|
প্রিন্টের সময়কালঃ ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৮:৫৩ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ২৮ মার্চ ২০২৬ ০৩:৩৬ অপরাহ্ণ

৩৬৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা: ‘মানুষের কর্মকর্তা’ ইউএনও আবদুর রহমানের বিদায়


৩৬৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা: ‘মানুষের কর্মকর্তা’ ইউএনও আবদুর রহমানের বিদায়


রায়হান চৌধুরী, মুরাদনগর (কুমিল্লা):


কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা থেকে বিদায় নিয়েছেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. আবদুর রহমান। দায়িত্ব পালনকালে কঠোর প্রশাসনিক পদক্ষেপের পাশাপাশি মানবিক কর্মকাণ্ডের জন্য তিনি স্থানীয়দের কাছে ‘মানুষের কর্মকর্তা’ হিসেবে পরিচিতি পান।

 

প্রায় এক বছর চার মাস দায়িত্বকালে তিনি ৩৬৭টি মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করে প্রায় ১৯ লাখ ৫০ হাজার টাকা জরিমানা আদায় করেন। তবে তার কর্মকাণ্ড শুধু সংখ্যার মধ্যেই সীমাবদ্ধ ছিল না; মাঠপর্যায়ে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নানা উদ্যোগ তাকে আলাদা মর্যাদা দিয়েছে।

 

স্থানীয় সূত্র জানায়, শীতের রাতে রাস্তায় অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকা এক ব্যক্তিকে হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া এবং হারিয়ে যাওয়া এক বৃদ্ধাকে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার মতো মানবিক উদ্যোগ তিনি নিজে তদারকি করেন। এছাড়া শীতার্তদের মাঝে কম্বল বিতরণসহ বিভিন্ন সামাজিক কার্যক্রমেও সক্রিয় ছিলেন তিনি।

 

দুর্যোগ মোকাবিলায়ও তার সরাসরি অংশগ্রহণ ছিল উল্লেখযোগ্য। বর্ষার এক রাতে গোমতী নদীর বাঁধ রক্ষায় নিজে উপস্থিত থেকে বালুর বস্তা ফেলার কাজে অংশ নেন, যা স্থানীয়ভাবে প্রশংসিত হয়।

 

আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা ও নিয়ম বাস্তবায়নে অবৈধ ড্রেজিং বন্ধ, পরিবেশ ও কৃষিজমি রক্ষায় অভিযান এবং স্থানীয় বিরোধ নিষ্পত্তিতে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপের মাধ্যমে কার্যকর ভূমিকা রাখেন তিনি।

 

শিক্ষা খাতেও তার সম্পৃক্ততা ছিল লক্ষণীয়। বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিদর্শন, মানোন্নয়ন কার্যক্রম, একটি লাইব্রেরি প্রতিষ্ঠা এবং শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার খোঁজ নিতে বাড়িতে যাওয়ার মতো উদ্যোগ তাকে ভিন্নভাবে তুলে ধরে। তবে এসব উদ্যোগের দীর্ঘমেয়াদি স্থায়িত্ব নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে।

 

দুর্গাপূজাসহ বিভিন্ন ধর্মীয় ও জাতীয় অনুষ্ঠানে তার সক্রিয় উপস্থিতি সামাজিক সম্প্রীতি জোরদারে সহায়ক হয়েছে এবং প্রশাসন ও সাধারণ মানুষের মধ্যে দূরত্ব কমিয়েছে।

 

বিদায়ের আগে তিনি বলেন, “দাপ্তরিক ও আইনি সীমাবদ্ধতার কারণে সব ক্ষেত্রে প্রত্যাশা অনুযায়ী সহায়তা করা সম্ভব হয়নি।” তার এই মন্তব্য প্রশাসনিক বাস্তবতার দিকটি তুলে ধরে।

 

তার বিদায়ে মুরাদনগরে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে প্রশ্ন উঠেছে, পরবর্তী কর্মকর্তা এই মানবিক ও কার্যকর প্রশাসনিক ধারা বজায় রাখতে পারবেন কি না।

 

বিদায়বার্তায় তিনি সবার কাছে নিজের ভবিষ্যৎ কর্মজীবন ও পারিবারিক জীবনের জন্য দোয়া কামনা করেন। তার এই বিদায়ের মধ্য দিয়ে মুরাদনগরের প্রশাসনে একটি ব্যতিক্রমধর্মী অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটল।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০৬, লেভেল #০৯, ইস্টার্ন আরজু , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ৬১, বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬