোহাতে হবে হাজারো মানুষকে। ভূক্তভোগী আকতার উদদীন বলেন, পানির এতই তীব্রতা ছিল যে অনেক ঘরের উপরে চালা পর্যন্ত পানি উঠে যায়। এতে অনেক মানুষের সহায় সম্ভল সব পানিতে ভেসে যায়। এমনকি গরু বাচুর, কৃষি ও মৎস চাষ ও চরম ক্ষতির মুখে পড়েছে। হাজার হাজার মানুষ এখন অনাহার অর্ধাহারে মানবেতর জীবন যাপন করছে। রান্না করা খাবার ও পানির তীব্রতার জন্য দূর্গত এলাকায় পৌছানো যাচ্ছে না। এ পর্যন্ত ৪৫ জনের মৃত্যু ও কয়েকশ মানুষ আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬