|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৭ জুন ২০২৬ ০১:৩৭ পূর্বাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৬ জুন ২০২৬ ০৪:০৩ অপরাহ্ণ

পল্লবীতে স্কুলছাত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় আগামীকাল


পল্লবীতে স্কুলছাত্রী রামিসা ধর্ষণ-হত্যা মামলার রায় আগামীকাল


রাজধানীর পল্লবীতে দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তারকে (৮) ধর্ষণ ও হত্যা মামলার রায় জানা যাবে আগামীকাল রোববার (৭ জুন)।

 

গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন) বেলা ১টা ৩৬ মিনিটে উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শেষে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন রায় ঘোষণার জন্য ৭ জুন (রোববার) দিন ধার্য করেন। এর ফলে রামিসা হত্যাকাণ্ডের ২০ দিন এবং বিচার শুরুর মাত্র সাত দিনের মধ্যে চাঞ্চল্যকর এ মামলার রায় হতে যাচ্ছে।

 

বৃহস্পতিবার যুক্তিতর্কের শুনানিতে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আসামী সোহেল রানাকে দোষী সাব্যস্ত করে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে দায়ের করা মামলায় তার সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান। সোহেলের অপরাধে সহযোগিতা ও বাধা না দেওয়ার বিষয় উল্লেখ করে আসামী স্বপ্না আক্তারের আইনানুগ শাস্তির দাবি জানান। তিনি আদালতে শিশুর বাবা ও মায়ের সাক্ষ্য পড়ে শোনান। পরবর্তী সময় তিনি আদালতে ভুক্তভোগীর পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন।

 

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, পাশাপাশি ফ্ল্যাটেই ঘটনার শিকার ও আসামীদের বসবাস ছিল। ঘটনার দিন ওই শিশুকে আসামী তার ফ্ল্যাটে নিয়ে ধর্ষণ করেন ও নৃশংসভাবে হত্যা করেন। ১৬ জন সাক্ষী এই সাক্ষ্য দিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, ওই ফ্লোরে আর কোনো পরিবারের বসবাস ছিল না। এখানে আরও গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পুরো সময় সোহেল রানার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার বাসার ভেতর থেকে দরজা বন্ধ করে রেখেছিলেন। বাইরে থেকে দরজা খুলতে বললে স্বপ্না ভেতর থেকে শিশু নেই বলে জানান। আইনজীবী আরও বলেন, ঘটনার দিন প্রত্যক্ষদর্শী আবু শামা আসামী সোহেলকে ভবনের তিনতলা থেকে জানালায় পা দিয়ে নামতে দেখেন। এতে প্রমাণিত হয়, সোহেল রানা ওই শিশুকে ধর্ষণ করে হত্যা করে জানলার গ্রিল কেটে পালিয়ে যায়। আইনজীবী সুরতহাল প্রস্তুতকারী কনস্টেবলের সাক্ষ্য তুলে ধরে আসামীদের দোষী সাব্যস্ত করেন। জবানবন্দীতে আসামী সোহেল রানার দেওয়া বর্ণনা আদালতে পড়ে শোনান আইনজীবী। আসামী তার জবানবন্দিতে কোথাও ডলার নামে কারও কথা উল্লেখ করেননি বলেও জানান তিনি।

 

পরবর্তী সময় বেলা ১টা ৩১ মিনিটে আসামীপক্ষের আইনজীবী যুক্তিতর্ক উপস্থাপন শুরু করেন। আসামীর পক্ষে তিনি বলেন, আসামী তার জবানবন্দীতে বলেছেন আসামী নেশা করেন। একজন নেশাগ্রস্ত ব্যক্তি কখনো সঠিক কথা বলতে পারে না। জবানবন্দীর পরিপ্রেক্ষিতে তাকে শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। পরে রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বলেন, ঘটনার সময় ও জবানবন্দী দেওয়ার সময় আসামী নেশাগ্রস্ত ছিলেন না।

 

এর আগে বুধবার ফৌজদারি কার্যবিধির ৩৪২ ধারায় মামলার প্রধান আসামী সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানি হয়। শুনানির আগে তাদের কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। আত্মপক্ষ সমর্থনের শুনানিতে সোহেল রানা বিচারকের কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করেন। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার নিজেকে সম্পূর্ণ নির্দোষ দাবি করে ন্যায়বিচার প্রার্থনা করেন।

 

মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, রামিসা পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী ছিল। গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে স্বপ্না তাকে কৌশলে নিজের কক্ষে নিয়ে যায়। সেদিন সকাল সাড়ে ১০টার দিকে রামিসাকে স্কুলে পাঠানোর জন্য খোঁজাখুঁজি শুরু করেন তার মা। একপর্যায়ে আসামীদের কক্ষের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তিনি। ডাকাডাকির পরও কোনো সাড়া না পেয়ে রামিসার বাবা-মা এবং ভবনের অন্যান্য বাসিন্দারা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করেন। সেখানে আসামীদের শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং কক্ষের ভেতরে একটি বড় বালতির মধ্যে তার মাথা দেখতে পান তারা। এরপর জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয়। পরে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানার সামনে থেকে সোহেল রানাকে গ্রেফতার করা হয়। এ ঘটনায় ২০ মে রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা পল্লবী থানায় একটি মামলা করেন। মামলায় সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে আসামী করা হয়। পরে পুলিশ তাদের গ্রেফতার করে। মামলার প্রধান আসামী সোহেল রানা ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনায়েদের আদালতে দায় স্বীকার করে জবানবন্দি দেন। একই দিন আদালত সোহেলের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকেও কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন। তদন্ত শেষে ২৪ মে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও পল্লবী থানার এসআই অহিদুজ্জামান ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালতে তাদের বিরুদ্ধে চার্জশিট দাখিল করেন। একই দিন ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন চার্জশিট আমলে নেন। গত ১ জুন বিচারক মাসরুর সালেকীন তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করেন। মামলায় চার্জশিটভুক্ত ১৮ সাক্ষীর মধ্যে ১৬ জন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দিয়েছেন। শিশু রামিসার এই হত্যাকাণ্ড সারাদেশে তোলপাড় সৃষ্টি করেছে।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬