|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৯ আগu ২০২৬ ০৮:১২ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৯ আগu ২০২৬ ০৬:৪৬ অপরাহ্ণ

বাঁশখালী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত উপকূলে শিল্পায়নের পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী


বাঁশখালী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত উপকূলে শিল্পায়নের পরিকল্পনা: প্রধানমন্ত্রী


আবদুল হাকিম রানা, চট্টগ্রাম:

 

চট্টগ্রামের বাঁশখালী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগিয়ে শিল্প-কারখানা গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, সমুদ্র দেশের সম্পদ এবং এর মালিক জনগণ। এই সম্পদকে কাজে লাগিয়ে কর্মসংস্থান সৃষ্টি, বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন এবং দেশের অর্থনীতিকে আরও শক্তিশালী করার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
 

রোববার (৯ আগস্ট) দুপুর ২টার দিকে বাঁশখালীর বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ ও গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাঁশখালী থেকে মিরসরাই পর্যন্ত উপকূলীয় অঞ্চলের সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে কীভাবে শিল্প-কারখানা স্থাপন করা যায়, কীভাবে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যায় এবং বৈদেশিক মুদ্রা অর্জন করা যায়—তা নিয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। শিল্পায়নের মাধ্যমে অর্জিত বৈদেশিক মুদ্রা দেশের মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, স্বাস্থ্যসেবা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খাতে বিনিয়োগ করা হবে।
 

তিনি বলেন, “সমুদ্র দেশের সম্পদ। এই সমুদ্রের মালিক দেশের জনগণ। তাই এই সম্পদকে পরিকল্পিতভাবে কাজে লাগাতে হবে।”
 

৪১ লাখ পরিবার পাবে ফ্যামিলি কার্ড

নির্বাচনী প্রতিশ্রুতির কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, ২০২৬-২৭ অর্থবছরে দেশের ৪১ লাখ পরিবারের কাছে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে। এর মধ্যে বাঁশখালী উপজেলায় ১০ থেকে ১৫ হাজার পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে।
 

কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড চালুর কথাও জানান তিনি। পাশাপাশি লবণচাষিদের উৎপাদিত লবণের ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করতে শিগগিরই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বাস দেন প্রধানমন্ত্রী।
 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স হবে ১০০ শয্যার

দেশের প্রতিটি উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমানে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সগুলোতে থাকা ৫০টি শয্যার মধ্যে ৩০টি শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান এবং ২০টি সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার সময়ে করা হয়েছিল। অল্প সময়ের মধ্যে এসব হাসপাতালকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করার পরিকল্পনা নেওয়া হবে।
 

তারেক রহমান বলেন, জনগণের জীবনমান উন্নয়নে স্বাস্থ্য ও শিক্ষা খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের প্রত্যেক নাগরিক যাতে প্রয়োজনীয় সেবা ও সুবিধা পান, সরকার সে লক্ষ্যেই কাজ করছে।
 

বিনিয়োগ বাড়াতে শান্তি-শৃঙ্খলা নিশ্চিতের আহ্বান

দেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং শান্তি-স্থিতিশীলতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী।
 

তিনি বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা যাতে বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী হন, সে জন্য নিরাপদ পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। কেউ যাতে শান্তি-শৃঙ্খলা নষ্ট করার সুযোগ না পায়, সেদিকে সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
 

বিদ্যুৎ ও গ্যাস নিয়ে বিভ্রান্তি ছড়ানোর অভিযোগ তুলে তিনি বলেন, বিগত সরকার বিদ্যুৎ খাতকে গুটিকয়েক মানুষের হাতে তুলে দিয়েছিল। আগামী ১০ বছরের বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের পরিকল্পনা সংসদে তুলে ধরা হবে।
 

প্রধানমন্ত্রী বলেন, “আমাদের ফসল বিপ্লব ঘটাতে হবে, শিল্প বিপ্লব ঘটাতে হবে। দেশের মানুষ আর বিভ্রান্ত হবে না। এখন দেশ গড়ার সময়।”
 

দ্রুত স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা

বাঁশখালীর উপকূলীয় মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী।
 

অনুষ্ঠানে তাঁর বক্তব্য চলাকালে স্থানীয় বাসিন্দারা স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণের দাবিতে স্লোগান দেন। পরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অতি অল্প সময়ের মধ্যে বাঁশখালীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণের পরিকল্পনা করা হবে।
 

বাঁশখালীকে পর্যটন এলাকা ঘোষণার দাবি

অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্যে বাঁশখালী আসনের বিএনপি দলীয় এমপি প্রার্থী মিশকাতুল ইসলাম বাপ্পা বাঁশখালীকে পর্যটন এলাকা ঘোষণার দাবি জানান।
 

তিনি বলেন, সাম্প্রতিক বন্যায় বাঁশখালীর লক্ষাধিক মানুষ পানিবন্দি হয়ে দুর্ভোগে পড়েছিলেন। প্রধানমন্ত্রীর আগমন ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের মধ্যে নতুন আশার সৃষ্টি করেছে। বাঁশখালীর সমুদ্রসৈকতের সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে এলাকাটিকে পর্যটন এলাকা ঘোষণা করা প্রয়োজন।
 

এ সময় তিনি স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণ, লবণচাষিদের জন্য স্থায়ী নীতিমালা প্রণয়ন, জলকদর খাল রক্ষা এবং পিএবি সড়ক চার লেনে উন্নীত করার দাবি জানান।
 

‘বাপ্পা যা চেয়েছে, তার চেয়ে বেশি দিলে সমস্যা আছে?’

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাঁশখালীর মানুষের পাশে দাঁড়াতে এখানে এসেছেন। বাঁশখালীর উন্নয়নে স্থানীয়ভাবে যেসব দাবি জানানো হয়েছে, তার চেয়েও বেশি কিছু দেওয়া সম্ভব কি না, তা বিবেচনা করা হবে।
 

তিনি বলেন, বাঁশখালী এমনিতেই সম্ভাবনাময় পর্যটন এলাকা। এই সম্ভাবনাকে কাজে লাগিয়ে এলাকার উন্নয়নে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
 

অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, “তারেক রহমানের রাজনীতি ভিন্ন ধরনের রাজনীতি। দেশের শিশু থেকে বৃদ্ধ পর্যন্ত প্রত্যেকটি মানুষ সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীর ধারণা রয়েছে।”
 

তিনি বলেন, দেশের প্রত্যেক নাগরিক যাতে রাষ্ট্রের সুবিধা পান, সে লক্ষ্যেই সরকার কাজ করছে। নারীদের জন্য ফ্যামিলি কার্ড, কৃষকদের জন্য কৃষক কার্ড এবং চিকিৎসাসেবার জন্য চিকিৎসা কার্ড দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
 

ছয় পরিবারের হাতে ঘরের চাবি

অনুষ্ঠানে বন্যা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্তদের মধ্যে ত্রাণ বিতরণ করা হয়। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ১০ জনের হাতে নগদ অর্থ তুলে দেওয়া হয়। এছাড়া গৃহহীনদের জন্য নির্মিত ১০০টি ঘরের মধ্যে ছয়টি ঘরের সুবিধাভোগীর হাতে আনুষ্ঠানিকভাবে নতুন ঘরের চাবি তুলে দেন প্রধানমন্ত্রী।
 

অনুষ্ঠানকে ঘিরে বাঁশখালীর বিভিন্ন এলাকা থেকে বিপুলসংখ্যক মানুষ বাহারছড়া সমুদ্রসৈকত এলাকায় জড়ো হন।
 

অনুষ্ঠানে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাউদ্দিন আহমেদসহ চট্টগ্রাম ও পার্বত্য চট্টগ্রামের বিভিন্ন আসনের সংসদ সদস্য, বিএনপির স্থানীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬