বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াবে নরওয়ে, রোহিঙ্গা ইস্যুতেও সহায়তার আশ্বাস
বাংলাদেশে সরাসরি অনুদান বা দাতা-সহযোগিতা কমিয়ে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে নরওয়ে। একই সঙ্গে কক্সবাজারে আশ্রিত জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে এবং এই সংকট মোকাবিলায় বাংলাদেশের পাশে থাকার আশ্বাস দিয়েছে দেশটি।
মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে তার কার্যালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন এই আশ্বাস দেন। বৈঠকে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানিতে বিনিয়োগ এবং রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি চ্যালেঞ্জ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে ১৯৭১ সালের পর স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে নরওয়ের প্রারম্ভিক স্বীকৃতি এবং ধারাবাহিক সহযোগিতার জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারের বৈদেশিক নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার মূল ভিত্তি গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা।
রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির প্রশংসা করে জানান, নরওয়ে এখন চিরাচরিত উন্নয়ন অনুদান বা দাতা-সহযোগিতা থেকে সরে এসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বাড়ানোর দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নরওয়ের এই বাণিজ্যিক রূপান্তরকে স্বাগত জানান। তিনি নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাকের পাশাপাশি ওষুধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, আইটি সেবা, পাটজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের মতো উচ্চ-মূল্যের পণ্য রপ্তানি করার বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একই সঙ্গে বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্যপ্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ ও প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়ের উদ্যোক্তাদের বড় বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নরওয়ের নেতৃত্বের প্রশংসা করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা অন্যতম প্রধান দেশ। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এবং নরফান্ড-এর ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে পরিবেশবান্ধব ও কম-কার্বন প্রযুক্তির প্রকল্পগুলোতে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর জোর দেন তিনি।
পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, ডিজিটাল উদ্ভাবন ও গবেষণার ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য নরওয়ের শিক্ষাবৃত্তির কোটা আরও বাড়ানোর অনুরোধ জানান মন্ত্রী। বৈঠকে নরওয়েতে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিদের ইতিবাচক ভূমিকারও প্রশংসা করা হয়।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রতি নরওয়ের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সক্রিয় কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান। তবে তিনি স্পষ্ট করেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘস্থায়ী উপস্থিতি বাংলাদেশের জন্য এক বড় চ্যালেঞ্জ। তাই আন্তর্জাতিক চাপ সৃষ্টি করে দ্রুত প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া শুরু করতে নরওয়ের সক্রিয় সহযোগিতা চান তিনি।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে আশ্বস্ত করেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের একাত্মতা ও সহযোগিতা আগামীতেও বজায় থাকবে। বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় পাশে থাকবে বলেও জানান তিনি।
উক্ত সৌজন্য সাক্ষাতে নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের পলিটিক্যাল অ্যাডভাইজার সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-৩ শাখার উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬