|
প্রিন্টের সময়কালঃ ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৯:৫২ অপরাহ্ণ     |     প্রকাশকালঃ ০৬ অক্টোবর ২০২৬ ০৮:০৩ অপরাহ্ণ

আদালত ভবনে দুই নারীর মারামারি, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করলেন বিচারক


আদালত ভবনে দুই নারীর মারামারি, স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করলেন বিচারক


পটুয়াখালী প্রতিনিধি

 

পটুয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের বারান্দায় দুই নারীর মারামারি ও কয়েকজনের ধস্তাধস্তির ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার ঘটনায় স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলা করেছেন আদালত। ঘটনার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 

সোমবার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট ও সদর থানার আমলী আদালতের বিচারক মো. সোহেল রানা বাদী হয়ে মামলাটি করেন। মামলাটি ক্রিমিনাল মিস কেস নম্বর ০১/২০২৬ হিসেবে নথিভুক্ত হয়েছে।
 

ফৌজদারি কার্যবিধির ১৯০(১)(গ) ধারায় বিষয়টি আমলে নিয়ে আদালত পটুয়াখালী সদর থানার ওসিকে তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী ২৫ অক্টোবর মামলার পরবর্তী তারিখ ধার্য করা হয়েছে। আদেশ পাওয়ার ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করতে বলা হয়েছে।
 

আদালতের আদেশে বলা হয়, একটি ইউটিউব চ্যানেলে ‘পটুয়াখালীতে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনে দুই পক্ষের মারামারি’ শিরোনামে একটি ভিডিও প্রচার করা হয়। ভিডিওতে আদালত ভবনের বারান্দায় দুই নারীর মারামারি এবং কয়েকজনের মধ্যে ধস্তাধস্তির দৃশ্য দেখা যায়। সেখানে একটি শিশুকেও উপস্থিত থাকতে দেখা গেছে।
 

আদালত পর্যবেক্ষণে বলেন, বিচারপ্রার্থী, আইনজীবী ও আদালত-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের নিরাপদ চলাচলের স্থান হলো আদালত ভবন ও এর চত্বর। সেখানে প্রকাশ্যে মারামারি আইনশৃঙ্খলার পরিপন্থী। এ ধরনের ঘটনায় বিচার বিভাগের ভাবমূর্তি ও আদালতের মর্যাদা ক্ষুণ্ন হওয়ার পাশাপাশি বিচারপ্রার্থীদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতার সৃষ্টি হতে পারে। ঘটনাস্থলে শিশুর উপস্থিতিও উদ্বেগের বিষয় বলে উল্লেখ করা হয়।
 

তবে শুধু ভিডিও দেখে মারামারিতে জড়িত ব্যক্তিদের পরিচয়, ‘দুই পক্ষ’ বলতে কারা বোঝানো হয়েছে, তাঁরা কোনো বিচারাধীন মামলার পক্ষ কি না, ঘটনার সূত্রপাত কীভাবে এবং কেউ আহত হয়েছেন কি না—এসব বিষয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে আদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
 

আদালত প্রাথমিকভাবে উল্লেখ করেছেন, ঘটনাটি দণ্ডবিধির ১৫৯ ও ১৬০ ধারায় বর্ণিত মারামারি বা পরিস্থিতি অনুযায়ী ৩২৩, ৩২৪ ও ৫০৬ ধারাসহ অন্যান্য অপরাধের আওতায় পড়তে পারে। তবে যথাযথ তদন্ত ছাড়া এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছানো সম্ভব নয় বলেও আদেশে বলা হয়েছে।
 

তদন্তে ঘটনার তারিখ, সময়, সূত্রপাত ও প্রকৃত ঘটনাক্রম নির্ধারণ, জড়িত ব্যক্তিদের নাম-ঠিকানা শনাক্ত এবং তাঁরা কোনো বিচারাধীন মামলার পক্ষ কি না, তা যাচাই করতে বলা হয়েছে। কেউ আহত হয়ে থাকলে তাঁর চিকিৎসাসংক্রান্ত সনদ সংগ্রহেরও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 

এ ছাড়া আদালত প্রাঙ্গণ ও আশপাশের সিসিটিভি ক্যামেরার ফুটেজ এবং সংশ্লিষ্ট ভিডিও জব্দ ও সংরক্ষণ, প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য গ্রহণের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ঘটনাস্থলে থাকা শিশুটির পরিচয় এবং সে কোনোভাবে ক্ষতিগ্রস্ত বা ঝুঁকির মধ্যে পড়েছিল কি না, তাও তদন্ত করে দেখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নারীদের সম্পৃক্ততার বিষয়টি বিবেচনায় প্রয়োজনে নারী পুলিশ সদস্যের সহায়তা নিতে বলা হয়েছে।
 

আদালত চত্বরে নিরাপত্তা জোরদারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে আদেশের অনুলিপি পটুয়াখালীর পুলিশ সুপার, সদর থানার ওসি ও কোর্ট ইন্সপেক্টরের কাছে পাঠানোর নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
 

পটুয়াখালী জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) অ্যাডভোকেট মো. মজিবুর রহমান টোটন বলেন, গত ৪ অক্টোবর চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে লিগ্যাল এইডের একটি মামলা নিষ্পত্তিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটে। এ সময় দুই পক্ষের কয়েকজন নারীসহ অন্যরা মারামারিতে জড়িয়ে পড়েন। পরে ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
 

তিনি বলেন, বিচারাঙ্গনে এ ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই কাম্য নয়। এ কারণে আমলী আদালতের বিচারক স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে মামলাটি করেছেন।


সম্পাদকঃ সারোয়ার কবির (সম্পাদক)     |     প্রকাশকঃ আমান উল্লাহ সরকার (প্রকাশক)
যোগাযোগঃ স্যুইট # ০২, লেভেল #০২, মাহতাব সেন্টার , শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম সরণি, ১৭৭ , বিজয়নগর, ঢাকা ১০০০, বাংলাদেশ।
মোবাইলঃ   +৮৮০ ১৭১১৩১৪১৫৬, টেলিফোনঃ   +৮৮০ ২২২৬৬৬৫৫৩৩
সর্বস্বত্ব সংরক্ষিত © ২০২৬