নোয়াখালীতে ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রতিবাদে নির্বাচন অফিসের সামনে অবস্থান
আজিজুর রহমান, নোয়াখালী:
নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর এলাহী ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের প্রতিবাদে জেলা নির্বাচন অফিসের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন স্থানীয় ভোটাররা।
বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত জেলা নির্বাচন অফিসের প্রধান ফটকের সামনে এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের অধিকাংশ ভোটার নদীর পশ্চিম পাড়ে বসবাস করলেও ওয়ার্ডটি বিভক্ত করে নদীর পূর্ব পাশে দুর্গম এলাকায় নতুন ভোটকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এতে পশ্চিম পাড়ের বিপুলসংখ্যক ভোটারকে নদী পার হয়ে ভোট দিতে যেতে হবে।
অবস্থান কর্মসূচিতে বক্তব্য দেন চর এলাহী ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সভাপতি ইসমাঈল হোসেন তোতা, চর এলাহী ইউনিয়ন পরিষদের প্যানেল চেয়ারম্যান মায়া আক্তার, ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক নূরুল হুদা, ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক ইউপি সদস্য মো. আমিন উল্যাহ ও সাবেক ইউপি সদস্য সিরাজ আলমসহ স্থানীয়রা।
বক্তারা জানান, ১৯৯২ সালে চর এলাহী ইউনিয়ন পরিষদ প্রতিষ্ঠার পর থেকে ৫ নম্বর ওয়ার্ডের ভোটাররা ওমর ফারুক দারুল উলুম নূরানী ও হাফেজিয়া মাদ্রাসা কেন্দ্রে ভোট দিয়ে আসছিলেন। ২০০২ সালের দিকে নদীভাঙনে মাদ্রাসাটি বিলীন হয়ে গেলে ভোটকেন্দ্রটি নূর মদিনা নূরানী মাদ্রাসায় স্থানান্তর করা হয়। পরবর্তীতে ওই মাদ্রাসাটিও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হলে স্থানীয়দের অর্থায়নে তা পুনর্নির্মাণ করা হয়।
স্থানীয় ভোটারদের দাবি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডে মোট ভোটার ২ হাজার ৬২ জন। এর মধ্যে বামনী নদীর মোহনার পশ্চিম পাশে চর এলাহী এলাকায় প্রায় ১ হাজার ৮৬২ জন এবং নদীর পূর্ব পাশে চর লেংটার আংশিক এলাকায় প্রায় ২০০ জন ভোটার বসবাস করেন।
তাদের অভিযোগ, নূর মদিনা নূরানী মাদ্রাসা নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর অধিকাংশ ভোটারের সুবিধা বিবেচনা না করে পূর্ব পাশে বসবাসকারী প্রায় ২০০ ভোটারের জন্য দুর্গম চরবালুয়া এলাকায় ভোটকেন্দ্র স্থানান্তরের উদ্যোগ নেওয়া হয়। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনে লিখিত আবেদনও করেন তারা।
বক্তারা বলেন, চরবালুয়া এলাকায় যোগাযোগব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্গম। পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও স্থানীয়দের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে। সেখানে ভোটকেন্দ্র স্থাপন করা হলে পশ্চিম পাড়ের শত শত ভোটারকে নদী পার হয়ে ভোট দিতে যেতে হবে। এতে ভোটারদের ভোগান্তি ও নিরাপত্তাঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি অনেকে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হয়ে ভোটাধিকার প্রয়োগ থেকে বঞ্চিত হতে পারেন।
স্থানীয়রা জানান, ভোটকেন্দ্রটি নদীর পশ্চিম পাড়ের চর এলাহী এলাকায় বহাল রাখার দাবিতে জেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বরাবর লিখিত আবেদন করা হয়। নির্বাচন অফিস থেকে বৃহস্পতিবার এ বিষয়ে শুনানির কথা জানানো হয়েছিল। তবে সকালে নির্বাচন অফিসে গিয়ে তারা জানতে পারেন, এরই মধ্যে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তাদের দাবি, ৫ নম্বর ওয়ার্ডকে দুটি ভোটার এলাকায় ভাগ করে নদীর পূর্ব পাশে দক্ষিণ চর এলাহী এলাকায় নতুন একটি ভোটকেন্দ্র অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে পশ্চিম পাশের বিদ্যমান কেন্দ্রটিও বহাল রাখা হয়েছে।
অবস্থান কর্মসূচি থেকে স্থানীয় ভোটারদের বসবাসের স্থান, যোগাযোগব্যবস্থা ও নিরাপত্তার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে নদীর পূর্ব পাড়ের দক্ষিণ চর এলাহীতে নতুন ভোটকেন্দ্র অনুমোদনের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা ও প্রত্যাহারের দাবি জানানো হয়।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক) | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬