সীমান্তের পাহারায় নতুন কাণ্ডারি লুৎফুন নাহার: চুয়াডাঙ্গার ডিসি নিয়োগ ঘিরে স্থানীয়দের প্রত্যাশা
চুয়াডাঙ্গা জেলার অভিভাবক হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন দক্ষ ও অভিজ্ঞ প্রশাসনিক কর্মকর্তা লুৎফুন নাহার। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের উপসচিব হিসেবে দীর্ঘদিন গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করা এই কর্মকর্তাকে চুয়াডাঙ্গার জেলা প্রশাসক নিয়োগের সিদ্ধান্তটি এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। বিশেষ করে চুয়াডাঙ্গা একটি সীমান্তবেষ্টিত জেলা হওয়ায় এখানকার আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং চোরাচালান দমনে তাঁর পূর্বতন অভিজ্ঞতা এক বিশাল শক্তি হিসেবে কাজ করবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কেন আলোচনায় লুৎফুন নাহার?
চুয়াডাঙ্গার স্থানীয় মহলে লুৎফুন নাহারের নিয়োগ নিয়ে আলোচনার প্রধান কারণ হলো তাঁর পেশাদার জীবন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে দায়িত্ব পালনের সময় তিনি দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সমন্বয় নিয়ে কাজ করেছেন।
সীমান্ত ব্যবস্থাপনা: চুয়াডাঙ্গার দর্শনা ও জীবননগর সীমান্ত দিয়ে অবৈধ অনুপ্রবেশ এবং চোরাচালান একটি দীর্ঘদিনের সমস্যা। লুৎফুন নাহারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অভিজ্ঞতা এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিজিবি ও পুলিশের সঙ্গে সমন্বয় করতে বিশেষ সহায়ক হবে।
মাদক নির্মূল: সীমান্তবর্তী জেলা হওয়ার সুবাদে মাদক পাচারের যে ঝুঁকি থাকে, তা দমনে একজন কঠোর ও অভিজ্ঞ ডিসির প্রয়োজন ছিল। স্থানীয়দের মতে, লুৎফুন নাহারের নিয়োগ সেই শূন্যতা পূরণ করবে।
নিয়োগের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর থেকেই চুয়াডাঙ্গার সুশীল সমাজ এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। চুয়াডাঙ্গা সরকারি কলেজের একজন শিক্ষক বলেন, ‘আমরা এমন একজন জেলা প্রশাসক চাই যিনি কেবল দাপ্তরিক কাজ করবেন না, বরং মাঠ পর্যায়ে মাদক ও অপরাধমুক্ত সমাজ গড়তে সাহসী ভূমিকা রাখবেন। লুৎফুন নাহারের প্রোফাইল আমাদের আশাবাদী করছে।’
অন্যদিকে, জেলার ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা- দর্শনা আন্তর্জাতিক রেলবন্দর এবং প্রস্তাবিত স্থলবন্দরের উন্নয়নমূলক কাজে নতুন ডিসি তাঁর প্রশাসনিক দক্ষতা কাজে লাগিয়ে গতি নিয়ে আসবেন।
প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ ও লুৎফুন নাহারের মিশন
চুয়াডাঙ্গায় দায়িত্ব গ্রহণের পর লুৎফুন নাহারের সামনে কয়েকটি প্রধান চ্যালেঞ্জ থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে:
চোরাচালান ও হুন্ডি রোধ: সীমান্ত এলাকা দিয়ে পণ্য ও অর্থ পাচার রোধে জিরো টলারেন্স নীতি বাস্তবায়ন।
ভূমি ব্যবস্থাপনা: জেলার ভূমি সেবাকে ডিজিটালাইজড করা এবং সাধারণ মানুষের হয়রানি কমানো।
উন্নয়ন প্রকল্প তদারকি: চুয়াডাঙ্গায় চলমান বিভিন্ন সরকারি অবকাঠামো নির্মাণ প্রকল্পের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা।
জননিরাপত্তা: আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতর ও অন্যান্য উৎসবে জেলার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা।
নারী নেতৃত্বে প্রশাসনের নতুন মুখ
মাঠ প্রশাসনে নারী কর্মকর্তাদের দক্ষতা ও সফলতার হার বর্তমানে অত্যন্ত আশাব্যঞ্জক। লুৎফুন নাহার সেই তালিকার এক উজ্জ্বল নাম। তাঁর দৃঢ়তা ও কাজের প্রতি নিষ্ঠা চুয়াডাঙ্গার সাধারণ মানুষের কাছে জেলা প্রশাসনকে আরও আস্থাশীল করে তুলবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের উপসচিব আমিনুল ইসলাম স্বাক্ষরিত আদেশে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে এই নিয়োগ অবিলম্বে কার্যকর হবে। লুৎফুন নাহারসহ মোট ১১ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন জেলার ডিসি হিসেবে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তবে চুয়াডাঙ্গার মতো কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ জেলায় লুৎফুন নাহারের নিয়োগটিই এখন আলোচনার কেন্দ্রে।
চুয়াডাঙ্গার নবাগত জেলা প্রশাসক লুৎফুন নাহার কেবল একজন আমলা নন, বরং সীমান্ত রক্ষার অভিজ্ঞ সেনানী হিসেবে এই জনপদের মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে ‘এমনটাই প্রত্যাশা সবার। তাঁর নেতৃত্বে চুয়াডাঙ্গা জেলা অপরাধমুক্ত ও সমৃদ্ধ এক জেলায় পরিণত হবে, এটাই এখন জেলাবাসীর মূল চাওয়া। আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই তিনি বর্তমান জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে দায়িত্বভার গ্রহণ করবেন বলে জানা গেছে।
সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির | প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬