|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২১ জুন ২০২৬ ১১:৪১ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২১ জুন ২০২৬ ০৮:১৬ অপরাহ্ণ

খুলনায় মাদ্রাসায় মারধরের ঘটনায় শিশুর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, শিক্ষক পলাতক


খুলনায় মাদ্রাসায় মারধরের ঘটনায় শিশুর মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ, শিক্ষক পলাতক


খুলনা ব্যুরো

 

খুলনা নগরীর খুলনা-এর সোনাডাঙ্গা থানা এলাকায় একটি মাদ্রাসায় বেত্রাঘাতে ৯ বছরের এক শিশুর মাথায় গুরুতর আঘাত ও মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ঘটনা ঘটেছে। ঘটনায় মাদ্রাসা শিক্ষককে অভিযুক্ত করা হয়েছে এবং ঘটনার পর থেকে তিনি পলাতক রয়েছেন।
 

গত ১৭ জুন রাতে সোনাডাঙ্গা থানা এলাকার ডাক্তারপাড়া মহল্লার নূরুল কুরআন তাহফিজ একাডেমি-এ এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। অভিযোগ অনুযায়ী, পড়া না পারার কারণে এক শিক্ষক শিশুটিকে বেত দিয়ে মারধর করেন। একপর্যায়ে শিশুটির মাথা দেয়ালে আঘাতপ্রাপ্ত হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।
 

পরে শিশুটির শরীরের বিভিন্ন অংশ—চোখের নিচে, মুখ ও গলায় রক্ত জমাট বেঁধে ফুলে যায়। তবে গুরুতর অবস্থার পরও পরিবারকে বিষয়টি জানানো হয়নি। প্রায় ২৪ ঘণ্টা পর অন্য সূত্রে খবর পেয়ে শিশুটির বাবা তাকে উদ্ধার করেন। পরবর্তীতে চিকিৎসা নিতে বিলম্ব হওয়ায় প্রায় ৪৮ ঘণ্টা পর তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়।
 

চিকিৎসকদের পরীক্ষায় জানা যায়, মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে এবং একটি গুরুত্বপূর্ণ রক্তনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রাথমিক চিকিৎসায় উন্নতি না হলে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হতে পারে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
 

ভুক্তভোগী শিশুটির নাম ইসমাইল শিকদার (৯)। তার বাবা ওমর ফারুক শিকদার স্থানীয় মুদী ব্যবসায়ী। একমাত্র সন্তান ইসমাইলকে গত বছর হেফজ শিক্ষার জন্য ওই মাদ্রাসায় ভর্তি করা হয়েছিল।
 

স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রতিষ্ঠানটি কোনো সরকারি নিবন্ধন ছাড়াই ব্যক্তিগত উদ্যোগে পরিচালিত হচ্ছে। সেখানে প্রায় ২০ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়নরত ছিল।
 

মাদ্রাসার খণ্ডকালীন শিক্ষক হাফেজ মাসুদ জানান, ঘটনার সময় তিনি উপস্থিত ছিলেন না। পরে তিনি জানতে পারেন, শাসনের সময় অতিরিক্ত মারধর ও মাথায় আঘাতের কারণে এ পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। ঘটনার পর থেকে প্রধান শিক্ষক আবদুর রহমান পলাতক রয়েছেন।
 

শিশুটির পরিবার জানিয়েছে, চিকিৎসা শেষে শিশুটি এখন ঘুমালেও ঘুমের মধ্যে কেঁপে কেঁপে উঠছে। পরিবারের সদস্যরা তার শারীরিক ও মানসিক অবস্থাকে নিয়ে উদ্বিগ্ন।
 

এ বিষয়ে সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রফিকুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার পর আমরা মাদ্রাসায় গিয়েছিলাম। পরিবারকে মামলা করতে বলা হয়েছে, তবে তারা এখনো এজাহার দিতে রাজি হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬